Mountain View

পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে হচ্ছে বিনোদনকেন্দ্র-শপিংমল-জাদুঘর

প্রকাশিতঃ জুলাই ৩০, ২০১৬ at ১২:১২ অপরাহ্ণ

Shapping-mall20160729210817

প্রায় ২৫০ বছর  আগে অর্থাৎ ১৭৮৮ সালে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। এতো বছরের কর্মযজ্ঞের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে পেছনে ফেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে গেলো এই বন্দিশালা।

এখন থেকে রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জেই হবে সব কার্যক্রম। তবে আগের কারাগার স্থানকে সাজানো হবে নতুন মাত্রায়। নির্মিত হবে অত্যাধুনিক স্থাপনা, নিশ্চিত হবে প্রাকৃতিক পরিবেশও।

জানা যায়, পুরাতন কারাগারের (নাজিমউদ্দিন রোড) জমিতে দ্রুতই শুরু হবে বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের কাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে থাকছে শপিংমলও। সেই সঙ্গে হবে সবুজ-আধুনিক পার্ক, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ব্যায়ামাগার ও কনভেনশন সেন্টার এবং ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণে জাদুঘর।

বিশাল এই আয়তনের এলাকায় আরও হবে পর্যাপ্ত হাঁটার জায়গা। সেজন্যে ভাঙাভাঙির কাজও শুরু করা হবে বলে কারাগার সূত্র জানিয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, নতুন কারাগারেই এখন থেকে সব কাজ হবে। তবে এই আগের স্থানকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে; সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত হবে শপিংমল থেকে শুরু করে আধুনিক স্থাপনা।

এদিকে, কোর্টে হাজিরা দেওয়ার জন্য কেরানীগঞ্জ থেকে দূরত্ব বেশি হওয়াতে আগামীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হবে কাজ-কর্ম। এতে সময় যেমন বাঁচবে তেমনি খুব সহজেই না গিয়ে আদালতের কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে। এজন্যে ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রকল্প। যা পাস হয়ে এলেই আসামিরা কারাগারে বসে বক্তব্য তুলে ধরবেন ভিডিওতে।

ইতোমধ্যে, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারা স্মৃতি জাদুঘর’ এবং ‘জাতীয় চার নেতা কারা স্মৃতি জাদুঘর’-কে জাতীয় জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য পাওয়া গেছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ কারাজীবনে যেসব সেলে আটক ছিলেন, সেসব সেলকে বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর গোসলখানা ও রান্নাঘরের অংশও জাদুঘরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত খাবার প্লেট, বিছানাপত্র, চেয়ার-টেবিলসহ নানা জিনিসপত্র রাখা আছে। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ছাড়াও ব্যবহৃত টেবিল, চেয়ার, হাঁড়ি-পাতিল রয়েছে। এছাড়াও সামনের বকুল চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে ছয় দফার স্মারকস্তম্ভ। বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লাগানো কামিনী ও ছফেদা গাছও রয়েছে সেখানে।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের যে সেলে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়, সেখানে তৈরি করা হয় জাদুঘর। এ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতার কারাগার জীবনে ব্যবহৃত প্রায় সব কিছুই সংরক্ষণ করা হয়। জাতীয় চার নেতার জেলজীবন ও হত্যার সময়ের স্মৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব দর্শনীয় স্থান পর্যটক বরণের অপেক্ষায়।

কারা সূত্রে জানা যায়, নির্মাণ যজ্ঞের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এছাড়া প্রকৌশলীরা নকশা জমা দিতে পারেন এমন সুযোগ থাকছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থ ও অন্যান্য বিষয়ে ছাড়পত্র এলেই কাজ শুরু হবে। তবে এতে জটিলতা সৃষ্টি হয় কিনা সেটি নিয়েও কারা কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View