Mountain View

সিলেটে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে ‘চা-কন্যা ভাস্কর্য’

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৫, ২০১৬ at ৭:২২ পূর্বাহ্ণ

cha


দুইটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট। সিলেটে রয়েছে চারটি জেলা। এর মধ্যে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় দেড় শতাধিক বাগানে চা পাতা উৎপাদন হচ্ছে। এসব পাতা যারা সংগ্রহ করেন তাদের বলা হয় চা-কন্যা। মূলত চা-কন্যারা চা পাতা সংগ্রহ করেন। পরে তা ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর এগুলো মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রির জন্য ওয়্যার হাউসে পাঠানো হয়। চা-কন্যাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই দেশ অর্জন করছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। তাই তাদের স্মরণীয় করে রাখতে সাতগাঁও চা-বাগানের অর্থায়নে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আমতলী চা-বাগান সংলগ্ন রাস্তায় চা-কন্যার ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে।

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে এটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির প্রকৌশলী সঞ্জিত রায়ের হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অপরূপ সৌন্দর্য আর কারুকাজে একদিকে যেমন প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে প্রতিচিত্রের রূপ। তেমনিভাবে ফুটে উঠেছে কারুশিল্পকারের হাতের নৈপুণ্য। প্রায় ২৪ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নারী চা শ্রমিকের কোমল হাতে চা পাতা আহরণের মনোমুগ্ধকর এক নিপুণ প্রতিচ্ছবি। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এরপর থেকে এ ভাস্কর্যটি দেখার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এখানে আসতে থাকেন। বাড়তে থাকে পর্যটকের পদচারণা। চা শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনস্বরূপ নির্মাণ করা চা-কন্যা ভাস্কর্যটি দেখে যে কেউ মনে করবেন, তিনি চা শিল্পাঞ্চলে প্রবেশ করেছেন। চা শ্রমিকদের ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা সবই যেন মিলেমিশে আছে এই ভাস্কর্যটির মধ্যে। চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর এই ভাস্কর্যটির সৌন্দর্য অবলোকনে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে।

এ সম্পর্কিত আরও