ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশি খুন: বিচার দাবিতে গগনবিদারী স্লোগান

২০ হাজার ক্ষুব্ধ জনতার স্লোগানে বাংলাদেশি ইমামসহ দুজনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার দাবি উচ্চারিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে। সোমবার দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির ওজোনপার্ক এলাকায় দুদিন আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জি (৫৫) এবং তার সহকারী তারা মিয়ার (৬৪) জানাযার প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত এক শোক-সমাবেশে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়োও বক্তব্য রাখেন।
মেয়র মুসলিম সম্প্রদায়কে নিউইয়র্ক সিটি তথা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন-অগ্রগতির অংশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইসলাম ধর্মে একজন মানুষের মৃত্যু হবার ঘটনাকে শুধুমাত্র সেই পরিবারের ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, পুরো একটি কম্যুনিটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা বহু জাতি ও বহু ধর্মের সম্মিলনে বিশ্বাসী, এরই মধ্যে ইমামসহ এই দুজনকে হারিয়ে গভীরভাবে ব্যথিত।
১৩ আগস্ট যোহরের নামাজ পড়িয়ে ওজোনপার্ক এলাকার আল ফোরকান মসজিদ থেকে সহকারী তারা মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরার সময় ৩৫ বছর বয়েসী এক হিসপ্যানিক ইমাম আকঞ্জি এবং তারা মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। আশপাশের ভিডিও থেকে ঘাতকের ছবি দেখার পর ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার পর ওই ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। তবে তাকে এখনও এই দুই বাংলাদেশি হত্যার জন্যে অভিযুক্ত করা হয়নি। ইমামসহ এই দুজনকে গুলি করে দ্রুত পলায়নের সময় এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেয় দুর্বৃত্তের গাড়ি। এরপর সে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই সাইকেল চালক তার গাড়ির নম্বর প্লেট লিখে পুলিশকে ফোন করেন। একই নম্বরের গাড়ি আরো তিন মাইল দূর কর্তব্যরত পুলিশের গাড়িতেও ধাক্কা দেয় এবং দ্রুত পলায়ন করে। এরপর পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ওই গাড়ি জব্দ করার সময় ড্রাইভারকেও আটক করতে সক্ষম হয়। সে সময় পুলিশের নজর কাড়ে ইমামসহ দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার জন্যে প্রকাশিত দুর্বৃত্তের স্কেচ। পুলিশ ওই ড্রাইভারের ঘরে গিয়ে বন্দুক উদ্ধার করে এবং গুলিবর্ষণকারীর পরনে যে টি শার্ট ছিল, সেটিও পাওয়া যায়। আর এভাবেই ইমাম আকঞ্জি এবং তার সহকারী তারা মিয়ার ঘাতক গ্রেফতারের খুব কাছাকাছি পৌঁছা সম্ভব হয়েছে বলে সিটি মেয়র তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
মেয়র বলেন, ‘শীঘ্রই সবকিছু খোলাসা হবে।’ এদিকে, নিউইয়র্ক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রোববার সন্ধ্যায় বলেছেন, ‘সন্দেহভাজন লোকটিকে এখনও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করার সময় হয়নি। আরো তদন্ত চালানো হচ্ছে।’
এদিকে, জানাযার প্রাক্কালে ইমাম ও তার সহকারীর কফিন সামনে রেখে অনুষ্ঠিত শোক-সমাবেশের কয়েকজন বক্তা উল্লেখ করেন যে, ঘাতক গ্রেফতার হয়েছে এবং সে দোষ স্বীকার করেছে বলে পুলিশ তাদের জানিয়েছেন।
এদিকে জানাযা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কম্যুনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আকতার হোসেন বাদলের নেতৃত্বে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে ফেটে পড়েন সকল মুসলমানরা।  সকলেই স্লোগান দেন ‘উই আর মুসলিম-নট টেররিস্ট’, ‘উই ওয়ান্ট পীচ’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘মসলিম লাইভস ম্যাটার’ ইত্যাদি। এক পর্যায়ে পুরো ওজনপার্ক মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

vomikompo

মাঝারি ভূমিকম্পে নিউ জিল্যান্ড আবারো কেপে উঠল

রিখটার স্কেলে ৫.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে আবারো কেপে উঠল দ্বীপ রাষ্ট্র নিউ জিল্যান্ড। দেশটির সবচাইতে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *