ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নিহত এসি রবিউলের ফুটফুটে কন্যা এলো পৃথিবীতে

CYMERA_20160801_095825

উম্মে সালমার চোখেমুখে বেদনা। অথচ এই দিনে আনন্দে থাকার কথা ছিলো তার। মা হয়েছেন উম্মে সালমা। কাকতালীয় হলেও ঠিক এক মাস আগেই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় বিভীষিকাময় সন্ত্রাসী হামলায় স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি।

 গতকাল (রোববা)র ৩১ জুলাই দিনগত রাত সোয়া ১২টায় সালমার কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে কন্যা সন্তান।

আজ (সোমবার) ০১ আগস্ট সকালে অস্ত্রোপচারের কথা থাকলেও কিছুটা জটিলতা দেখা দেওয়ায় দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ।

প্রসূতিবিদ ডা. কামরুন্নেচ্ছার অধীনে একদল চিকিৎসক সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন রবিউলের অনাগত সন্তানকে।

মা মেয়ে দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে মাকে পোস্ট অপারেটিভ বেডে আর কন্যাকে রাখা হয়েছে শিশু নিবিড় পরিচর্যা (এনআইসিইউ) বিভাগে।

সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০১ নম্বর বেডে ভর্তি উম্মে সালমা। ক্ষণে ক্ষণেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে স্বামী রবিউল করিমের স্মৃতি।

গত মাসের এইদিনেই অন্যদের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে গেছেন স্বামী পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রবিউল ইসলাম।

প্রথম সন্তান সাজিদুল করিম (০৭)। এখনো অপেক্ষা করে বাবার জন্য। কিন্তু সাজিদুলের বাবা ফেরে না। শেষ হয়না অপেক্ষার পালা।

গত ১ জুলাই রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন। এছাড়া ১৭ বিদেশিসহ প্রাণ হারান আরো ২০ জন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর মাদক টিমে কর্মরত ছিলেন তিনি। বিসিএস পুলিশের ৩০তম ব্যাচের সদস্য রবিউল রেখে গিয়েছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও সাত বছরের ছেলেকে।

গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের কাটিবাড়িতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি স্কুল খুলেছিলেন রবিউল। নিজ বেতনের টাকা দিয়েই চালাতেন সেই স্কুল। চাকরি পাওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় ব্লুমস নামের প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুল ছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নজরুল বিদ্যাসিঁড়ি নামের আরেকটি স্কুল।

হাসপাতালের বেডে উম্মে সালমা জানান, দেশের জন্য আমার স্বামী আত্মত্যাগ করেছেন। আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। কারণ আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। আমার সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে। আমার শাশুড়ি তার ছেলেকে হারিয়েছে। এই অভাবগুলো পূরণ হওয়ার নয়।

আমর যে সন্তান আজ পৃথিবীতে এসেছে তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। সে যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির জন্য সেবা করতে পারে।

নিহত রবিউলের ছোটভাই শামসুজ্জামান সামস ও তার পরিবার সবসময়ই ভাবীর পাশে। হাসপাতালে দেখভালের সব দায়িত্ব তার। নিজেই ভাবীকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। ভর্তি করিয়েছেন ৫০১ নম্বর বেডে।

শামসুজ্জামান সামস বলেন, চাচা হয়েছি। আনন্দ অন্যরকম। আবার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটি কোনোদিন বাবার মুখ দেখতে পারবে না। সেটা মনে করে বেদনায় চাপা পড়ে যাচ্ছে সেই আনন্দ।

রবিউলের স্ত্রীর পাশে যেমন তার সহকর্মীরা। তেমনি রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড় ভাইরা।

তাদের একজন মানিকগঞ্জের সন্তান সাংবাদিক নূর সিদ্দিকী। তিনিও সার্বক্ষণিক হাসপাতালে রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমার শারিরীক অবস্থার খোঁজ রাখছিলেন।

নূর সিদ্দিকী জানান, রবিউল করিমের সাহসী আত্মত্যাগকে আমরা কখনোই ভুলবো না। তাকে নিয়ে স্মরণিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি।

অকুতোভয় এই পুলিশ কর্মকর্তার পাশে রয়েছে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এনামুর রহমান এমপি জানান, আমরা গর্বিত এই পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগে। তার বীরত্বে আমাদের শ্রদ্ধা।

তিনি জানান, রবিউল করিমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার স্ত্রী ও সন্তানের সব চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

1

পরিচয় মিলল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নিহত হওয়া তিন যুবকের

মোঃ আরিফ জাওয়াদ, দিনাজপুর:- দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার হরিপাড়া কানাগাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশের একটি ধানক্ষেত পড়ে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *