ঢাকা : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, শুক্রবার, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

গার্মেন্টস শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ

gi


গার্মেন্টস শিল্প অধ্যুষিত এলাকায় যাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা বা নাশকতা না হতে পারে সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কারখানায় আসা শ্রমিকদের মালপত্র বা খাবার যথাযথ পরীক্ষা করে প্রবেশ করতে দেয়া এবং এ জন্য মেটাল ডিটেক্টরসহ আর্চওয়ে ব্যবহার করতে কারখানা মালিকদের নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে শ্রম মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে সব কারখানায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনেরও নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। গত রবিবার শ্রম মন্ত্রণালয়ে মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে আয়োজিত এ সংক্রান্ত এক রূদ্ধদ্বার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিগগিরই কারখানাগুলোতে মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠাবে। এছাড়া গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্পাঞ্চলে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী সভাও করা হবে। সভায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সচেতন করা হবে। বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুসহ মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, গুলশানে জঙ্গি হামলায় ৯ জন বিদেশি ক্রেতা (বায়ার) নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার ইস্যুও উঠে আসে। এ পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস কারখানায় নতুন করে যাতে কোনো ধরনের আন্দোলন না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহমেদ। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে যাতে গার্মেন্টস এলাকায় কোনো ধরনের আন্দোলন না হয় এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সজাগ থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেননা এ আন্দোলনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ঢুকতে পারে। তারা সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে জঙ্গিবাদ ঠেকাতে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে শিগগিরই সভা শুরু করব। চলতি আগস্ট মাসে শিল্পাঞ্চলগুলোতে আলাদা আলাদা এসব সভা করা হবে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে তারিখও ঠিক করা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, গুলশান হামলায় বেশ কয়েকজন বিদেশি বায়ারকে হত্যা করা হয়েছে। এ খাতের ইমেজ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নাশকতার চেষ্টা করা হতে পারে। জঙ্গিবাদ যাতে তৈরি পোশাক শিল্পের কোনো ধরনের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য সবগুলো কারখানায় আলাদা আলাদাভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুস সালাম ইত্তেফাককে বলেন, গার্মেন্টস কারখানায় নিরাপত্তা (মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে স্থাপন) বাড়ানোর জন্য ঈদের আগেই আমরা বিজিএমইএকে অনুরোধ করেছি। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে মালিকদের বলা হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, কারখানায় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। তবে এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে। এছাড়া বিদেশি ক্রেতাদের নিরাপত্তা দেয়ার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যুক্ত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে তিনটি করে ফোর্স দেয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে তাদের কর্মস্থল কিংবা বাসায় পৌঁছে দেয়া এবং কাজ শেষে ফের বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়ার কাজ করবে নিরাপত্তা কর্মীরা। প্রতিদিন যদি এ রকম একশ’ ফোর্সও দিতে হয়, সে জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

গাংনীতে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্বশুর পরিবারের চার জন আহত ॥ জামাই গ্রেফতার

মেহের আলী বাচ্চু মেহেরপুর : মেহেরপুর গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে শালা-শালিসহ শ্বশুর পরিবারের …