ঢাকা : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ২:১৪ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু রহস্য

২২ শ্রাবণ। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ভাষার শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল জন্মগ্রহণ করেন। আজ থেকে ৭৫ বছর আগে বাংলা ১৩৪৮ সনের ২২ শ্রাবণ ঠাকুরবাড়ির শ্যামল প্রাঙ্গণে বর্ষণসিক্ত পরিবেশে তিনি পরলোকগমন করেন।

কিন্তু তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল সে সম্পর্কে হয়তো অনেকেরই জানা নেই। প্রস্টেট ক্যান্সারে মৃত্যু হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের! ১৯৪০ এর গোড়ার দিক থেকেই অসুস্থতায় নিশ্চল হয়ে পড়েন রবীন্দ্রনাথ।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে যে কয়জন মানুষের ওপর ব্যাপক গবেষণা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক বাড়ির জিম্মাদার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পুনরায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুধু ঐতিহাসিক নথির ভিত্তিতেই নয়, বরং শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরাও তার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। যারা রবীন্দ্রনাথের চিকিৎসা করেছিলেন তাদের বিষয়েও পর্যব্ক্ষেণ করা হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের স্মারক জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। এখনও পর্যন্ত সেখানে কবির শেষ দিনগুলোর কোনও প্রদর্শনী হয়নি। যে কক্ষে কবি তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সেটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে সেখানে ঘুরতে যাওয়া দর্শকদের এটা বলা হয় না যে, তার কি অসুখ ছিল? প্রাথমিকভাবে এটা প্রায় একজন দেবতার উপাসনার মতো ছিল। তার মৃত্যু পরবর্তী ঠিকানা নয়।

রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর সব্যসাচী বসু বলেন, সময় গড়িয়েছে। আমরা চূড়ান্তভাবে এই মিথ বা অতিকথন ঘোচানোর চিন্তা করি। এটা এমন নয় যে, শেষদিকে ঠাকুরকে কি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সেটা কেউ জানতো না। বিষয়টা হচ্ছে, কবির কক্ষের বারান্দাকে অপারেশন থিয়েটারে পরিণত করা হয়েছিল। তার চূড়ান্ত অস্ত্রোপচারের জন্য এটা করা হয়েছিল, যার রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে, তিনি হয়তো প্রস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

১৯৪০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। এদিন পশ্চিমবঙ্গের কালিকপং-এ হঠাৎ করে তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানান রবীন্দ্রনাথ। তার মূত্রস্থলীতে একটি মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। প্রস্রাব হওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাকে দ্রুত জোড়াসাঁকোতে নিয়ে যাওয়া হয়। শান্তিনিকেতনে যাওয়ার আগে তিনি সেখানে ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদিও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার প্রতি জোর দিয়েছিলেন; তবে অন্যরা সম্পূরক অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিধান রায় ও নীল রতন সিরকার-এর পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাদের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ নাকচ করে দেন।

ইউরোলজিস্ট অমিত ঘোষ বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে যখন তার অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে থাকে এবং তার প্রস্রাব প্রায় বন্ধ হয়ে যায় তখন চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। সেখানে তার নানা জটিলতা ধরা পড়ে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, কোনওভাবে অস্ত্রোপচার স্থগিত করা যাবে না।

কবিকে জোড়াসাঁকো থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে সার্জারির জন্য একটা স্টেরিলাইজড ওটি স্থাপন করা হয়। ডাক্তাররা সম্প্রসারিত মূত্রথলির ওপর কাজ করেননি। কিন্তু জমাট প্রস্রাব বের করতে তারা একটি বাইপাস সার্জারি করেন। মূত্রথলিতে হাত দেওয়া হয়নি। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

03-12-16

চলছে স্প্যানের লোড টেস্ট দৃশ্যমান হতে চলেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মাওয়া প্রান্তে বিশেষ প্লাটফর্মের ওপর পদ্মা সেতুর সুপার স্ট্রাকচার বসিয়ে লোড টেস্ট করা …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *