Mountain View

বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শনে, এফবিসিসিআই এর সদস্য

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২১, ২০১৬ at ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

FB_IMG_1471762310807

বগুড়া সংবাদাতা : বগুড়া জেলার মানুষ হিসাবে দেশ/বিদেশে আমরা যে বিষয় গুলো নিয়ে অহংকার করি তার মধ্যে পুণ্ড্রবর্ধন বা মহাস্থানগড়, ভাসু বিহার, পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মসজিদ, খেরুয়া মসজিদ, ভবানী মন্দির, শান্তাহার সাইলো ও মসলা গবেষণা কেন্দ্র অন্যতম।

বগুড়া জেলার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের সীমানায় প্রবেশ করলে গবেষণার কাজ ও প্রকৃতির অপরুপ মহিমা দেখতে দেখতে কখন যে সময় শেষ হয়ে যাবে আপনি বুঝতেও পারবেন না ।

গত শুক্রবার সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এমনই মনমুগ্ধকর ভ্রমনে বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্রে এসেছিলেন এফবিসিসিআই এর ট্যুরিজ্‌ম স্ট্যান্ডিং কমিটির মেম্বার ও বগুড়া ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এর সিইও শহিদুল ইসলাম সাগর।

সাথে ছিলেন বগুড়া উদীচীর রবিউল ইসলাম রাজু, বগুড়া আজিজুল হক কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মোঃ রতন হোসেন, আরিফুল ইসলাম সহ ৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল।

আসলে প্রকৃতি ও পর্যটন একে অপরের সাথে এক ও অভিন্ন রুপ এবং সেই সাথে বগুড়াবাসীর প্রাণবন্ত রুপ দেশে/বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতেই মুলত তাদের ভ্রমনের কারন ছিল। জনাব সাগরের এর সাথে কথা বলে জানা গেল, গত ফেব্রুয়ারি ২০১৬ থেকে বগুড়া জেলার পর্যটন শিল্পের প্রচারের জন্য নিরালস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার মতে মসলা কেন্দ্রটি এডুকেশন ট্যুরিজ্‌ম এর জন্য অন্যতম এক মাইল ফলক। আমরা বগুড়াবাসী জনাব সাগরের এই কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানাই।

পরিশেষে বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বৃত্তান্ত তুলে ধরা হলঃ বাঙালির রসনাবিলাসের ইতিহাস বেশ পুরনো। আর এ কারণেই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে রকমারি রান্নার খ্যাতি। আর পেছনের রহস্য, রান্নায় বাহাড়ি সব মসলার ব্যবহার।তবে বেশিরভাগ মসলাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

এই আমদানি নির্ভরতা কমাতে বগুড়ায় প্রতিষ্ঠা করা হয় মসলা গবেষণা কেন্দ্র। ১৭ জাতের মসলা গবেষণা করে ২৬টি নতুন জাত উদ্ভাবনের সাফল্য অর্জন করেছে এই কেন্দ্র। এটি দেশের একমাত্র মশলা গবেষণা কেন্দ্র।

১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধীনে বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করা হয়। উদ্দেশ্যে, দেশেই উৎপাদন বাড়িয়ে বিদেশ থেকে মশলার আমদানি কমিয়ে আনা। দেশে ৩২ লাখ মেট্রিকটন চাহিদার বিপরীতে এই উৎপাদন মাত্র ১৮ লাখ মেট্রিকটন। চাহিদা বাঁকীটা আমদানি করতে হয়। সেসঙ্গে চাষ না হ্ওয়া মশলাতো রয়েছেই। তাই মশলা চাষে আশার বাতিঘর এই গবেষণা কেন্দ্র।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ প্রকার মশলার চাষ নিয়ে গবেষণা করে গ্রীষ্মকালীনসহ পেঁয়াজের ৫টি জাত উদ্ভাবন করেছে এই প্রতিষ্ঠান। সফলতা দেখিয়েছেন ৬ প্রকার মশলার চাষে। এছাড়া দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতার চাষ পদ্ধতি নিয়েও কাজ চলছে। মশলা গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত জাতগুলো কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানালেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আবহাওয়া ও মাটির গঠন আলাদা হ্ওয়ায় এই কেন্দ্রের আওতায় খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা, মাগুরা, সিলেটের জৈন্তাপুর, লালমনিরহাট, ফরিদপুর ও জয়দেবপুরে গবেষণা উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে সময়ের তুলনায় গবেষণা কেন্দ্রটির আরো অবদান রাখার সুযোগ ছিলো মন্তব্য কৃষি গবেষকদের।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View