ঢাকা : ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন জবাব দেয়ার পালা এখন বাংলাদেশের

CARDIFF,  UNITED KINGDOM - JUNE 18: Mashrafee Bin Mortaza of Bangladesh celebrates the wicket of Adam Gilchrist of Australia during the NatWest Series One Day International between Australia and Bangladesh played at Sophia Gardens on June 18, 2005 in Cardiff, United Kingdom (Photo by Hamish Blair/Getty Images) *** Local Caption *** Mashrafee Bin Mortaza;Adam Gilchrist

বাংলাদেশের ক্রিকেট যখন স্বপ্নের সময় কেবলই ছুঁয়ে দেখছিল, ঠিক তখনই নিরাপত্তার ইস্যুতে এক ঘরে হয়ে যাওয়ার শঙ্কা-মেঘ ভর করে আকাশে। দিন যত যাচ্ছিল, সেই শঙ্কা ক্রমশই বাড়ছিল।

তবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইংল্যান্ড তার পূর্ব নির্ধারিত সূচিতে বাংলাদেশে আসতে সম্মত হয়েছে; যাতে অন্তত কালো মেঘই দূর হচ্ছে না অনেক প্রশ্নের একটা জবাবও দিতে পারছে বাংলাদেশ। এছাড়া ব্রিটিশদের খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়াকে একটা জবাবও বটে, এমন মতও অনেক ক্রিকেট পাগল বাঙালির।

গত বছর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছিল। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতেও আয়োজক বাংলাদেশে টিম পাঠায়নি অজিরা। এরপর থেকে বাংলাদেশের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ, পত্র-পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশ করেছেন তাদের ক্ষোভ।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর এই প্রতিবাদে আরও লাগে হাওয়া। এতে উঠে আসে- বড় বড় হামলা যেখানে হয়, সেখানে খেলা ঠিকই চলতে পারে, আর ছোট্ট এক হামলাতেই সব দোষ বাংলাদেশের!

২০১৫ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সের প্যারিসে ভয়াবহ হামলা চালায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তার আট মাসের মাথায় ফুটবলের জনপ্রিয় আসর ইউরো কাপ তো সফলভাবেই শেষ করলো দেশটি। তবে কেন বাংলাদেশে এলো না অজিরা!

তবে এবার ইংল্যান্ড দল তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সে মোতাবেক এলো সবুজ সংকেতও।

তবে ইংল্যান্ডে ক্রিকেট বোর্ড স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছে খেলোয়াড়দের, ব্যক্তিগতভাবে কোনো ক্রিকেটার চাইলে সরে দাঁড়াতে পারবেন বাংলাদেশ সফরের স্কোয়াড থেকে। এতে হয়তো দু’একজন তারকা খেলোয়াড়ের সাক্ষাৎ নাও পেতে পারে বাংলাদেশি সমর্থকরা তবুও দেশের মাটিতে তো ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

খেলা হচ্ছে ফের, কাটছে মন্দা- এটাই তো বড় কথা!এসব বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার, সাবেক ক্রিকেটার আতাহার আলী খান বলেন, অনেক বেশি বিশ্বাস তারা আমাদের করেছে। এখন আমাদের সেই বিশ্বাস অর্জন করে প্রমাণ করতে হবে যে বাংলাদেশে পুরোদমে ক্রিকেট খেলা হতে পারে।

তাদের খেলতে আসার সংবাদটি স্বস্তির জানিয়ে আতাহার বলেন, অনেক বেশি আনন্দের সংবাদ এটি। আমরা চাই এই আনন্দকে ধরে রাখতে। আর নিরপত্তা ইস্যুতে খেলাধুলা কোনোভাবেই বন্ধ থাকতে পারে না।

তবে তিনি নিরাপত্তার ইস্যুকেও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী এলে যেমন কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হয়; তেমনই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে ইংল্যান্ড সফরে। তাদের প্রতিটি ক্রিকেটার-টিম ম্যানেজমেন্টকে কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এ জন্য বিসিবি প্রস্তুত বলেই আমি জানি।mash eng

এটা একটা বিশাল দায়িত্ব, যে দায়িত্ব নেওয়ার জন্যই আমরা অস্ট্রেলিয়া সফরের আগ থেকে বলে যাচ্ছিলাম। এবার অন্তত তা পালন করে নিরাপত্তা ইস্যুতে আমাদের জবাব দিতে পারবো।

বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্তে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ইতোপূর্বে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ইসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

পাপন বলেছেন, আমি ইংল্যান্ড দলের ক্রিকেটার আর তাদের বোর্ডকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সঙ্গে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় ইংলিশরা খেলতে আসতে রাজি হয়েছে।

সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আকরাম খান বলেছেন, আমরা দারুণ খুশি। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক খেলার পরিবেশ আছে ইসিবির এই সিদ্ধান্তে তা ফের প্রমাণিত হলো।

ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফ সংবাদ করেছে, অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ড যদি বাংলাদেশে সফর বাতিল করতো তবে অন্য দেশকেও তা প্রভাবিত করতো। তারাও আসতে চাইতো না আর।

সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর একটি দেশের ক্রিকেটের মর্যাদারও বটে। তবে এতে খেলার ফলাফল নয়, সফলভাবে সিরিজ সম্পন্নই দিনের শেষে বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ওয়ানডে হবে ৭ অক্টোবর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডে ৯ অক্টোবর। তৃতীয় ওয়ানডে ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এছাড়া প্রথম টেস্ট ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রামে।

দ্বিতীয় টেস্ট ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। সবগুলো ওয়ানডে ম্যাচ দুপুর ১টায় আর সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে টেস্ট।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

20161202_100329

অসাধারণ ‘ডাবল’ অর্জনের সামনে তিন ইংলিশ

এমন একটি ‘ডাবল’ যেটি ক্রিকেট ইতিহাসের কোনো দেশের দুই ক্রিকেটার একই বছরে অর্জন করতে পারেননি। …

Mountain View