বাংলাদেশের জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ছয় খুনি এখনো অধরা

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৫, ২০১৬ at ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

Banggo bandhur khuni

বাংলাদেশের জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ১২ খুনির মধ্যে ছয়জনের রায় এখনো কার্যকর করা যায়নি।

এমনকি এ ছয়জনের মধ্যে চারজনের অবস্থানও এখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাকি দু’জনের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং নূর চৌধুরী কানাডায় আছেন।

তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের একজন সাবেক রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান জার্মানিতে পালিয়ে আছেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া দুই আসামিকে ফেরাতে যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

১৯৭৫ সালে হত্যাকান্ডর পরবর্তী সরকারগুলো বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার না করে বিভিন্ন সময় পুর্নবাসন করেছে। বঙ্গবন্ধুকে খুনের পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ওই হত্যাকান্ডে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে চাকরিও দেওয়া হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুনিদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে ২০১০ সালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।

এ রায় কার্যকরের আগে ২০০১ সালে একজন আসামি আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা যান। বাকি ছয়জন এখনও পলাতক আছেন। তারা হলেন- এম রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, আব্দুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিন খান।

সরকারের তথ্য মতে, রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং নূর চৌধুরী কানাডায় আছেন। খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, আব্দুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিন খান সম্পর্কে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই।

এর মধ্যেও সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, মোসলেহউদ্দিন খান জার্মানিতে পালিয়ে আছেন। তবে জার্মানির কোথায় বসবাস করছেন তার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পলাতক বাকি তিনজনের বিষয়ে নানা তথ্য উঠে আসে। খন্দকার আবদুর রশিদ কোনো সময় পাকিস্তানে কোনো সময় লিবিয়ায়, শরিফুল হক ডালিম পাকিস্তানে, আবদুল মাজেদ সেনেগালে রয়েছেন বলে খবর বের হয়।

১৯৯৬ সালের ০২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ০৮ নভেম্বর তত্কালীন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল মামলাটির রায়ে ১৫ জনকে মৃত্যুদন্ড দেন। নিম্ন আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভক্ত রায় দেন। রায়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম রুহুল আমিন ১৫ আসামির ১০ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন। খালাস দেন পাঁচ আসামিকে। অপর বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ১৫ আসামির সবার মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন।

এ সম্পর্কিত আরও