ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ঈদের আগেই সাভারে যাচ্ছে ৪০ ট্যানারি

tn


রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে মালিকদের। এ সিদ্ধান্তে সরকার রয়েছে কঠোর মনোভাবে। আবার সামনে কোরবানির ঈদ। এ ঈদেই হাজারীবাগের ট্যানারি মালিকরা লাভের মুখ দেখেন। এ ধরনের চাপের মুখে কোরবানির ঈদের আগে সর্বোচ্চ ৪০টি ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
জানা গেছে, হাজারীবাগে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ট্যানারিতে সারা বছর উৎপাদন কাজ চলে। অন্যগুলোয় শুধু কোরবানির সময় কাজ চলে। তাই সব মালিকের পক্ষে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়া অসম্ভব। আবার এ মুহূর্তে স্থানান্তর করাও সম্ভব হবে না বলে জানান ট্যানারি মালিকরা। ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, হাজারীবাগের অনেক ট্যানারিতে সারা বছর উৎপাদন থাকে না। শুধু কোরবানির সময় উৎপাদনে যায় তারা। যাদের কোনো উৎপাদন নেই, তারা কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবে। এ ধরনের চাপে চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়বে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশমতো দৈনিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেবে সরকার। এর আগে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য সরকার ২৮ বার নোটিশ ও কয়েকবার আলটিমেটাম দেয়। ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে দৈনিক ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করতে শিল্প সচিবের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। প্রতি পাঁচ দিন পর পর কোন কোন ট্যানারি মালিক আদালতের নির্দেশমতো অর্থ জমা দিচ্ছেন আর কারা নির্দেশ অমান্য করছেন, তার তালিকা করে বিসিক থেকে শিল্প সচিবের কাছে পাঠানো হবে। ওই তালিকা এবং ট্যানারি স্থানান্তরের অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠানো হবে শিল্প মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সাভারে ১৫৫টি ট্যানারি মালিকদের বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে একটি কারখানাকে হাইকোর্ট দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন। বাকি ১৫৪টির মধ্যে মাত্র ৯টির কাজে অগ্রগতি হলেও ১৪৫টি ট্যানারির নির্মাণকাজ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ট্যানারি মালিকরা জানান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি এখনও। সিইটিপির চারটি মডিউলের মধ্যে দুইটির কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি দুইটির মধ্যে একটির ৩০ এবং অন্যটির ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ দুইটি মডিউলের কাজ শেষ হতে এখনও ৬ মাস লাগবে বলে জানান কর্মকর্তারা। সিইটিপি চালু করতে দরকার হবে ২৫ হাজার গ্যালন বর্জ্য। আর সিইটিপি আংশিক চালু করতে দরকার পড়বে সাড়ে ১২ হাজার গ্যালন ট্যানারি বর্জ্য। এ বর্জ্য সরবরাহের জন্য বড় আকারের ৪৮টি ট্যানারি কারখানার দরকার পড়বে। কিন্তু কোরবানির ঈদের আগে কোনোভাবেই বড় বড় ৪৮টি ট্যানারি কারখানা ট্যানারি-পল্লীতে চালু করা যাবে না।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মোঃ আবদুল কাইয়ুম বলেন, কোরবানির ঈদের আগে যাতে আংশিক কারখানা চালু করা যায়, তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য সিইটিপির দুইটি মডিউলের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এ দুইটি মডিউলের বাকি কাজ ঈদের আগেই শেষ হবে। কিন্তু সিইটিপি প্রস্তুত করলেই হবে না, এটি চালু করার জন্য দরকার পড়বে ট্যানারি বর্জ্য। এখন পর্যন্ত ৮ থেকে ৯টি কারখানা ঈদের আগে চালু করার মতো অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এ অল্প কয়েকটি ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে সিইটিপি চালু করা যাবে না। ঈদের আগে যাতে ৪৮টি কারখানা চালু করা যায়, সেজন্য আমরা ট্যানারি মালিকদের তাগাদা দিচ্ছি।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

সুলতান সুলেমান দেখব না কেন?

২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রচারে এসেছে দীপ্ত টিভি। শুরুর দিন থেকেই প্রচার করছে তুরস্কে নির্মিত টেলিভিশন …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *