ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

একবার দুইবার নয় ,১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়

21 august 12 yeras

আজ ভয়াল সেই ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এই দিনে হত্যার চেষ্টা করা হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের সৃষ্টি করা মানবঢালের কারণে এবং মহান আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে বেঁচে যান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার দগদগে স্মৃতি একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা।

কিন্তু এটাই কি প্রথম? নিশ্চয়ই নয়।

সেই ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির কলঙ্কময় দিনটিতে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিপারে নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হলেও বিদেশে অবস্থান করার কারণে সে রাতে বেঁচে যান দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

কিন্তু ঘাতকের চোখ শেখ হাসিনার ওপর থেকে সরে যায়নি। তারই সবশেষ আঘাত আসে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে। কিন্তু তার ওপর আগেও এসেছে অনেক হামলা।

গুনে গুনে সে হামলা হয়েছে ১৯ বার। আর তার প্রতিটিই ছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে। সংবাদপত্রের খবর দেখে, নথি ঘেঁটে সেই সব হামলার খবর সামনে আনতে চেষ্টা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল।

তিনি জানান, প্রথম আঘাতটি আসে  ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে।  ৮ দলীয় জোটের মিছিলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গুলি চালানো হয়।  পুলিশ ও বিডিআরের চালানো সেই গুলিতে ৭ জন নিহত ও তিন শত আহত হয়।সেদিন শেখ হাসিনা দুপুর ২টায় পতেঙ্গা বিমান বন্দর থেকে মিছিল নিয়ে লাল দীঘি ময়দানের কাছে পৌঁছালে মেট্রোপলিটন পুলিশের দাঙ্গা দমন বাহিনী ও বিডিআর টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে শুরু করে।

একইসঙ্গে শুরু হয়, লাঠি চার্জ, এরপর গুলিবর্ষণ। তাতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেদিন অল্পের জন্য রক্ষা পান শেখ হাসিনা।

এর দেড় বছরের কিছুটা বেশি সময় পর  ১৯৮৯ এর ১১ আগস্ট দ্বিতীয় হামলাটি হয়। এই হামলা হয় ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে। রাত ১২টার দিকে ফ্রিডম পার্টির একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর ওই হামলার সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাসভবনেই ছিলেন।

হামলাকারীরা ৭/৮ মিনিট ধরে বঙ্গবন্ধু ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালায় ও একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে সে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয় নি।

এর দুই বছর পর ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর  বেলা আড়াইটার দিকে ধানমন্ডি স্কুলে উপ নির্বাচনের ভোট দিয়ে গ্রিনরোডে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ভোটের পরিস্থিতি দেখতে যান শেখ হাসিনা। সেখানে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির একদল কর্মী  গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ শুরু করে। ২০/২৫ রাউন্ড গুলি ও বোমাবর্ষণ শুরু হয়।

শাকিল জানান এর তিন বছর পর ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটিতে যশোর, দর্শনা, কুষ্টিয়া ঈশ্বরদী, নাটোর ও সান্তাহারে জনসভা করছিলেন শেখ হাসিনা। সেদিন ঈশ্বরদী ও নাটোর রেল স্টেশনে ঢোকার মুখে তাকে বহনকারী রেল গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি হয়। তিনি বলেন, নাটোর স্টেশনে সমাবেশ পণ্ড- করার জন্য আগে থেকে অসংখ্য বোমা ফাটানো হয়। উদ্দেশ্য একটাই শেখ হাসিনাকে হত্যা।

মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, আমরা দেখেছি এই হত্যার চক্রান্তকারীরা মোটেই দমে যায়নি। বার বার চেষ্টা চালিয়েছে। আর শেখ হাসিনার ওপর পঞ্চম আঘাতটি আসে ১৯৯৫ এর ৭ ডিসেম্বর।

ওই দিন ৩২ নম্বরের খুব কাছে শেখ রাসেল স্কোয়ারে সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সমাবেশেও শেখ হাসিনার উপর গুলিবর্ষণ করা হয়।

এর মাত্র তিন মাসের মাথায় ফের হামলার টার্গেট হন শেখ হাসিনা। সেদিন ছিলেন ১৯৯৬ এর ৭ মার্চ।বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সেই ভাষণের দিন। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৭ই মার্চের ভাষণের স্মরণে বক্তৃতা করেন।

সেই সময়ের ডাকসাইটে ছাত্রনেতা শাকিল বলেন, সেই সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা ঠিক তার বক্তৃতা শেষ করার পরপরই আকস্মাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ চলতে থাকে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়।

পরের ঘটনাটি ছিলো হত্যার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র। শাকিল বলেন সেটি ১৯৯৯ সাল তখন শেখ হাসিনা নিজেই ক্ষমতায়। দেশ পরিচালনা করছেন অত্যন্ত দক্ষ হাতে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার একটি পরিকল্পনা ফাঁস হয়।

মাহবুবুল হক শাকিল জানান, ১২ জুলাই ১৯৯৯ তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠে ওই পরিকল্পনা ফাঁসের খবরটি প্রকাশিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পুত্রকন্যাসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার একটি ই-মেইল  চালাচালির খবর আসে।

এতে জানানো হয় ওই ইমেইলটি পাঠিয়েছিলেন ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী। শেখ হাসিনাকে হত্যা, গণতন্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং বিদ্বেষ সৃষ্টির লক্ষ্যে ই-মেইল পাঠানোর অভিযোগে শোয়েব চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছিল।

তবে ওই সময় পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও আলোচিত হত্যা চক্রান্তটি হয় তারও এক বছর পর ২০০০ সালের ২০ জুলাই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভাস্থলের অদূরে ও হ্যালিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখে। এই বোমা গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জনসভাস্থল। তা ডেকে আনতে পারতো শেখ হাসিনার মৃত্যু।

মাহবুবুল হক শাকিল জানান, আবার প্রায় বছর খানেক পর ২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জঙ্গি সংগঠস হুজি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানেও বোমা পুঁতে রাখে যা গোয়েন্দা পুলিশ তা উদ্ধার করে। হুজি এই হামলার চেষ্টার কথা পরে স্বীকার করে।

মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে ফের সক্রিয় হয় হুজি। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিলেটে আলীয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থানে হুজির পুঁতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটে ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল।

নির্বাচনী প্রচারাভিযানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওই দিন সিলেট গিয়েছিলেন। সেই রাতে ৮ টার দিকে জনসভা স্থল থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়।

নির্বাচনী জনসভার আগেই বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টা, বলেন মাহবুবুল হক শাকিল। তিনি জানালেন, এই দফায়ও হরকাতুল জিহাদ হুজি এই বোমা হামলার দায় পরে স্বীকার করে।

২০০২ এর ৪ মার্চ যুবদল ক্যাডার খালিদ বিন হেদায়েত নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে তৎকালীন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। এখবরও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।

তবে তার মতে ২০০২ সালের হামলাটি ছিলো আরও বেশি পরিকল্পিত। সেদিন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়। শাকিল বলেন, সেটি ছিলো ২৯ সেপ্টেম্বর।

বিএনপি-জামাত নেতা-কর্মীরা সাতক্ষীরার কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তখনকার সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ওই হামলা চালায়। ক্ষমতাসীন জোটের এমপির প্রত্যক্ষ মদদে সেবার জোট সন্ত্রাসীরা শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালায় বলেই মনে করেন মাহবুবুল হক শাকিল।

ওই হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে একডজন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন।

২০০৪ সালে শেখ হাসিনার ওপর প্রথম হামলাটি হয় ২ এপ্রিল বরিশালে। সেদিন জেলার গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-বিএনপির ঘাতক চক্র। আর  ২১ আগস্ট হলো সেই ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলা।

দিনটির কথা স্মরণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশস্থলে গ্রেনেড হামলার সেই দগদগে স্মৃতি কারো মন থেকে মুছে যাওয়ার কথা নয়।

এতে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেতা অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও আকস্মিক এই হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুরর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান এবং আরও ২৩ জন নেতাকর্মী নিহত হন। এ ছাড়াও এই হামলায় আরও ৪শ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।

অনেকেরই ধারণা ২০০৪ সালের পর শেখ হাসিনার ওপর আর কোনও আঘাত আসে নি। কিন্ত সেটা ঠিক নয়। মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আড়ালে যে সেনা সমর্থিত অপশাসন দেশে চলছিলো তারই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার হন শেখ হাসিনা। আর সুনির্দিষ্ট খবর রয়েছে সাব জেলে খাবারে স্লো পয়জনিং এর মাধ্যমে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

তিনি জানান  শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই অন্যায়ভাবে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়। ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা সব জানতেন।

গ্রেফতারের জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব-জেলে স্থানান্তর করা হয়। সেসময় শেখ হাসিনার খাবারে ক্রমাগত বিষ দিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। স্লো পয়জনিং এর কারণে সেখানে আটক থাকাকালে শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ জুন এগারো মাস কারাভোগের পর শেখ হাসিনাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

২০১১ সাল। শাকিল বলেন, দেশকে একটি উন্নত বাংলাদেশের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্ব সরকার নানা অর্জনে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করছে। ঠিক এমনই সময় শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সাথে বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র এবং আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে এবং সেজন্য আগাম পেমেন্টও দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন শাকিল।

তিনি জানান, শ্রীলংকার সেই সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের আততায়ীদের টিম গাড়ি করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনাটি।মাহবুবুল হক শাকিলের মতে, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছিল যা পরে ব্যর্থ হয়ে যায়।

বিশ্বজুড়ে তথ্য ফাঁসে আলোচিত প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস প্রকাশিত সৌদি আরবের এক গোপন বার্তায় দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লে. ক. শরিফুল হক ডালিম এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন, তিন দেশে বসে এ অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা চলছিল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্য এতে জড়িত ছিলেন। শুধু তাই নয়, হংকংয়ে বসবাসরত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এ পরিকল্পনায় অর্থায়ন করেন বলে গোপন বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশিত নথি অনুসারে, বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে (আরবি ২৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৩৩ হিজরি) দেশটির পররাষ্ট্র দফতরে আরবি ভাষায় পাঠানো ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ ওই নথিতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ব্যর্থ করে দেয়া এক সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা হয়েছিল হংকং, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় বসে।

নথিতে বলা হয়েছে, তিন দেশ হংকং, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বসে ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয় যার সমন্বয় করছিলেন শরিফুল হক ডালিম যিনি তখন আফগানিস্তানে অবস্থান করছিলেন। পাশাপাশি এ ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টায় এ পরিকল্পনায় খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ও জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জানা যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে এবং ভারত এজন্য খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকেও অভিযুক্ত করেছে বলে ওই সৌদি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় হংকংয়ে বসবাসরত একজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ অর্থায়ন করেন বলে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি (ইশরাক আহমেদ) নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ করে দেয়া ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা প্রকাশ করে।

২০১৪ সালের শেষে দিকে প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গি দ্বারা মানব বোমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার একটি চেষ্টা হয় বলেও নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দারা। পরে তা অনেকটা প্রকাশ্যও হয়।

মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, এইতো সেদিনের ঘটনা। সকলেরই জানা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার জঙ্গি শাহানুর আলম ওরফে ডাক্তার। রাজীব গান্ধী হত্যাকান্ডের মতো নারী ‘মানববোমা’ ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা হয়েছিলো।

এজন্য ভারতে দুটি মাদ্রাসায় নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৫০ জন নারী ও ১৫০ জন যুবককে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। এদের নেতৃত্বে রয়েছে ১৩ জঙ্গি দম্পতি। বাংলাদেশে সেই সময় প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

আর সবশেষ আঘাতের চেষ্টাটি হয় এবছরের ৭ মার্চ। সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা করে তাঁকে হত্যার চেষ্টা চলে। মাহবুবুল হক শাকিল জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সময়ে কাওরানবাজারে তাঁর গাড়িবহরে বোমা হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে (জেএমবি) জঙ্গী গোষ্ঠী।

শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কাওরানবাজার এলাকায় পর পর কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়। বর্ধমান খাগড়াগড় থেকে পালিয়ে আসা জেএমবির জঙ্গীরাই প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে বোমা হামলা চালায় বলেই তখন গোয়েন্দা তথ্য মেলে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও তার বিভিন্ন বক্তৃতায় এই উনিশ দফা হামলার কথা বলেন। তিনি বলেন, মৃত্যুকে ভয় তিনি পান না। দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রাণ দিতেও প্রস্তুত।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

b78f99f5defe0cd0e3cc536e71f0fbbax600x400x35

সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়াসহ সবার কবর সরানো হবে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। লুই আই কানের নকশা …

Mountain View