সুন্দরবনে করমজলে কুমিরের ৪৭ ছানার জন্ম

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৪, ২০১৬ at ৮:০২ অপরাহ্ণ

BAGERHAT-b20160814165417

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের কুমির জুলিয়েট ও পিলপিলের ডিম ফুটে ৪৭টি ছানার (বাচ্চা) জন্ম হয়েছে।

আজ (রোববার) ১৪ আগস্ট সকালে ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বেরিয়ে আসে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ৮৪ দিন নোনা পানির কুমির জুলিয়েট ও পিলপিল মোট ৯৮টি ডিম দেয়।

এর মধ্যে জুলিয়েট ৫০টি এবং পিলপিল দেয় ৪৮টি ডিম। ডিমগুলো কেন্দ্রের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সঠিক তাপ ও আর্দ্রতায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং আলোতে রাখা হয়। ৮৪ দিন অপেক্ষার পর রোববার ভোর থেকে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে শুরু করে। তবে ভ্রূণ অনিষিক্ত এবং মৃত ভ্রূণের কারণে ৫১টি ডিম নষ্ট হয়ে গেছে।

জন্ম নেওয়া ৪৭টি কুমির ছানার মধ্যে পিলপিলের ডিম থেকে ২৭টি এবং জুলিয়েটের ডিম থেকে ২০টি বাচ্চা হয়েছে। বাচ্চাগুলোর ৮০ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পুরুষ।

সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের নোনা পানির কুমির সংরক্ষণ এবং প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০২ সালে বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে আট একর জমির ওপর দেশের একমাত্র সরকারি এই কুমির প্রজনন ও লালন-পালন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়।

ওই বছর সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়া ছোট-বড় পাঁচটি লোনা পানির কুমির নিয়ে কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। রোমিও-জুলিয়েটের বয়স এখন ২৮। ২০০৫ সালে এই কুমির জুটি প্রজননক্ষম হয়।

বর্তমানে করমজল কেন্দ্রের পুকুরে দু’টি নারী কুমির জুলিয়েট ও পিলপিল এবং একটি পুরুষ কুমির রোমিও রয়েছে। এছাড়া এই কেন্দ্রে ভারত থেকে আনা মিঠা পানির প্রজাতির (মার্শ ক্রোকোডাইল) দু’টি মেয়ে কুমিরও রয়েছে। এদের প্রতিটির বয়স ২০ বছর।

করমজল কেন্দ্রের হিসাবে, রোববার জন্ম নেওয়া ৪৭টি ছানাসহ এই কেন্দ্রে এখন কুমিরের সংখ্যা মোট ৩০২টি।

৩৬ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর এসব কুমির ছানা নির্ধারিত (চৌবাচ্চা) জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান মো. আব্দুল মান্নান।

এ সম্পর্কিত আরও