ঢাকা : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

টানা ৭ বছরের আন্দোলন করেও হল পায়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীরা জানান, সাবেক জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা কয়েক দশক আগে যেসব পরিত্যক্ত বাড়িকে হল বানিয়ে ব্যবহার করতেন, সেগুলোর অধিকাংশই এখনও প্রভাবশালীদের দখলে।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, যে দুটো হল উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো সংস্কারে কর্তৃপক্ষের গা নেই; বন্ধ হয়ে আছে নতুন দুটি হল নির্মাণের প্রক্রিয়াও।

নাজিম উদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কারাগারের জমি বরাদ্দের দাবিতে গত (বুধবার) প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করার পর গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট পালন করে শিক্ষার্থীরা।ধর্মঘটের ডাক রয়েছে রোববারও। ওই দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে উদ্যোগী বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান।তিনি জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত কারাগারে হল নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

“অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ অগাস্ট চিঠি দেওয়া হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে আমাদের দাবিটি বিবেচনা করা হবে। এরপর উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

গত ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই কারাগারের জমি ইজারা চেয়ে আবেদন করেছিল জানিয়ে উপাচার্য বলেন, “এ নিয়ে সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন।”

বেদখল হয়ে আছে আরো ৯টি হলঃ তিন দশক ধরে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থাকা তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের নয়টি আবাসিক হল এখনও প্রভাবশালীরা দখলে রেখেছে।বিভিন্ন সময়ে হিন্দুদের ছেড়ে যাওয়া পরিত্যক্ত ওইসব বাড়িতে শিক্ষার্থীরা এক সময় বসবাস করলেও কাগজপত্র না থাকাসহ নানা জটিলতায় দীর্ঘদিনেও সেগুলো উদ্ধার হয়নি।

আশির দশকের শেষ দিকে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৮৫ পর্যন্ত ওইসব হলে শিক্ষার্থীরা বসবাস করে আসছিলেন। ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলায় স্থানীয়দের সঙ্গে শহীদ আব্দুর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পর তিনটি বাদে বাকি হলগুলো বন্ধ করে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে পাটুয়াটুলীর ওয়াইজঘাট ৮ ও ৯ নম্বর জিএল পার্থ লেইনের ‘তিব্বত হল’ দখলের অভিযোগ রয়েছে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীরা নব্বইয়ের দশকে একবার হলটি ফেরত নিতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

এক  পর্যায়ে স্থানীয়রা ওই ভবনের দোতলায় আগুন দিলে তখনকার অধ্যক্ষ ড. হাবিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনেন।আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম ৮ দশমিক ৮৮৯ কাঠা জমির উপর ওই হলটির জায়গায় ২০০১ সালে ‘গুলশান আরা সিটি মার্কেট’ নির্মাণ করেন নিজের স্ত্রীর নামে।

পার্থ লেইনের বিভিন্ন স্থানে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘তিব্বত হল’ লেখা সাইনবোর্ড দেখা গেলেও শিক্ষার্থীরা আর সেখানে ফিরতে পারেননি।সর্বশেষ ২০১৪ সালে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা হলটি ‘ঘেরাওয়ে’ গেলে পুলিশ লাঠিপেটা ও গুলি করে; ওইদিন শিক্ষক নাসিরউদ্দীনসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

বর্তমানে ওই জায়গায় মার্কেটের পাশে পুরনো হলটির পরিত্যক্ত কিছু অংশ ও ভাঙা দেয়ালসহ কিছু চিহ্ন দেখা যায়।বেদখলে রয়েছে আরমানিটোলার মাহুতটুলির শহীদ আনোয়ার শফিক হলটিও।

শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী রোডের ৪০ কাঠা জমির উপর ওই হল দখলে নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পুরনো ভবন ভেঙে ফেলেন। এখন সেখানে টিন, হার্ডওয়ার ও ফার্নিচারের গোডাউন রয়েছে।হার্ডওয়্যারের দোকান হয়েছে টিপু সুলতান রোডের ১৫, ১৭ ও ২০ যদুনাথ বসাক লেইনের সাইদুর রহমান হলেও। পাশে থাকা রউফ মজুমদার হলেরও একই পরিণতি ঘটেছে।

পাটুয়াটুলীর ১৬ ও ১৭ নম্বর রমাকান্ত নন্দী লেইনে শহীদ আজমল হোসেন হলটি ছিল পুলিশের দখলে। ১৯৯৬ সালে এর একাংশ দখলে নেন স্থানীয় প্রভাবশালী মোশারফ হোসেন খান।

এরপর ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেগম রোকেয়া নামে এক শহীদ পরিবারের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে জায়গাটি দখল করা হয়। ওই পরিবার ছাড়াও হলটিতে বর্তমানে বিভিন্ন সমিতি ও প্রেসের কার্যক্রম চলছে।

তাঁতীবাজার ঝুলনবাড়ী লেইনের শহীদ শাহাবুদ্দিন হলটিও দুই যুগের বেশি সময় ছিল পুলিশের দখলে। ২০০৯ সালের জুনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক এর দখল নেন।হল দুটি উদ্ধারে ২০১৪ সালে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়।

ওই বছর ২ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুব জামিলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজমল হল পরিদর্শন করে দখলদারদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজ দেখতে চান।

ওইদিনই তারা ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল ফজলের কাছে তাদের কাগজপত্র জমা দেন। এরপর ৮ এপ্রিল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ওহিদুজ্জামান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো দেয়নি।”আরমানিটোলা বটতলার এসি রায় রোডের চিন্ময়ী দেবীর বাড়ি ১৯৬৫ সালে অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত হওয়ায় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস বানিয়ে ‘আব্দুর রহমান হল’ নাম দেয়। ওই হলটি বর্তমানে পুলিশের দখলে রয়েছে।২০১৪ সালে আন্দোলনের পর এর মূল ফটক থেকে হলের নামাঙ্কিত সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা হয়।

ওই বছরের ৯ এপ্রিল সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বাধীন বেদখল হল উদ্ধারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন’ কমিটির চতুর্থ সভায় হলের কেয়ারটেকার নাসির উদ্দিন গংয়ের পরিবর্তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কেয়ারটেকার নিয়োগ দিতে বলা হয়।

পরে ১৮ এপ্রিল ভূমি আইনের অধিশাখা-৪ এর অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে হলটির কেয়ারটেকার নিয়োগ দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়।কিন্তু পরে ১২ মে হলটির মালিকানা দাবি করে দাতব্য প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম আপিল করলে হাই কোর্ট স্থিতাবস্থা জারি করে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে আঞ্জুমান হলটির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করে রায় পক্ষে পেলেও ‘জাল’ কাগজপত্র ব্যবহার করায় এর সভাপতি কেএম আকবরের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে শাহবাগ থানায় মামলা হয়।

বংশালের ২৬, মালিটোলায় বজলুর রহমান হলে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে চলছে শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়। ২০১৪ সালের জগন্নাথের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখানে হলের ব্যানার টানিয়ে দিয়েছিল।

এর বাইরে জগন্নাথের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য বানানো পাটুয়াটুলীর ‘কর্মচারী আবাস’ দখল করে ছয়তলা ক্রাউন মার্কেট গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা।

থমকে আছে নতুন হলের নির্মাণের কাজঃ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর জগন্নাথের বেদখল হলগুলো উদ্ধারের দাবিতে প্রথম জোরালো আন্দোলন হয় ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি।পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের পর ওইদিন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রায় প্রতিবছরই হলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ অনুযায়ী বিলুপ্ত কলেজের সব সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে মুসিহ মুহিত অডিট ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফার্মটির অনুসন্ধানে তৎকালীন কলেজের বেদখল হলগুলোর তথ্য বেরিয়ে আসে।পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে হল উদ্ধারে বেশ কয়েকটি কমিটি করা হয়।

এসব কমিটির নথিতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক মাসের মধ্যে জগন্নাথের হল ও বেদখল অন্যান্য সম্পত্তি উদ্ধারে সুপারিশ করতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।

পরে মার্চে ওই কমিটি আনোয়ার শফিক হল, শাহাবুদ্দিন হল, আজমল হোসেন হল, তিব্বত হল ও হাবিবুর রহমান হল বিশ্ববিদ্যালয়কে লিজ দেওয়ার সুপারিশ করে।এর প্রেক্ষিতে ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি লিজের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে।ভূমি মন্ত্রণালয় ওই বছর ৯ জুলাই অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।

জেলা প্রশাসক ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি আইনগত সুবিধার জন্য হলগুলো লিজের পরিবর্তে অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নিতে বলে বিশ্ববিদ্যালয়কে।এরপরও হল না পাওয়ায় বছর বছর আন্দোলনে নামতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

২০১১ ও ২০১৪ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে মালিটোলার ‘ড. হাবিবুর রহমান হল’ ও গোপীমোহন বসাক লেইনের ‘নজরুল ইসলাম হল’ উদ্ধার হলেও তা ব্যবহার উপযোগী করার প্রক্রিয়া এখনও শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ।

টিপু সুলতান রোডের গোপীমোহন বসাক লেইনে নজরুল ইসলাম হলটি ২০১৪ সালের ২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেয় ঢাকা জেলা প্রশাসন।এর আগে ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বংশালের ড. হাবিবুর রহমান হলও তৎকালীন হল উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক নুরুল মোমেনের কাছে বুঝিয়ে দেন জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা।

এছাড়া ৩৫ ও ৩৬ প্যারিদাস রোডের ১ নম্বর ঈশ্বরচন্দ্র দাস লেইনে ১০ কাঠার বাণী ভবনের কিছু অংশ বেদখল হয়ে গেলেও সিংহভাগ দখল করে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা সেখানে বসবাস করছেন।মালিটোলার বজলুর রহমান হলে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে চলছে শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়। ২০১৪ সালে সেখানে হলের ব্যানার টানিয়ে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

হলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও বেদখল হল উদ্ধারের জন্য গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, নতুন হলের কাজ শেষ করার আগে পুরনোগুলোর দিকে তারা নজর দিতে পারছেন না।

অবশ্য নতুন হল নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আগ্রহ আছে’ বলে মনে করছেন না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।তাদের ভাষ্য, দখলে থাকা হলগুলো উদ্ধারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় নতুন হল নির্মাণের ‘মূলা ঝোলায়’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর আর কোনো খোঁজ থাকে না।

নতুন করে দুটি ছাত্রী হল ও একটি ছাত্র হল নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ‘দীর্ঘসূত্রতা’ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরতরা।২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আকন্দের নেতৃত্বে লিয়াকত এভিনিউয়ে ‘পুরনো দখলদারদের’ উচ্ছেদ করে ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হল’ এর ব্যানার টানিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

পরের বছর ২৫ অগাস্ট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠকে ওই জমিতে এক হাজার ছাত্রীর জন্য ২০ তলা দুটি টাওয়ার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।২২ অক্টোবর সেখানে হলের ভিত্তিপ্রস্তর করা হলেও কাজের উদ্বোধন হয় পরের বছরের ২০ অক্টোবর। এরপর দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও হলটির একতলার কাজও শেষ হয়নি।

অন্যদিকে কেরানীগঞ্জে ছাত্রদের জন্য অলাদা হলের ঘোষণা থাকলেও সেখানে কাজ শুরু করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বেদখল হল উদ্ধার, নতুন হল নির্মাণ না হওয়া এবং উদ্ধার হওয়া হলগুলো ব্যবহার উপযোগী না করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে দায়ী করেছেন হল আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক শিক্ষার্থীরা।

হল আন্দোলনের সাবেক সংগঠক ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের সাবেক সভাপতি শরীফুল চৌধুরী বলেন, “কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অনাবাসিক, এটি কল্পনা করা যায় না। তার উপর দীর্ঘ আন্দোলনের পরও হল হচ্ছে না। এজন্য দায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।”

তার মতে, হল না বানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘উচ্চশিক্ষার অনুপযুক্ত’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। “সরকারের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেনদরবার করার সামর্থ্য থাকলে এতদিনে হল হয়ে যেত। কেবল ওদের একার দোষ দিলে ভুল হবে। জগন্নাথে হল নির্মাণে সরকারেরও সদিচ্ছার অভাব আছে।”

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

‘একটি পূর্ণাঙ্গ পটকা মাছের বিষে ৩০ জনের মৃত্যু হতে পারে’

একটি পূর্ণাঙ্গ পটকা মাছের বিষে ৩০ জন মানুষেরও মৃত্যু ঘটতে পারে। পটকা মাছের বিষ সায়ানাইডের …

Mountain View