Mountain View

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব, দোটানায় সরকার

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৭, ২০১৬ at ৬:১৭ অপরাহ্ণ

gas


ফের ১১ মাসের মাথায় আবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে সরকার। গ্যাসের দাম বাড়ানো যেমন অপিরিহার্য হয়ে পড়েছে তেমনি সরকারকে ভাবতে হচ্ছে গ্রহকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে। সব শ্রেণির গ্রাহকদের দাম বাড়ানো নিয়ে গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রবিবার (৭ আগস্ট) সকালে কারওয়ানবাজারে টিসিবি ভবনের মিলনায়তনে এই শুনানি শুর হয়, চলবে আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। বিভিন্ন কোম্পানির দেয়া দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে এই গণশুনানি শুরু হয়েছে।

১০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রাহকভেদে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো। একটি চুলার মাসিক বিল ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং দুই চুলার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২শ’ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো। জিটিসিএল প্রতি ইউনিট গ্যাসের সঞ্চালন ব্যয় পাচ্ছে শূন্য দশমিক ১৫৬৫ টাকা কিন্তু এটা বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ৩৬৬৫ টাকা করার প্রস্তাব করেছে জ্বালানি কোম্পানি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের আগ পর্যন্ত গ্যাস বিক্রির ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর সরকারি কোষাগারে জমা হত। কিন্তু ১৯৯৮ সালে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির (পিএসসি) অধীনে দেশের কয়েকটি গ্যাস ক্ষেত্রে কর্মরত বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি দামে গ্যাস কেনা শুরু হয়।

ফলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরকার পড়েছে উভয়সংকটে। একদিকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান গ্যাস বিক্রি থেকে রাজস্ব গ্যাস খাতেই ব্যয় করার পূর্বসিদ্ধান্ত বাতিল করায় দাম বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৬০ পয়সা এবং শিল্পে বয়লারে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৫৮ টাকা, গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম ৭ টাকা থেকে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শুনানির তালিকায় রয়েছে, ৮ আগস্ট তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ১০ আগস্ট পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১১ আগস্ট বাখরাবাদ গাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ১৪ আগস্ট কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১৬ আগস্ট জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ১৭ আগস্ট সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি।

এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম, পেট্রোবাংলার সাবেক কর্মকর্তা সালেক সুফী, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী প্রমুখ। গ্যাসের দাম শিল্প-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের কাছে সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য তারা সবাই বিইআরসির কাছে অনুরোধ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View