ঢাকা : ২৬ জুলাই, ২০১৭, বুধবার, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

পায়রা বন্দরের উন্নয়নে বিনিয়োগের সঙ্গী হতে চায় অনেক দেশ

payra bondor

দেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দরের চেয়েও নবনির্মিত স্বপ্নের পায়রার সম্ভাবনা অনেক। তৃতীয় বৃহত্তম এ বন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠবে এলএনজি টার্মিনাল, তিনটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও সেনা ক্যাম্প। পদ্মাসেতু হয়ে রেলপথও মিলিত হবে পায়রা বন্দরে।

এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। জাইকা, এডিবি, চীন, ভারতসহ নানা দেশ-কোম্পানিও এখানে বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। কারণ, এটিই হবে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধানতম অর্থনৈতিক অঞ্চল।

বর্তমানে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে স্বল্প পরিসরে পায়রা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে।আজ (শনিবার) ১৩ আগস্ট গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে মালামাল খালাসের মধ্য দিয়ে আন্ধারমানিক নদীর তীরে অবস্থিত পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ছয় হাজার একর জায়গায় গড়ে উঠছে সমগ্র পায়রা সমুদ্রবন্দর।

এ পর্যন্ত বন্দরের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ভূমি অধিগ্রহণ, ৭২ নটিক্যাল নৌ-পথ জরিপ, সমুদ্র ও নদীপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বয়া স্থাপন এবং ক্ষুদ্র পরিসরে অফিস বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে।

ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, পোর্ট রেডিও কন্ট্রোল স্টেশন স্থাপন, ১০০০ কেভিএ বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন নির্মাণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।তৈরি হচ্ছে কন্টেইনার, বাল্ক, সাধারণ কার্গো, এলএনজি, পেট্রোলিয়াম ও যাত্রী টার্মিনাল।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প, সিমেন্ট, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, সার কারখানা, তেল শোধনাগার ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পসহ আরো অনেক শিল্প কারখানা  গড়ে তোলা হবে। এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে গ্যাসের মাধ্যমে এখানেই সার কারখানা চালু করা সম্ভব।

সমুদ্রবন্দরটির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘প্রথমে যখন পায়রায় এসেছিলাম, তখন ছিল হাঁটু কাদা। এখন এখানে অনেক কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একটি স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। পায়রা বন্দরের সমস্ত কাজ বাস্তবায়নে ১৬ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশ এখানে বিনিয়োগ করতে চায়’।

আউটার অ্যাংকরেজ থেকে রাবনাবাদ চ্যানেলে ঢোকার পথে পানির সর্বনিম্ন গভীরতা প্রায় ৫ মিটার। চ্যানেলের ভেতরে এ গভীরতা ১৬ থেকে ২১ মিটার। এ চ্যানেলেই  হবে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর।  চ্যানেলের ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং করা হলে জোয়ারের সময় ১৪ মিটার গভীর এবং ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট জাহাজ  এখানে আসতে পারবে।

উদ্বোধনের পর থেকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর গড়তে তিনটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত বহির্নোঙ্গরে ক্লিংকার, সার ও অন্যান্য বাল্ক পণ্যবাহী জাহাজ আনা ও লাইটার জাহাজের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন করে স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরু, দ্বিতীয়ত ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি কন্টেইনার টার্মিনাল ও একটি বাল্ক টার্মিনাল প্রস্তুত করা এবং তৃতীয়ত ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ বন্দর গড়ে তোলা।

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আধুনিক পরিবেশবান্ধব বন্দর গড়ে উঠবে এবং শিল্পায়নসহ ইপিজেড, এসইজেড, জাহাজ নির্মাণ এবং মেরামত খাতে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

পায়রা বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান জানান, পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে গড়ে ওঠার পর মায়ানমার, ভারত ও চীনের সমন্বিত উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ইকোনমিক করিডোর গড়ে উঠবে। সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ার কারণে প্রতিবেশি দেশগুলোসহ অনেকে এখানে বিনিয়োগ ও ট্রানজিট সুবিধা গ্রহণে আগ্রহী।

এ সম্পর্কিত আরও

আপনার-মন্তব্য