Mountain View

‘বগুড়া ট্যুরিস্ট ক্লাব’র ১৭তম সপ্তাহের অভিযাত্রা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৬, ২০১৬ at ১:২৪ অপরাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি : ‘বগুড়া ট্যুরিষ্ট ক্লাব’ আয়োজিত ‘ভিজিট বগুড়া এন্ড বাংলাদেশ ২০১৬’-এর ৬০ সপ্তাহব্যাপী প্রচার-প্রচারণার ১৭তম সপ্তাহে গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে ঐতিহাসিক ‘বলিহার জমিদারের রাজ কাচারিবাড়ি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী’দের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের অধ্যাপক এস.এম. ইকবাল হোসেন’র ‘চন্দনা টিয়ার অভয়াশ্রম’ অভিমুখী এক অভিযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাগর’র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের মধ্যে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কারিমুল হাসান লিখন ও কার্যকারী সদস্য নাসির আহমেদ, শাহাজালাল সুইট, স্থানীয় যুবনেতা মমিনুল হক মুক্তার প্রমুখ। আয়োজিত অভিযাত্রার পর ‘বগুড়া ট্যুরিস্ট ক্লাব’ এর প্রতিনিধি দল অনতিবিলম্বে রাজকাচারি সংস্কার করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যাদুঘর এবং প্রায় ৩ একরের যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে সেখানে একটি থিম পার্ক নির্মাণের দাবী জানান। পাশাপাশি সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের অধ্যাপক এস.এম. ইকবাল হোসেন’র ‘চন্দনা টিয়ার অভয়াশ্রম’টি আরও সুন্দর ভাবে দেখভাল করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন। এবিষয়ে ‘বগুড়া ট্যুরিস্ট ক্লাব’-এর সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাগর কমিউনিটি ট্যুরিজম উন্নয়নের স্বার্থে রাজকাচারির পাশের কুমার পাড়াকে ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করার জোর দাবি জানান। উল্লেখ্য, নওগাঁর পুরাতন জমিদারের মধ্যে যারা মুসলিম পর্বে জায়গীর লাভ করেছিল বলিহারের জমিদার তাদের মধ্যে একজন। কথিত আছে যে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের এক সনদ বলে বলিহারের এক জমিদার জায়গীর লাভ করেন। বলিহারের জমিদারদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন। রাজা কৃষ্ণেন্দ্রনাথ রায় একজন লেখক ছিলেন। ধারনা করা হয়, বলিহারের জমিদার রাজেন্দ্রনাথ রায় ১৮২৩ খিস্টাব্দে লোকান্তরিত হবার পূর্ব পর্যন্ত তাদের রাজত্ব ছিল। সে সময় রাজকার্য সম্পাদন এবং কর আদায়ের জন্য রাজা রাজেন্দ্রনাথ রায় শাজাহানপুরের ডেমাজানীতে একটি কাচারি নির্মাণ করেন যা বর্তমানে অবহেলায় জরাজীর্ণ। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানাযায়, খাজনা আদায় করতে ব্রিটিশ শাসনামলে বগুড়ার শাজাহানপুরের ডেমাজানীতে ৩ একর সম্পত্তির ওপর রাজ কাচারি স্থাপন করেন বলিহার রাজা। কালক্রমে রাজপ্রথা বিলুপ্ত হলে রাজ কাচারির অবকাঠামো এবং সমুদয় সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে। স্বাধীন বাংলাদেশও আমরুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম ওই রাজ কাচারিতেই দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়ে আসছিল কিন্তু রাজকাচারির সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View