Mountain View

প্রমাণ করেছি জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় আমরা সক্ষম : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১, ২০১৬ at ৯:১০ অপরাহ্ণ

pro


জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আমরা যে সক্ষম তা প্রমাণ করেছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের সড়কে কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। শোকের মাস আগস্ট উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোতে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ঘটছে। তাদের চেয়ে ত্বরিত সিদ্ধান্তে আমরা এসব জঙ্গি-সন্ত্রাস মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে দেশের মানুষের আরও সহযোগিতা চাই। দেশের মানুষের আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আশপাশে কখন কী ঘটছে, সেসব তথ্য জানানো উচিত।

দেশের চলমান জঙ্গি-সন্ত্রাসের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাস এদেরই সৃষ্টি। যখনই কেউ ধরা পড়ে, একটু খোঁজখবর নিতেই দেখা যায়, তাদের সবার গোড়া এক। দেখা যায়, তারা রাজাকার ও আলবদরদের দোসর, সঙ্গী।

তিনি বলেন, ২১ বছর দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলেছে। এখনও চলছে। তবে এ দেশের মানুষ সব ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়নি; যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষকে উন্নত জীবনদান করা। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি; এগিয়ে চলছি, এগিয়ে যাব। মানুষের দুঃখ থাকবে না, দারিদ্র্য থাকবে না।

১৫ আগস্ট কালোরাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেন, ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যাই করেই ক্ষান্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের চরিত্র হননের ঘৃণ্য চেষ্টা করেছিল জিয়াউর রহমান ও তার দল বিএনপি। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলে চেয়েছিল। ২১ বছর আমাদের প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারেনি। ‘৯৬-তে আমরা ক্ষমতায় এসে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরি।

শেখ হাসিনা বলেন, মা-বাবা, ভাই-বোন হারিয়েছি, কিন্তু লাখ-কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। একটি প্রতিজ্ঞা নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে এসেছি। যে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বঙ্গবন্ধু সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, জীবন দিয়েছেন, সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবই। এজন্য প্রয়োজনে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে আমি প্রস্তুত।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ দেশে নতুন উৎপাত। এই উৎপাতের মূলে ওই স্বাধীনতাবিরোধী ও রাজাকারের দোসররাই। কেননা নানা সময়ে আটক জঙ্গিদের স্বীকারোক্তি ও গোয়েন্দাদের তদন্তে এমন অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ত্বরিত সিদ্ধান্তের ফলেই জঙ্গিরা এদেশে সুবিধা করতে পারছে না। সব ধরনের সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদকে মোকাবেলায় দেশবাসীকে আরো সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় মতো দ্রুত যেকোনো তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে আরো সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধী, পরাজিত শক্তির দোষর তাদের বিচার শুরু হয়েছে এবং তাদের রায়ও কার্যকর করে যাচ্ছি, বাংলাদেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে। বাংলার শোষিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে সংগ্রাম করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা এনেছিলেন। বিজয় মেনে নিতে পারেনি তারা, এতে সমর্থন দিয়েছিলো তাদেরই কিছু দোসর। তারাই বাংলার মানুষের কাছ থেকে তাকে কেড়ে নিয়েছিলো।

সংগঠনের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে রক্তদান কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View