Mountain View

আজ বাইশে শ্রাবণ: বিশ্বকবির ৭৫তম প্রয়াণ দিবস

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৬, ২০১৬ at ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

আজ বাইশে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৫তম প্রয়াণ দিবস। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল জন্মগ্রহণ করেন।

আজ থেকে ৭৫ বছর আগে বাংলা ১৩৪৮ সনের ২২ শ্রাবণ ঠাকুরবাড়ির শ্যামল প্রাঙ্গণে বর্ষণসিক্ত পরিবেশে তিনি পরলোকগমন করেন।

বাংলা সাহিত্যের অমর স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সমাজসেবী এবং শিক্ষাবিদ। বহুগুনে গুনান্বিত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আখ্যায়িত করা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি হিসেবে। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন কোনো দিক নেই যা নিয়ে তিনি লেখালেখি করেননি।

বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আর মা সারদা দেবীর ১৪ সন্তানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ১৩তম। জন্মের সময় তার ডাক নাম রাখা হয় রবি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে রবির প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘অমৃত বাজার’ পত্রিকায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৮৭৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্প ও নাটক লিখেন। তাকে বাংলা ভাষায় ছোটগল্প রচনাধারার প্রবক্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাহিত্য হচ্ছে তার কবিতা ও গান। তার গান আজও বাঙালিদের নিত্যদিনের জীবনচর্চায় মিশে আছে গভীরভাবে। একই সঙ্গে উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমনকাহিনী এবং নাটক রচনায়ও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত।

রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো- বনফুল, সোনার তরী, মানসী, চিত্রা, কল্পনা, ক্ষণিকা, খেয়া, গীতাঞ্জলি, গীতালি, গীতিমালা, সেজুতি, বলাকা, পূরবী, পুনশ্চ, জন্মদিনে, শেষ লেখা প্রভৃতি। নাটকের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিরকুমার সভা, তাসের দেশ, রক্তকরবী, চোখের বালি, শেষের কবিতা। কবির ‘জন গণ মন’ গানটি ভারতের এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়। সাহিত্য রচনার পাশাপাশি বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা রবীন্দ্রনাথের জীবনকে মহিমান্বিত করেছে।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের আবেদন বিশ্বজনীন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পযর্ন্ত রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে প্রথম এশীয় হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথের হাতেই বাঙালির ভাষা ও সাহিত্য, শিল্পকলা ও শিল্প চেতনা নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে তিনি বিশ্বকবি, কবিগুরু ও গুরুদেব নামে পরিচিত। ‘আজ  শ্রাবণের আমন্ত্রনে/ দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে’ শ্রাবণ-বর্ষণে এভাবেই যেন তিনি পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক। আর এক শ্রাবণেই তিনি চলে গেলেন সবাইকে কাঁদিয়ে। কবি গুরু যেদিন ইহধাম ত্যাগ করেন সেদিন শোকার্ত কবি নজরুল ইসলাম বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছিলেন- ‘দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারে কোলে/ বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/ শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।’

রবীন্দ্রনাথের ৭৫তম মহাপ্রয়ান বার্ষিকীতে দু’দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। এরই অংশ অংশ হিসেবে আজ শনিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আহমদ রফিক রচিত রবীন্দ্রজীবন (তৃতীয় খণ্ড)-এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতি সংগঠন রবীন্দ্র প্রয়াণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View