Mountain View

এখান উল্টো চাপে থাকবে ইংল্যান্ড: রুবেল

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৩, ২০১৬ at ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

rubel eng

গত বছরের ২০১৫ বিশ্বকাপের কথা মনে আছে? ৯ মার্চ অ্যাডিলেড ওভালে গ্রুপপর্বে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন টিম বাংলাদেশ। দিনটি তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য চিরস্মরণীয়।ইংলিশদের বিপক্ষে টাইগারদের সেই গৌরবের জয়ের মিশনে ব্যাট হাতে সেদিন গর্জে উঠেছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম।

আর বল হাতে ইংলিশ বধের রাবন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন টাইগার পেসার রুবেল হোসেন। ব্যাট হাতে ১৩৮ বলে সাতটি চার ও দুইটি ছক্কায় রিয়াদ অপরাজিত ছিলেন ১০৩ রানে আর ৮ চার ও একটি ছক্কায় মুশফিক খেলেছিলেন ৭৭ বলে ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস।

এদিন বাংলাদেশের ৭ উইকেটে ২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের পেছনে ভূমিকা রাখে সৌম্য সরকারের ৫২ বলে ৪০ রানের ইনিংসটিও।

আর রুবেল কী করেছিলেন? জয়ের জন্য ২৭৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা ইংল্যান্ডকে ২৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে টাইগারদের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার বাধভাঙ্গা উল্লাসে মেতে উঠতে সাহায্য করেছিলেন অ্যাডিলেড ওভালের ওই সবুজ মাঠে। ৯.৩ ওভার বল করে ৫৩ রানের খরচায় থলিতে পুড়েছিলেন ৪টি উইকেট।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ঠিক থাকলে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডে খেলতে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ ঢাকা আসবে ইংল্যান্ড। তাই ঘুরেফিরে আবার সেই রুবেল হোসেন নামটিই আসছে।

ইংলিশদের বিপক্ষে আসন্ন এই সিরিজকে সামনে রেখে টাইগার প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পাওয়া ৮ পেসারের মধ্যে হয়তো রুবেলই থাকবেন পাদপ্রদীপের নিচে।

কারণটিও সঙ্গত। কেননা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ পর্যন্ত মোট ছয় ওয়ানডে ম্যাচে রুবেলের উইকেট সংখ্যা ৯। তিন টেস্টে তিনটি উইকেটও নিয়েছেন তিনি।ফলে এই সিরিজটি নিয়ে রুবেলও ভীষণ আশাবাদী।

ইংল্যান্ডকে দিয়েই তিনি একদিকে যেমন দলের আরেকটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্নের জাল বুনছেন, তেমনি বুনছেন নিজের পারফরমেন্স নিয়েও। আর এক্ষেত্রে তাকে প্রেরণা যোগাচ্ছে ইংলিশদের বিপক্ষে তার অতীত পারফরমেন্স, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমার পারফরমেন্স বরাবরই ভাল। তবে সবচেয়ে বড় ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে।

ওই ম্যাচটি শুধু আমার জন্যই নয়, আমি বলবো আমাদের দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সব থেকে বড় ব্যাপার হলো সংকটময় মুহূর্তে দলকে কিছু একটা উপহার দেয়া, যা আমি সেদিন করতে পেরেছিলাম। বিশ্বকাপের মতো আসরে দলের জন্য এমন পারফরমেন্স সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার, যা আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে উৎসাহিত করবে।’

গত বছর সেপ্টেম্বরে ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন রুবেল। ফলে লাল-সবুজের হয়ে খেলতে পারেননি এশিয়া কাপ ও টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় দুই আসরে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তিনি, ‘অনেকদিন ধরেই আমরা খেলার ভেতরে নেই। ইংল্যান্ড আসলে আমাদের জন্য ভালো হবে। যেহেতু আমাদের মাটিতে খেলা, তাই আমাদের জন্য এটা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

এখানে চাপে থাকবে ইংল্যান্ড, কারণ বেশ কয়েকটি ম্যাচেই ওরা আমাদের সাথে জিততে পারেনি। বিশ্বকাপের মতো জায়গায় ইংলিশ কন্ডিশনেও ওরা হেরেছে। এটা ওদের জন্য অনেক বড় লজ্জার। এই সিরিজে ওরা বেশ শক্তিশালী হয়েই আসবে। তবে আমরাও ছেড়ে কথা বলবো না। আমি যদি দলে সুযোগ পাই তাহেলে সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে চেষ্টা করবো।’

একথা ঠিক যে ওয়ানডেতে ১৬ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৩ বারই জয়ের শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড। যেখানে বাংলাদেশে হেসেছে মাত্র তিনবার। তবে একটি পরিসংখ্যান থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের প্রেরণা নিতে পারে টিম বাংলাদেশ। আর সেটি হলো, সবশেষ চারবারের মুখোমুখি লড়াইয়ের তিনটিতেই জয় ধরা দিয়েছে টাইগারদের মুঠোয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View