Mountain View

চায়ের দোকানে কাজ করেও সোহেল জিপিএ-৫ পেলেন

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৯, ২০১৬ at ১০:৩২ অপরাহ্ণ

অমিত রাউৎ, বিডি২৪টাইমস.কমঃ নলছিটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সোহেল রানা। সংসারে অভাব ও অনটনের কারণে বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে
কাজ করে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছেন সে।

লেখাপড়ার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। হার না মানা পরিশ্রম ও প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তিই তাকে সফলতা এনে দেয়। সোহেল রানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে চান।

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় তাকে নলছিটির নক্ষত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কলেজের শিক্ষকরা। বাবা মায়ের পরিশ্রম, শিক্ষকদের পরামর্শ ও সহপাঠীদের  সহযোগিতা তাকে সফলতা এনে দিয়েছে।

চায়ের দোকানে বিকিকিনি কম থাকায় মাঝে-মধ্যে একাই কলেজের সামনে ভ্রাম্যমাণ চৌকি বসিয়ে জিলাপি, ছোলা ও পিয়াজু বিক্রি করে সংসারের এবং লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছেন। অনগ্রসর কিছু লোকের মাঝে বসবাস করেও (বস্তিতে) লেখাপড়া করে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

নলছিটি শহরের খাসমহল বস্তিতে ছোট একটি খুপড়ি ঘরে বাসবাস করেন তারা। বাবা মা ও চার ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাই দায়িত্বটাও ছিল বেশি। অনগ্রসর কিছু মানুষের মধ্যে বসবাস করেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ ছিল তার। সংসারে খরচ জোগানোর দায়টা বাবা তোফাজ্জেল হোসেনের একার ওপরই ছিল।

বাবার কষ্টের কথা বিবেচনা করে ছোট থেকেই লঞ্চঘাটে ছোট একটি চায়ের দোকানে বাবার সঙ্গে কাজ করতেন। বাবার কষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে বেশিরভাগ সময়ই দোকানে কাজ করতেন সোহেল রানা। রাতে বাবাকে বিশ্রামের জন্য বাসায় পাঠিয়ে নিজেই সকালের পরোটা তৈরি করতেন। দোকানের কাজ সেরে বাসায় ফিরে লেখাপড়া করতে করতে সকাল হয়ে যেতো। আবার সকালে ঢাকার লঞ্চের যাত্রীদের কাছে চা ও পরাটা বিক্রি করার জন্য ছুটে আসতে হতো দোকানে।

সারা রাত ঘুমোতে পারেননি, এমন সময়ও পার করেছেন সোহেল রানা। পরীক্ষার আগেও ক্লাস শেষ করে অনেক সময় কলেজের সামনেই চৌকি বসিয়ে জিলাপি, ছোলা ও পিয়াজু ভেজে তা বিক্রি করতেন। তবুও থেমে যাননি সোহেল। দরিদ্র্যতা দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। কষ্টের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে এসএসসিতেও জিপিএ ৫ পান।

এ সম্পর্কিত আরও