Mountain View

আর ফোন এল না বুয়েটের ছাত্র মশিউরের

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১২, ২০১৬ at ৩:৫১ অপরাহ্ণ

বাবাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছিল নেটওয়ার্ক পেতে অসুবিধা হচ্ছে। একবার ফোনে কথাও হয়েছিল। আর ফোন এল না। ছেলে একেবারে নেটওয়ার্কের বাইরেই চলে গেল।

বিছনাকান্দিতে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটের) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান (২২)।

বাড়ির সামনে বেঞ্চে বসে ছেলের কথা বলছিলেন বাবা মাহবুবুর রহমান। মা-বাবা আদর করে তাঁকে ডাকতেন সিয়াম। তাঁর সঙ্গে মারা যান সহপাঠী সাঈদ লতিফ (২৩)। তিনি গাইবান্ধার জামালপুরের নুরুল ইসলামের ছেলে। রাজশাহী নগরের সাহেববাজার এলাকায় ছোট্ট একটা পানবিড়ির দোকান রয়েছে। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বড় করেছেন বাবা মাহবুবুর। সামান্য আয়ে সংসার চালিয়েছেন। মশিউরকে পড়িয়েছেন।

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১১তম এবং রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পঞ্চম হয়েছিলেন মশিউর। এরপর ভর্তি হন বুয়েটে। তাঁরা দুই ভাই। ছোট ভাই নিয়ামুর রহমান অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

শেখপাড়া মহল্লায় মাহবুবুরের বাড়িতে প্রতিবেশী আর স্বজনদের ভিড়। বাড়ির ভেতরে একটি ঘরে বিছানায় বসে অঝোরে কাঁদছেন মশিউরের মা রুমালি খাতুন। নিয়ামুর দাঁড়িয়ে মায়ের পাশে। স্বজনেরা কয়েকজন মশিউরের মরদেহ আনতে সিলেটে গেছেন। সবাই মশিউরকে শেষবার দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।

বাবা মাহবুবুর রহমান বললেন, স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা ছিল মশিউরের। ছেলেকে বলেছিলেন, ‘তাইলে তো মেলা টাকা লাগবে। আমি তাহলে এখন থেকেই একটু একটু করে জমানো শুরু করে দিই। ছেলে বলল জমাও। তুমি কিছু দিয়ো আর স্কলারশিপ পাইলে সরকারও তো টাকা দিবে।’

বাবা চাইতেন না বুয়েটে পড়া ছেলে পানবিড়ির দোকানে বসুক। মশিউর বলতেন, ‘আর তিন-চারটা বছর কষ্ট করলে দ্যাখো অনেক ভালো চাকরি পাব। তখন আর কষ্ট থাকবে না।’

ছেলেকে নিয়ে আরও অনেক কথা বলতে চাইলেও বলে উঠতে পারলেন না বাবা মাহবুবুর। বললেন, ‘হিরের টুকরো ছেলে ছিল আমার…আহ্‌, আমি যে কী হারালাম, সবাইরে ক্যামনে বুঝাই!’

এ সম্পর্কিত আরও

আপনিও লিখুন .. ফিচার কিংবা মতামত বিভাগে লেখা পাঠান [email protected] এই ইমেইল ঠিকানায়
সারাদেশ বিভাগে সংবাদকর্মী নেয়া হচ্ছে। আজই যোগাযোগ করুন আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুকের ইনবক্সে।