ঢাকা : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭, সোমবার, ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

পর্নোগ্রাফি দেখার কারনে ক্ষয়ক্ষতি

hqdefault

পর্নোগ্রাফি দেখার কুফল অনেক। নিয়মিত পর্নো ছবি দেখার মাধ্যমে নিজের অজান্তেই নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন অসংখ্য পুরুষ।প্রথমত পর্নো আসক্ত পুরুষদের সাধারণত রুচিশীল নারীরা হীনম্মন্য ও চরিত্রহীন মনে করে। নারীরা যখন জানতে পারে তার পরিচিত কোনো পুরুষ নিয়মিত পর্নো ছবি দেখে, তখন তার সম্পর্কে খারাপ মনোভাব জন্ম নেয়। এবং তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

 

দ্বিতীয়ত, রুচিবোধের অধঃপতন হয়। যারা নিয়মিত পর্নো সিনেমা দেখেন তাদের রুচি বিকৃত হয়ে যায়। জীবনের স্বাভাবিক সম্পর্কগুলোতেও নিজের অজান্তে বিকৃতি খোঁজে তাদের চোখ।

 

তৃতীয়ত নিয়মিত পর্নো ছবি দেখতে দেখতে পুরুষরা বাস্তবতাকেই হারিয়ে ফেলেন। বাস্তব জীবনেও তারা তেমন সঙ্গীই আশা করে। সাধারণ নারীদের তখন আর তাদের যথেষ্ট মনে হয় না। ফলে জীবনের সুখ শান্তি হারিয়ে যায় তাদের।পর্নো নায়িকাদের সৌন্দর্য কৃত্রিম আচরণও কৃত্রিম। মেকআপ, লাইট ও ক্যামেরার কারসাজিতে তাদের মোহনীয়ভাবে দেখানো হয় যা বাস্তব জীবনে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। তাই পর্নো আসক্তরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিঃসঙ্গ থেকে যায় অথবা সংসারে অসুখী হয়।

 

চতুর্থত নিয়মিত পর্নো ছবি যারা দেখেন তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বিকৃত অভ্যাস যার অতিরিক্ত প্রয়োগে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে এবং যৌন জীবনে নানান সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।পঞ্চমত এটি এক ভয়াল নেশা। পর্নো সিনেমার নেশা মাদকের নেশার মতোই ভয়ংকর। মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যেমন কষ্টসাধ্য পর্নো আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়াও দুরূহ ব্যাপার। পর্নো আসক্তির কারণে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়, পড়াশোনায় ক্ষতি হয় এমনকি নিজের মধ্যেও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয়।

 

ষষ্ঠতঃ পর্নো আসক্তদের মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে, পেনড্রাইভে সবখানেই পর্নো ছবি থাকে। অনেক সময় এসব অনৈতিক বিষয় পরিবারের কাছে ধরা পড়ে যায়। ফলে পর্নো-আসক্ত ব্যক্তিকে হেয় হতে হয়। এ ছাড়া হারাতে হয় ভালো বন্ধু-সার্কেলকেও।

 

পর্নোগ্রাফি নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই যৌন উৎকল্পনার খোরাক যোগায়। তবে এক্স রেটেড ইমেজ এবং ফিল্ম উৎকাল্পনিক ইন্দ্রিয় সুখ দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যেরও অনেক ক্ষতি করে ফেলে।মানসিক অবস্থার উপর বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম ও হরমোন নিঃসরণের পাশাপাশি আসক্তিমূলক প্রবণতাও সৃষ্টি করতে পারে পর্নোগ্রাফি। ফলে আমাদের মস্তিষ্কে পর্নোগ্রাফির মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবও পড়তে পারে। আপনি যত বেশি পর্নগ্রাফি দেখবেন ততই আপনার মন দেখতে চাইবে। স্বাভাবিক যৌন সহবাস এবং পর্ন মুভি দেখা উভয়ের মাধ্যমেই মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের হরমোন নিঃসরিত হয়। এই হরমোনের প্রভাবেই আমাদের মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভুতি বা ইন্দ্রিয় সুখানুভুতির সৃষ্টি হয়।কিন্তু নিয়মিত পর্ন দেখার ফলে স্বল্পবিরতিতে বারবার ডোপামিন নিঃসরণের ফলে মস্তিষ্ক এই হরমোনটির কার্যকারীতার প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলতে পারে। জেএমএ সাইকিয়াট্রি নামের জার্নালে ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয় নিয়িমিত পর্ণ মুভি দেখলে একটা সময়ে এসে যৌনতার প্রতি মস্তিষ্কের উদ্দীপনায় ঘাটতি নেমে আসতে পারে।তার মানে আগের মতো স্বাভাবিক মাত্রার যৌন উদ্দীপনা ধরে রাখতে হলে আরো বেশি হারে ডোপামিন নিঃসরণের দরকার পড়বে। তার জন্য আবার আরো বেশি বেশি পর্ন মুভি দেখার প্রয়োজন পড়বে। গবেষণায় এমনটাই প্রমাণ পেয়েছেন জার্মান বিশেষজ্ঞরা। সাইকোলজি টুডেতে প্রকাশিত ২০১১ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে এভাবে অতিরিক্ত ডোপামিনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ার মানে হল যারা পর্ন মুভি দেখেন তাদের যৌন উত্তেজনা বা উদ্দীপনা সৃষ্টি হওয়ার জন্য উত্তোরত্তর চরম অভিজ্ঞতামূলক পরিস্থিতির প্রয়োজন পড়বে।পর্ন মুভিতে অমন অস্বাভাবিক যৌনাচরণ দেখার ফলে পুরুষরা ক্রমান্বয়ে যৌন সংবেদনশীলতা হারাতে থাকে এবং স্বাভাবিকভাবে যৌন উত্তেজনার সক্ষমতাও হারাতে থাকে।পর্নোগ্রাফি এমন একটি তরুণ প্রজন্ম সৃষ্টি করে যারা বেডরুমে হতাশায় ভোগে। পর্ন মস্তিষ্ককে সংকুচিত করে যারা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখেন সম্ভবত তাদের মস্তিষ্ক সংকুচিত হয়ে আসতে থাকে। ওই জার্মান গবেষকরা এমনটাই আবিষ্কার করেছেন।মস্তিষ্কের যে অংশটুকুতে যৌন উদ্দীপনা ও ইন্দ্রিয় সুখানুভুতি সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত পর্ন মুভি দেখার ফলে সে অংশটুকেু ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসতে থাকে।ওই গবেষণায়ই সর্বপ্রথম গবেষকরা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখার সঙ্গে শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তবে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যারা বেশি বেশি পর্ন মুভি দেখেন তারা হয়তো একটি বিশেষ ধরনের মস্তিষ্ক নিয়েই জন্মগ্রহণ করেন। পর্ন আসক্তদের মন ড্রাগ আসক্তদের মতোই হয়ে পড়ে ।

২০১৩ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে পর্ন আসক্তরা যখনই পর্ন মুভি দেখতে বসে তাদের মস্তিষ্কে স্ক্যান মেশিনের মতো আলো জ্বলে ওঠে।যেসব তরুণ অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা উত্তেজক ছবি দেখামাত্রই তাদের মস্তিষ্কে ক্রিসমাস ট্রির মতো আলো জ্বলে ওঠে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটিই দেখা গেছে।মস্তিষ্কের যে অংশে উৎসাহ উদ্দীপনা ও ইন্দ্রিয় সুখানুভুতি সৃষ্টি হয় সে অংশটি ড্রাগ আসক্ত এবং পর্ন আসক্ত উভয়ের বেলায়ই সমান উচ্চহারে সক্রিয় থাকে।এর এক বছর পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা অল্প বয়স থেকেই পর্ন মুভি দেখায় অভ্যস্থ হয়ে পড়ে তাদের মস্তিষ্কের তিনটি অংশ যারা পর্নআসক্ত নয় তাদের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় থাকে।

 

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

কম খরচে আপনার বিজ্ঞাপণ দিন। প্রতিদিন ১ লাখ ভিজিটর। মাত্র ২০০০* টাকা থেকে শুরু। কল 016873284356

Check Also

পেপটিক আলসার থেকে মুক্তির উপায়!

গ্যাস্ট্রিক বা আলসার নামটির সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সাধারণত গ্যাস্ট্রিক বা …