ঢাকা : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, বুধবার, ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বরিশালে আড়াই হাজার স্কুলে পরীক্ষা স্থগিত

bros


বন্যার পানি নেমে গেলেও তীব্র স্রোতে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যুমনা নদীর ভাঙন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বগুড়ার শেরপুরে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দুর্গত মানুষ। বসতবাড়ি ও জমাজমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। খাদ্য, গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণের জন্য হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শ্রেণীকক্ষে পানি প্রবেশ করায় বরিশালে আড়াই হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ আর হতাশা।

বরিশাল : শ্রেণীকক্ষে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় বরিশালের ২ হাজার ৬২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ৩ থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে এসব বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এদিকে বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভাগের অধিকাংশ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ তথ্য বরিশাল সদর, উপকূলীয় এলাকা পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের। সদর উপজেলার ২০২টি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়। শুরুর দিনই উপজেলার উত্তর লামছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। একই অবস্থা ধর্মাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেদরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দ্রমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবারই উপজেলার সব বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

এদিকে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে এখনও পরীক্ষা স্থগিত না করা হলেও ওইসব এলাকায় স্কুলের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান মিলন বলেন, দুটি স্কুলে পানি ঢুকেছে। যখন পানি না থাকে তখন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। মুলাদি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ আলম বলেন, চার থেকে পাঁচটি স্কুলে ভাটার সময় পানি নেমে গেলে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। মুলাদি উপজেলার অধিকাংশ স্কুলে অলিখিত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, তার জেলায় ১ হাজার ৬০৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩১৭টি স্কুল। এমন অবস্থায় গোটা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আঃ মজিদ বলেন, তার এলাকার ৮১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

শেরপুর : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় তিন দিন ধরে বাঙালি নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে নদীভাঙনও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এমনকি বাঙালি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এরই মধ্যে সাহেববাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে তিন উপজেলার অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি দ্রুত মেরামত ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, বাঁধটি সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই তার। খোঁজখবর নিয়ে বাঁধটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গাইবান্ধা : বন্যার পানি নেমে গেলেও নদীর পানির তীব্র স্রোতে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভাঙন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী মানুষ ভাঙনে বসতবাড়ি ও জমাজমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাট : প্রমত্তা তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ক্রমেই বাড়ছে জনদুর্ভোগ। খাদ্য, গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কাজকর্ম না থাকায় অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে পানিবন্দি মানুষের। চরাঞ্চলের অনেক স্থানে ত্রাণের জন্য হাহাকার বিরাজ করছে। ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ আর হতাশা।

সিরাজগঞ্জ : বন্যাকবলিত পাঁচ উপজেলার ৪৬৩টি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ৪১৩টি বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে যমুনার পানি কমলেও এখনও হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।

কুড়িগ্রাম : সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের। তবে নিম্নাঞ্চলে পানি থাকায় অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে ফিরতে পারছে না। এ অবস্থায় বাঁধ ও পাকা সড়কে অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খাদ্য সংকটে পড়েছে বন্যাদুর্গতরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। জেলার ৯ উপজেলার নদনদী তীরবর্তী এলাকার বীজতলা, আমন, পটোল, মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

2

বান্দরবানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বার্ষিক সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত

বি.কে বিচিত্র,বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। সোমবার সকালে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *