Mountain View

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফসিলসকে নিয়ে নিন্দার ঝড়

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৫, ২০১৬ at ৭:৩৮ অপরাহ্ণ

miles

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড মাইলসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কলকাতার সংগীতশিল্পী রূপম ইসলাম ও তার ব্যান্ড ফসিলসকে ধিক্কার জানিয়েছেন শিল্পী-নির্মাতারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তরাও নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

গায়িকা আলিফ আলাউদ্দিন লিখেছেন, ‘যে বেয়াদব আমার দেশকে পাকিস্তান বলে, তাকে নিয়ে কথা বলার রুচি আমার নেই।’

নির্মাতা আশফাক নিপুণ লিখেছেন, ‘মাইলস ব্যান্ডের একটা অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ আছে। অফিসিয়াল একটা ওয়েবসাইটও আছে। সেখান থেকে কি কোনো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য কখনও প্রচার করা হয়েছিলো? যদি না হয়ে থাকে তাহলে ব্যক্তিগত মতামত, কাইজ্জা, ফ্যাসাদ, ভাবনার জন্যে একটা ব্যান্ডের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কি ছেলেমানুষী না?

ক্রিকেট এমন একটা ইস্যু যেখানে আমরা এবং ভারত দুই দেশই অত্যন্ত আবেগী। ক্রিকেট ইস্যু নিয়ে আমরা যেমন আবেগের আতিশায্যে ক্ষোভ থেকে অনেক সময় অনেক কিছু লিখি সেভাবে আমার অনেক ভারতীয় বন্ধুদেরও দেখেছি সময়ে অসময়ে কটুক্তি করতে বা আঘাত দিয়ে কথা বলতে। এগুলো সব মাইন্ড গেম। খেলার মাঠে দুই দল যেমন মাইন্ড গেম খেলেন, মাঠের বাইরে আমরা দুই দেশের দর্শকশ্রেণীও মাইন্ড গেম খেলি। কিন্তু এই এর জের ধরে বা ব্যক্তিগত কারণে অল্প কিছু মানুষকে উত্তেজিত করে ‘ব্যান ব্যান’ খেলাটা ছেলেমানুষী ছাড়া কিছু না।

ওহে ফসিলসের ভাইয়েরা আমার, মাইলসকে বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে জিতেছেন আপনারা। কি জিতেছেন? ছেলেমানুষী। চকোলেট খাওয়ার জন্য ভাত না খাওয়ার ছেলেমানুষী। সংগীত এর ময়দানে সাংগীতিক থাকবেন। সাংঘাতিক হলে নিজের যেটুকু সংগীত আছে তারও বারোটা বেজে যাবে যে!’

আরেক নির্মাতা লিটু সাখাওয়াত বলেন, ‘১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫, ব্যান্ড মিউজিকই ছিলো প্রধান শ্রতব্য সংগীত। ব্যান্ডগুলোর সুনির্দিষ্ট কিছু গান আমাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করেছিলো, এখনও করে। তাদের মধ্যে মাইলসের কিছু গান এখনও শুনি।

কলেজে গলা ছেড়ে গাইতাম ‘ফিরিয়ে দাও আমারই প্রেম’, ‘ধিকি ধিকি আগুন জ্বলে’! সেই মাইলসকে ভারতবিদ্বেষী আচরণের কারণে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েও বাতিল করা হয়েছে। রূপম নামে এক বেয়াদব নাকি এই বেয়াদবিটা করার নেতৃত্ব দিয়েছে। আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক এতোটুকুই বুঝলো, আমাদের মাইলস ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। জয় হোক মাইলসের!’

পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস প্রশ্ন তুলেছেন, ‘রূপম, কে?’ উপস্থাপক ইভান সাইর আরজেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘যতোদিন পর্যন্ত রূপম ইসলাম এবং তার ব্যান্ড ফসিলস ক্ষমা না চাইবে, ততোদিন একজন রেডিও জকি হিসেবে তাদের কোনো গান বাজাবো না। যদি তাতে চাকরিও চলে যায় ক্ষতি নাই।’

ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আগামী ১৩ আগস্ট কলকাতায় নজরুল মঞ্চে আজাদী কনসার্টে সংগীত পরিবেশনের কথা ছিলো মাইলস, ফসিলস ও পাপনের। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরে মাইলসকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে ফসিলস। এ কারণে বিতর্ক এড়াতে আয়োজকরা দুটি ব্যান্ডকেই এ কনসার্ট থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

এ ঘটনায় ভক্তরাও ফেসবুকে সমানে ফসিলসের নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছেন। প্রবাসী ভক্ত রুবেলের মন্তব্য, এ ঘটনার সুবাদে ফসিলসের পরিচিতি বেড়েছে! লিওনেল মোর্শেদ রাকিনেরও একই অভিমত। সাইফ খানের মন্তব্য ‘কলকাতায় যদি ব্যান্ডসংগীত একটু জাতে উঠে থাকে তাহলে তা ৮৮ ভাগই মাইলস, ফিডব্যাক, এলআরবি, ফিলিংসসহ বাংলাদেশি অন্যান্য ব্যান্ডের গান শোনার অনুপ্রেরণায়।’

খায়রুল বাসারও মনে করেন, মাইলসের গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতের ব্যান্ডসংগীতে অনেক রত্ন তৈরি হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চুরি করে ভারত জিতেছিলো বাংলাদেশের সঙ্গে। শুধু বাংলাদেশ কেনো, সারাবিশ্বের মানুষ তা দেখেছে এবং নিন্দা জানিয়েছে। তারপরেও চোরদের পক্ষে চোরের বড় গলা হয়ে বাংলাদেশ নিয়ে কটুক্তি করে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন রূপম।’

হাসনাত সোয়েবের মন্তব্য, এখানে মাইলস একটা নামমাত্র। আসল বিষয়টা হলো ফসিলসের ভারতীয় চেতনার আধিপত্যবাদী আচরণ। মিথেল আহমেদের মতে, এটা তাদের এবং ভারতীয়দের নিচু মানসিকতার পরিচয় ছাড়া আর কিছুই না।

শোয়েইব আহমেদ বলেন, ‘মাইলস সেই ব্যান্ড যারা আমাদের বাংলা গানকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করেছে। দেশপ্রেম আর নৈতিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে শাফিন আর হামিন আহমেদ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন।’

লিওন আহমেদের মন্তব্য, ‘বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারত কিন্তু তাদের কাজকর্মে কোনো বন্ধুত্ব প্রকাশ পায় না। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের মওকা মওকা ক্যাম্পেইন দিয়ে বাংলাদেশকে কতোভাবে অপমান করা হয়েছিলো তা আমরা এখনও ভুলিনি। বাংলাদেশে ভারতীয় শিল্পীরা এলে তো এমন অপমান করা হয় না। সাদর অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে ভারত কীভাবে এসব করে! মাইলসকে ঢাকা থেকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়ে তারপর আবার তাদেরকে বাদ দেওয়াটা চরম অপমানের শামিল।’

শেখ মহসিনের মন্তব্য, ‘রূপমকে জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা রাখে মাইলস।’ আবিদ আজম প্রস্তাব দিয়েছেন সুন্দরবন রক্ষায় মাইলস কনসার্ট করুক। তার মতে, ‘সুন্দরবন না থাকলে যে আমরা অল্প সময়েই ফসিলে পরিণত হবো‍!’

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View