সারিয়াকান্দিতে বিদ্যুতের লুকোচুরি, ফেলছে শিক্ষার উপর চরম প্রভাব

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১১, ২০১৬ at ৮:১২ অপরাহ্ণ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, ঝড় এবং গুড়িগুড়ি বা ছিঁটাফোটা বৃষ্টির কারনে টানা দুইদিন যাবৎ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল বগুড়া ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় লাধীক গ্রাহক । স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার সারিয়াকান্দি সাব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ কুতুবপুর , জোড়গাছা , কুতুবপুর , কাজলা , শোলারতাইড় , বাঁশহাটা , সোনাপুর , কাঁশাহার , কামালপুল , রোহদৌহ , কড়িতলা , সুতানারা , বড়িয়া , ঘুঘুমাড়ি ছাড়াও একাধিক গ্রামে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (পবিস) এর বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে । উল্লেখিত এলাকাছাড়াও একাধিক গ্রামে গত ১০জুলাই থেকে ১১ জুলাই/১৬ইং তারিখ বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৩৫ঘন্টা সংযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল লক্ষাধীক গ্রাহক । এদিকে বিদ্যুতের সুষমসরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসীর সর্বস্তরের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছছে । এব্যাপারে কুতুবপুর সাব অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে তারা কারন উল্লেখ করে বলেন , এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তার বাঁধের উপর দিয়ে চলে আসায় মাঝেমাঝেই এবসব এলাকার গ্রাহকদের বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এর অন্যতম প্রধান কারন হল, এসব এলাকায় সামান্যতম বাতাস বা ঝড়ো হওয়া বয়ে গেলেই গ্রাহকদেরকে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়। ফলে গ্রাহকদের দুর্ভোগের সীমা চরমে পৌঁছে। অফিস সূত্রে আরও জানাযায়, বিদ্যুৎ পরিবাহী তারগুলো গ্রামের পাশদিয়ে বাঁশ ঝাড় কিংবা কাঠের বাগানের মধ্যদিয়ে আশায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে এমনটাই মনে করছেন পবিসের অভিযোগকেন্দ্র থেকে শুরু করে উর্ধতন কর্মকতাবৃন্দ । তারা বলেন , এসব এলাকায় সামান্য ঝড় হাওয়ায় বা বাতাসেই গাছের ডালপালাগুলো তারের উপর পরে এবং বিদ্যুৎসরবরাহে বৃঘœ ঘটায় । ফলে বিদ্যুৎ সংযোগকারী ফিটার (ফিউজ) বারবার পড়ে যায় এবং গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয় । এদিকে মাঝেমাঝে বিদ্যুতের এমন লুকোচুরিতে কল-কারখানা , রাইচ মিল , বরফ মিল , সেচ পাম্প ইত্যাদির কর্মচারিদের রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায় । এব্যাপারে কয়েকজনের জবানবন্দীতে জানাযায় , বিদ্যুতর এমন লুকোচুরিতে শিার্থীদের পড়া লেখার বিঘœঘটছে , অনেকেই বিদ্যুতের আলোতে পড়ে অভাস্থ্য হওয়া তারা প্রদীব (মোমবাতি) জ্বেলে পড়তে বসছেনা । বিশেষকরে কোমলমতী স্কুলগামী শিশুরা । একই সাথে ইলেক্ট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়া জগতে, বিদ্যুতের সুষমব্যবহার না থাকায় আশেপাশে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ খবর পৌঁছাতে পারছেনা পত্যন্ত অঞ্চলের থানা ও জেলা প্রেতিনিধি । মিডিয়া জগতের পাশাপাশি চাকরি পিপাষু শিক্ষিত বেকার মহলেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান সময় সকল চাকরি পরিক্ষার তারিখ এবং ফলাফল অনলাইনের মাধ্যমে সিমাবদ্ধ হওয়ায় মোবাইলে চার্চ না থাকায় মোবাইলে ফিরতি ম্যাসেস (বার্তা) পাচ্ছেন না। ফলে তারা সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য জানতে পারছেনা এবং অনেকেই দূরের লোকদের সাথে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ন যোগাযোগও করতে পারছে না। এছাড়াও বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং কম ভোল্টেজ এবং লুকোচুরিতে ফ্রিজে রাখা কাঁচা মাছ , মাংস , ডিম , দুধ , সবজিসহ বিভিন্ন ফলমুলে পঁচন ধরছে। এমনকি রাইচ মিল বন্ধ থাকায় একাধিক পরিবারের সদস্যদের অনাহারে থাকার মতোও খবর পাওয়া যায়।

 

এ সম্পর্কিত আরও