Mountain View

নেইমারই আসল নায়ক

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২২, ২০১৬ at ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

দেশকে সোনার উল্লাসে মাতিয়ে সমালোচকদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন নেইমার। এরপর সবাইকে অবাক করে ঘোষণা দিয়েছেন অধিনায়কত্ব ছাড়ার। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এনে দিয়েছেন অলিম্পিক শ্রেষ্ঠত্ব। এবার হয়তো নেতৃত্ব ছেড়ে নির্ভার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামতে চান তিনি। শনিবার রাতে অলিম্পিকের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দিল ব্রাজিল। শতবর্ষী মারাকানার বুক থেকে মুছে গেল অশ্রুর দাগ।

টাইব্রেকারে শেষ শটটি যখন নিতে যাচ্ছিলেন নেইমার নীরব প্রার্থনায় মগ্ন ফুটবলপাগল গোটা ব্রাজিল তখন তাকিয়ে তার দিকে। ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন নেইমার। প্রত্যাশার ভয়ংকর চাপ আর আশা-নিরাশার দোলাচলে তখন হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার উপক্রম! গোল করতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর ব্যর্থ হলে চিরদুঃখী মারাকানায় রচিত হতে পারে সেলেকাওদের আরেকটি শোকগাথা।

না, এবারও ব্যর্থ হননি নেইমার। ঠাণ্ডা মাথায় সোজা জার্মানির জালে বল পাঠিয়ে ব্রাজিলের জন্য বাধা হয়ে থাকা অলিম্পিক রহস্যের জট খুলে দিলেন দেশটির সোনার ছেলে। সঙ্গে সঙ্গে গর্জে উঠল মারাকানার ৭৮ হাজার উন্মাতাল দর্শক। আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার, ‘চ্যাম্পিয়ন’। সঙ্গে ওলে, ওলে, নেইমার। যেন শাপমুক্ত হল ব্রাজিল। সোনার ছেলের হাত ধরেই এলো অলিম্পিক ফুটবলে ব্রাজিলের আরাধ্য প্রথম স্বর্ণ।

ফুটবলপাগল এই জাতিকে এবার আর বিষাদে ডোবাতে চাননি ফুটবল-বিধাতা। রিওর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রাইস্ট দ্য রেডিমারের মূর্তি যেন তার অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে আগলে রেখেছিল ব্রাজিলের গোলপোস্ট। প্রথমার্ধেই জার্মানির দুটি আক্রমণ প্রতিহত হয়েছে ব্রাজিলের পোস্টে। তবে ম্যাচে আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদেরই। ২৭ মিনিটে নিজের আদায় করা ফ্রিকিকে দুর্দান্ত এক গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন নেইমার। উল্লাসে ফেটে পড়ে মারাকানা। ৭৮ হাজার দর্শকের মাঝে ছিলেন উসাইন বোল্টও। স্প্রিন্ট সম্রাটের সম্মানে বোল্টের ভঙ্গিতেই গোল উদযাপন করেন নেইমার। কিন্তু ৫৯ মিনিটে জার্মান অধিনায়ক ম্যাক্সিমিলান মেয়ারের সমতাসূচক গোল থামিয়ে দেয় সেই উল্লাস। নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও জার্মানির গোলমুখ আর খুলতে পারেনি ব্রাজিল। কিন্তু টাইব্রেকারের ভাগ্যের খেলায় জার্মানিকে কাঁদিয়ে শেষ হাসি হাসে ব্রাজিলই।

ফুটবল-বিধাতা যেন আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন, স্বপ্নসারথির মাধ্যমেই তিনি উৎসবের উপলক্ষ এনে দেবেন ব্রাজিলকে। অলিম্পিক শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে মিলবে প্রতিশোধের তৃপ্তিও। ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকা ১২০ মিনিটের থ্রিলারে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন নেইমারই। পরে টাইব্রেকারেও নায়কও সেই নেইমার। এই জয়ে অনেক হিসাব চুকিয়ে ফেলল ব্রাজিল। দুই বছর আগে নিজেদের আঙিনায় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে চূর্ণ হওয়ার প্রতিশোধ। অলিম্পিক ফুটবলে প্রথমবারের মতো স্বর্ণজয়। পাশাপাশি নিজেদের ফুটবল তীর্থকে শাপমুক্ত করা। সবই হলো সেদিন মারকানায়।

এ সম্পর্কিত আরও