Mountain View

আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিলো তাই সফল অভিযান হয়েছে

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৭, ২০১৬ at ২:১৫ অপরাহ্ণ

CYMERA_20160827_141027

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় কাউন্টার টেরোরিজম অভিযান হিট স্ট্রং-২৭ এ সাম্প্রতিক সকল জঙ্গি হামলার হোতা তামিম চৌধুরী নিহত হয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তামিম চৌধুরীর চ্যাপ্টার এখানেই শেষ।

আজ (শনিবার) ২৭ আগস্ট সকালে ওই অভিযানে তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত হন। এর পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপন তথ্যেই জানা গিয়েছিলো, তামিম চৌধুরী এখানে রয়েছেন। তার ভিত্তিতেই সোয়াটসহ যৌথ বাহিনীর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্বরাষ্টমন্ত্রী জানান, গুলশান হামলার পেছনে ছিলেন তামিম চৌধুরী। ওই হামলার পরিকল্পনা তার, অর্থায়নও করেছিলেন। তিনি কানাডিয়ার নাগরিক। সারা পৃথিবীতে নাশকতা কিরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, তামিম চৌধুরী এ বাড়িটিতে আত্মগোপন করে আছেন। গোপন ওই সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে রাত তিনটার দিকে বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’।

‘সকালে সোয়াট টিম আসার পর অভিযান শুরু হয়। এর আগে তাদেরকে বার বার আত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছিল। তা না করে সারা রাতই পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে তারা।আক্রান্ত হয়েও আমাদের বাহিনীগুলো ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। পরবর্তীতে সকালে ফায়ার ওপেন করেছে’।

নিহত বাকি দু’জনের পরিচয় তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যে খবর আছে, তারা তামিমের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী’।

কামাল বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী তৎপর, খোঁজ না নিয়ে, নিশ্চিত না হয়ে আমরা এগোই না’।

জঙ্গিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরা সংখ্যায় অল্প, জনবিচ্ছিন্ন। জনগণ এদের সমর্থন দেয় না। আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। বাকি অল্প সংখ্যক যারা আছে, তাদেরকেও আমরা ধরে ফেলবো’।

‘বাংলার জনগণ এদের পছন্দ করে না, সরকারও এদের প্রশ্রয় দেবে না’- বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার দেওয়ান বাড়ি নামে ওই ভবনের তৃতীয় তলায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এবং সোয়াট, পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথবাহিনী।

‘অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭’ নামের ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

যৌথবাহিনীর অভিযানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়েছে বলে অভিযান শেষে জানান কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

গুলশান হামলার মূল হোতা তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে গত ০২ আগস্ট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক।

ঘটনাস্থলে এসে আইজিপি বলেন, ‘সোয়াট টিমের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী জঙ্গিদের আস্তানায় এক ঘণ্টাব্যাপী মূল অভিযানটি পরিচালনা করে।

অভিযান শেষে সেখানে তিনটি মরদেহ পাওয়া যায়। একটি মরদেহের সঙ্গে তামিম চৌধুরীর চেহারার হুবহু মিল পাওয়া গেছে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একে-২২ রাইফেল ও তিনটি গ্রেনেড পাওয়া গেছে।

বর্তমানে পুলিশের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট সেগুলো নিষ্ক্রিয় করতে কাজ করছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হলে আমরা নিহত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করতে পারবো’।

অভিযানে কোনো নারী ও শিশু হতাহত হয়নি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গুলশান হামলার পর ওষুধের ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ওই বাসা ভাড়া নেয় জঙ্গিরা।

শহীদুল হক বলেন, ‘নব্য জেএমবির সামরিক শাখার নেতৃত্বে ছিলেন তামিম চৌধুরী। তিনি সিরিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।

তামিমই গুলশান এবং শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলার মূল হোতা। কিছুদিন আগে তার জন্য আমি পুরস্কার ঘোষণা করেছিলাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়’।

অভিযানের সময় যৌথবাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা ভেতর থেকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন। এ সময় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে।

এ সম্পর্কিত আরও