ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ৪:২২ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ইস্কাটন-মৌচাক অংশ খুলছে চলতি মাসেই

mou


মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণের চলমান কাজ নিয়ে যারা ত্যক্তবিরক্ত, তাদের জন্য খানিকটা সুখবর। ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি অংশ খুলে দেয়ার পর এবার চলতি মাসেই খুলে দেয়া হচ্ছে বাংলামোটর (ইস্কাটন) থেকে মৌচাক অংশ। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইস্কাটন থেকে মৌচাক অংশ খুলে দেয়ার ফলে এ রুটে যাতায়াতকারী নাগরিকদের জীবনে নেমে আসবে আরও খানিকটা স্বস্তি।

বাংলামোটর থেকে মালিবাগ অংশ ঘুরে দেখা গেছে, এ অংশের মূল নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। কিছু অংশের অসমাপ্ত কাজ এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে। পাশাপাশি চলছে শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং টাচ। নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, জুনের মধ্যে এ অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে এখন চলতি মাসেই ইস্কাটন-মৌচাক অংশ খুলে দেয়ার বিষয়ে তেমন কোনো সংশয় নেই।

নাজমুল আলম জানান, পুরো ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হতে আগামী বছরের জুন মাস এসে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে জনভোগান্তি লাঘবে তিন অংশে বিভক্ত ফ্লাইওভারটির অধিকাংশ কাজ বাকি রেখেই সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল পর্যন্ত অংশ এপ্রিলেই খুলে দেয়া হয়। এতে মগবাজার সিগন্যাল পয়েন্টের যানজট কমে যায় অনেকখানি। নাগরিকদের মধ্যে নেমে আসে স্বস্তি। পুরনো এ অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার আমরা চলতি মাসে বাংলামোটর থেকে মৌচাক অংশ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, আমাদের সিদ্ধান্তের ফলে মৌচাক থেকে বাংলামোটরগামী নাগরিকরা আরও খানিকটা স্বস্তি অনুভব করবেন। প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত থাকলেও আমরা এর আগেই সব কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, প্রকল্পের অসমাপ্ত অংশ (শান্তিনগর-মালিবাগ-রাজারবাগ) আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে খুলে দেয়া সম্ভব হবে।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি অংশ খুলে দেয়ার ফলে বর্তমানে ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা ব্যবহার করছে মৌচাক-বাংলামোটর সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহন। আর সাতরাস্তা-মৎস্য ভবন-কাকরাইল সড়ক ব্যবহারকারী যানগুলো ব্যবহার করছে ফ্লাইওভার। এতে মগবাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে বেশিরভাগ সময়ই যানজটমুক্ত থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে ইস্কাটন-মৌচাক অংশ খুলে দেয়া হলে ফ্লাইওভারের নিচে মগবাজার মোড়ের সড়কে যানবাহনের চাপ আরও কমে আসবে। ফলে মানুষের কাছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণের সুফল আরও স্পষ্ট হবে। আগে মগবাজার সিগন্যাল পয়েন্ট পার হতে যেখানে আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা বা তারও বেশি লেগে যেত, এখন তা ২ থেকে ৪ মিনিটেই পার হওয়া সম্ভব হবে। ফলে জনগণ আগের চেয়ে বেশি স্বস্তি অনুভব করবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ফ্লাইওভারের শান্তিনগর-মালিবাগ-রাজারবাগ অংশের কাজ চলমান থাকায় মৌচাক অংশের নিচের সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহনগুলোর দুর্ভোগ সহসা লাঘব হবে না। যদিও এ অংশে নতুন করে আর খোঁড়াখুঁড়ি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৮ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এসে প্রকল্পের ব্যয় করা হয় ১ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। শুরুতে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে পরে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ২০১৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) প্রকল্পটিতে ঋণ দেয়। সংস্থা দুইটির ৫৭২ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার কথা থাকলেও পরে তারা তা বাড়িয়ে ৭৭৬ কোটি টাকা করে। অন্যদিকে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ২০০ কোটি ৪৭ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ করছে ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্র্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও নাভানার যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান ‘সিমপ্লেক্স নাভানা জেভি’ এবং চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য নাম্বার ফোর মেটালার্জিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কোম্পানি ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

23cac260e0e06efa81849ba8495e00cfx236x157x8

স্কুল পর্যায়ে সব বই পৌঁছে যাবে ১৫ দিনেই: শিক্ষামন্ত্রী

আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই স্কুল পর্যায়ে সব নতুন বই পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *