ঢাকা : ২৫ মে, ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলনে অনিশ্চয়তার মেঘ

saarc

ঘনিয়ে আসছে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের দিনক্ষণ। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের জোটটির এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধসহ বেশ কিছু ইস্যুতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব সার্ক সম্মেলনের আকাশে কালো মেঘের জন্ম দিয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান বৈরী সম্পর্ক সে মেঘকে আরও ভারী করে তুলেছে। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট সার্কের ১৯তম সম্মেলন।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এসব বৈরিতা কাটিয়ে আসছে নভেম্বরে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ কিংবা ভারত যোগ দেবে কি-না তার ওপরই ঝুলছে সার্ক সম্মেলনের ভবিষ্যত। সার্কের নিয়ম অনুসারে, যেকোনো একটি সদস্য দেশ অংশ না নিলে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় না। তবে বাংলাদেশ এখনই কোনো ঘোষণা দিতে চায় না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নভেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আগে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। সর্বশেষ অক্টোবরে অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও যোগ দেবেন না বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ভারতও জানিয়েছে, এ বৈঠকে অংশ নেবেন না দেশটির অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সার্ক সম্মেলন বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়তে যাচ্ছে। সম্প্রতি, যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতে পাকিস্তানের নগ্ন হস্তক্ষেপ, জঙ্গিবাদে সহযোগিতার দায়ে ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসের এক কূটনীতিককে বহিষ্কার ও পরে এক কর্মকর্তাকে আটক এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব আসছে। সব মিলিয়ে চলছে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের টানাপড়েন।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের জন্মদিনে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করলেও গত কিছু দিন ধরে দু’দেশের মধ্যে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কাশ্মীর ইস্যু।

এর আগে দু’দেশের মধ্যে কার্গিল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সার্ক শীর্ষ বৈঠক স্থগিত রাখতে হয়েছিলো।

বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতার কারণেই সক্রিয় হতে পারেনি সার্ক। তারপরও সব বৈরিতা কাটিয়ে হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে এগোচ্ছে সংস্থাটি। যা এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তবে দ্বিপাক্ষিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে সার্কের মতো প্লাটফর্মকে প্রভাবিত করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যদি বৈরী থেকেও থাকে, তার শিকার সার্ক হওয়াটা ঠিক হবে না। সম্মেলনটা যেখানেই হোক না কেন’।তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক অন্যতম প্লাটফর্ম। সম্পর্কে উত্থান-পতন, চড়াই-উৎরাই হতেই পারে। সার্ককে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হবে’।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক সম্প্রতি কিছুটা খারাপ যাচ্ছে। তবে হঠাৎ করেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তাই সার্কের বিষয়টি এখন আর বাংলাদেশ পাকিস্তানের মধ্যে থাকছে না। শুরু থেকে যেমন ভারত-পাকিস্তানের কারণে যেমন সার্ক অচল হয়ে আছে, এটা তার সর্ব সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হতে পারে। এটি একমাত্র কিংবা সর্বশেষ উদাহরণ নয়’।

তিনি বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে- সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। অর্থাৎ মতবিরোধ থাকলেও দু’দেশের সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলাতে পারে। আমরা আশা করবো- সব বৈরিতা কাটিয়ে সার্ক এগিয়ে যাবে’।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

আজ জাতীয় কবির জন্মদিন

ডেস্ক রিপোর্ট, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : অসাম্প্রদায়িক বাঙালির প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী …