ঢাকা : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, শনিবার, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > জাতীয় > বাংলাদেশের আয়তন কমছে না বরং বাড়ছে

বাংলাদেশের আয়তন কমছে না বরং বাড়ছে

jomi

আজ থেকে ১০ হাজার বছর আগে বাংলাদেশ নামের এই ভূখণ্ডের আয়তন ছিল বড়জোর ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার। হাজার বছর ধরে পলি পড়ে বাকি প্রায় ১ লাখ বর্গকিলোমিটার ভূমি সমুদ্র ও নদী থেকে জেগে উঠেছে।

নতুন ভূখণ্ড জেগে ওঠার প্রক্রিয়া এখনো চলছে। গবেষণা বলছে, বছরে এখন গড়ে প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি যুক্ত হচ্ছে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে। গত ৭৫ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি যোগ হয়েছে, যার আয়তন গাজীপুর জেলার চেয়েও বেশি।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশের ৭০ কিলোমিটার ভূমি ভেঙে যাচ্ছে বা নদীভাঙনের কবলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। তার বিপরীতে পলি পড়ে জেগে উঠছে ৮৫ বর্গকিলোমিটার ভূমি। যোগ-বিয়োগের হিসাবে যোগের পাল্লা ভারী। ফলে ক্রমাগত আয়তন বাড়ছে দেশের ভূখণ্ডের।

এত দিন নতুন জেগে ওঠা ভূখণ্ডগুলোতে ভূমিহীনদের ইজারা ও বন বিভাগকে বনভূমি সৃজনের জন্য দেওয়া হতো। কিন্তু এবার কৌশল বদল করা হচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ভূমিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের নতুন ভূখণ্ডগুলোতে ইজারা না দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে অবশ্য নতুন ভূখণ্ডগুলোতে বনায়ন করে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা নতুন জেগে ওঠা চরে বনায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প শেষ করেছি। আরও কয়েকটি প্রকল্প তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

আশা করি, তা অনুমোদন পেলে আরও কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি পাওয়া যাবে বনায়নের জন্য।’ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ থেকে সরকারের কাছে যে ২৮টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে ২০ থেকে ২৫ বছর আগে জেগে ওঠা বেশ কয়েকটি ভূখণ্ডকেও নির্বাচন করা হয়েছে।

মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল (কালারমারছড়া), মহেশখালী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ঘটিভাঙা ও সোনাদিয়া), নারায়ণগঞ্জে আড়াইহাজার অর্থনৈতিক অঞ্চলের বেশির ভাগ ভূখণ্ডই নতুনভাবে জেগে ওঠা।

চীন সরকারের সংস্থা চায়না রেলওয়ে কন্সট্রাকশন করপোরেশন থেকে পদ্মা ও যমুনায় জেগে ওঠা চরগুলোকে ‘পরিণত’ করে সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উপযোগী করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নদী ব্যবস্থাপনা সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি ডেলটা মহাপরিকল্পনায় উপকূলীয় ভূখণ্ডগুলোতে আড়াআড়ি বাঁধ ও অন্যান্য ভূপ্রকৌশল পদ্ধতি ব্যবহার করে ভূখণ্ড গড়ে তোলা ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজীর নতুন ভূখণ্ডে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু করেছি। তবে ওই ভূখণ্ডগুলো ২০ থেকে ২৫ বছর আগে জেগে ওঠা। আর চীন যে প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা তা বিবেচনা করছি। তাদের বলেছি বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে।’

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভূমি জেগে উঠেছে নোয়াখালীতে। এই জেলায় ৭০ বছরে প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি ক্ষয় হলেও একই সময়ে আরও ১ হাজার বর্গকিলোমিটার যুক্ত হয়েছে। আর ভোলা জেলায় ভাঙনে ৪০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি বিলীন হলেও একসময় জেগে উঠেছে ৬০০ বর্গকিলোমিটার। পটুয়াখালী জেলায় ৪১০ বর্গকিলোমিটার ভূমি যুক্ত হয়েছে হারানো ৫০ বর্গকিলোমিটারের বিপরীতে। তিনটি জেলাতেই ক্রমাগত ভূমি বেড়েছে।

সিইজিআইএসের ২০১৬ সালের সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও পদ্মা নদী দিয়ে ১২০ কোটি টন পলি বয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ে। এই পলি নদীগুলোর দুপাশে ও মোহনায় জমে জন্ম দেয় নতুন ভূখণ্ডের। অনেক ক্ষেত্রে নদীর মাঝখানেও পলি জমে সৃষ্টি হয় নতুন চর। সেখানে উড়ি ঘাস জন্মালে তা স্থায়ী ভূখণ্ডে রূপ নেয়।

সিইজিআইএসের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে নতুন ভূখণ্ড জেগে ওঠার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ১৯৫০ সালের আসাম ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পে ভূমিধসের ফলে হিমালয় থেকে বিপুল পরিমাণ পলি নেমে আসতে থাকে নদীগুলো বেয়ে। ফলে ১৯৪৩ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রতিবছর ৪৩ বর্গকিলোমিটার করে ভূমি জেগে উঠেছে। ওই সময়েই নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বেশির ভাগ ভূমি গড়ে ওঠে বলে সংস্থাটির গবেষণায় দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিইজিআইএসের উপনির্বাহী পরিচালক মমিনুল হক সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশের নদী ও সমুদ্র দিয়ে এখনো যে পরিমাণ পলি আসে, তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে আগামী পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে আমরা আরও নতুন করে আড়াই হাজার বর্গকিলোমিটার জমি নদী ও সমুদ্র থেকে পেতে পারি।’

ভূখণ্ডগুলো রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিইজিআইএস থেকে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন জেগে ওঠা চরের অর্থনৈতিক মূল্যের চেয়ে ভেঙে যাওয়া পুরোনো জমির অর্থনৈতিক মূল্য কয়েক গুণ বেশি। ফলে নতুন ভূমি জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি পুরোনো ভূমিগুলো রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ব্যাপারে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের (বিসিএএস) নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমান বলেন, যেসব ভূমি জেগে উঠছে, তাকে পরিণত হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে।

বনায়ন ও ভূ-প্রকৌশল প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। সঠিকভাবে ওই ভূখণ্ডগুলো কাজে লাগাতে পারলে তা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিপদ থেকেও বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে সহায়ক হবে।

সুত্রঃ প্রথম আলো

এ সম্পর্কিত আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *