ঢাকা : ২৪ মার্চ, ২০১৭, শুক্রবার, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

অবশেষে দৃশ্যমান পদ্মার বুকে স্বপ্নের পিলার

poddar piler

উত্তাল পদ্মার বুকে কড়া রোদ। মাঝে মধ্যে হচ্ছে বৃষ্টি। আবার কখনও নদীর ওপর আছড়ে পড়ছে উত্তাল ঢেউ। সেই ঢেউ মাড়িয়ে জাজিরা পাড়ে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতুর পাইলিং কাজ।

তবে এই ঢেউয়ের কারণেই মাওয়া পাড়ে পাইলিং কাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। জাজিরা পয়েন্টে তুলনামূলক ঢেউ কম থাকায় ছয়টি পিলারের কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুত গতিতে।

সরেজিমন ঘুরে দেখা যায়, জাজিরা পাড়ে ছয়টি পিলারের কাজ প্রায় সম্পন্ন। এবার মাওয়া পাড়ে আবারও শুরুর অপেক্ষায় পাইলিং কাজ। নদীর জাজিরা পাড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। পাইলিংয়ের কাজ প্রায় শেষ হলেও, টুকটাক কর্মের খট খট শব্দে মুখরিত চারদিক।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মাসেতু ৪২টি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে।জাজিরা পাড়ে গিয়ে দেখা গেলো ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ এবং ৪২ নম্বর পিলারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সব থেকে ৩৭ নম্বর পিলারের কাজ বেশি এগিয়েছে।

স্বপ্নের এই পিলার ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। ১২০ মিটার মাটির নিচে পাইলগুলো নামানোও শেষ পর্যায়ে। অনেক স্থানে জয়েন্ট করা হচ্ছে পাইলিং। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতা সম্পন্ন জার্মান প্রযুক্তির হ্যামারও এখন জাজিরা পাড়ে। ২ হাজার ৫শ’ টন ওজনের আঘাত হানতে সক্ষম হ্যামারটি।

ধীরে হলেও মাওয়া পাড়ে ছয়টি পিলারের কাজ এগিয়ে চলেছে। এখানে সেতুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (এমবিইসি) হাং ইউ বিং, ওয়াং ডং হুং ও সিজিয়াম ডং নামের তিনজন চায়নিজ প্রকৌশলী কাজ করছেন।

তারা জানান, ছয়টি পাইলিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ডিসেম্বর মাসের আগেই এগুলোর কাজ সম্পন্ন হবে। এখন শেষ মুহুর্তের ফিনিশিং কাজ চলছে। পাইলিংয়ের পরে ময়লা মাটি পরিষ্কার করা হবে। পরে রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করে হবে ঢালাই। এগুলোর জন্য খুব একটা সময় লাগবে না।

পাইলিংয়ের কাজ এগিয়ে নিতে চায়না প্রকৌশলীদের কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশীয় শ্রমিকেরা। এসব শ্রমিকদের দলপতি কবির হোসেন।

সবার কাছে ফোরম্যান নামে পরিচিত। তিনি কুষ্টিয়া লালন শাহ সেতু নির্মাণেও এমবিইসি কোম্পানিতে চাকরি করেছিলেন। চায়না প্রকৌশলীদের সঙ্গে থেকে ভাষা থেকে শুরু করে সব কিছুই দখলে নিয়েছেন কবির।

তিনি বলেন, আগে শুধু পাইলিং করে গেছি। কিন্তু এখন পিলার দেখা যাচ্ছে। ৩৭ নম্বর পিলারের কাজ শেষ পর্যায়ে। কয়েক মাস পরেই এই পিলারের কাজ সম্পন্ন হবে।

অন্যদিকে মাওয়া পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে লাইটারেজ ট্যাঙ্কার। পদ্মাসেতু নির্মাণের কিছু সুপার স্ট্রাকচার (স্পান) মাওয়া ঘাটে পৌঁছেছে লাইটারেজ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে। এগুলো চীন থেকে তৈরি করা হয়েছে।

দুইদিন আগে স্প্যানগুলো খালাস করে পদ্মসেতু প্রকল্প এলাকায় রাখা হয়েছে। স্প্যানগুলো এক পিলার থেকে অপর পিলারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। তবে সুখবর হলো চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই দুটি স্পান স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে ডিসেম্বরে অন্তত দুটি স্প্যান স্থাপন করবো। দুটি পিলারের মাথায় স্প্যান স্থাপন হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে সফল হতে পারবোই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মাওয়া পাড়ের থেকে জাজিরায় কাজের অগ্রগতি বেশি। পদ্মাসেতু হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে নতুন রেলওয়ে সংযোগ স্থাপনের লক্ষে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ।

এই প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। ফলে ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে খুলনা-যশোরে রেলপথে চলাচল হবে।

জাজিরা পাড়ে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, ভূমিতে পদ্মাসেতু রেল সংযোগের জন্য আলাদা লেন বের করা হয়েছে। এটি মূলত পদ্মাসেতুতে মিলিত হবে। মূল সেতুর পাশাপাশি নদীশাসন, পদ্মাসেতুর উভয় প্রান্তে পুনর্বাসন ও সার্ভিস এরিয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্লট হস্তান্তরের কাজও সমানতালে এগিয়ে চলেছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

নৌকা-ধানের শীষের প্রচারণা অব্যাহত

আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির মনিরুল হক সাক্কু আর …