ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ঠাকুরগাঁও রুহিয়ার বর্তমান রাজনৈতির হাল-চাল।

মোহাম্মদ ইফাদ সরকার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলার রাজনৈতিক দল গুলোর মূল কান্ডারীর ভূমিকা পালন করে রুহিয়া এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। আর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান। এক সময় এইখান থেকে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দিতেন প্রয়াত সাবেক এমপি নুরুল হক বামপাট। বর্তমান আওয়ামী লীগ এই ইউনিয়নের ভোট ব্যাংকে পরিনত হয়েছে এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের উন্নয়নের জন্য।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এমপি রমেশ চন্দ্র সেন পানি সম্পদ মন্ত্রী থাকাকালী নিজ এলাকায় প্রায় প্রতিটি রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ উন্নয়নে যে কাজ করেছে তা অন্য সরকারের আমলে হয়নি। এছাড়া রুহিয়া থানা ঘোষনাার পর এলাকাবাসীর কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরন করেছে রমেশ চন্দ্র সেন।

কিন্তু বর্তমানে রুহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে মত বিভেদ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রুহিয়া ইউপি নির্বাচনে দল থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান মমিনুল হক বাবুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক ছাত্র নেতা আবু সাইদ বাবু নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। বাবু নিবার্চনে আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট নিজ দখলে নেয়। বেশির ভাগ নেতাই বাবুর পে কাজ করেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় মমিনুল হক বাবু নির্বাচনে জয়ী হয়।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জয়ী হলেও তৃনমূলের আওয়ামী লীগের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছে যারা আওয়ামী লীগের জন্য চিরকাল ত্যাগ স্বীকার করে দলকে রক্ষা করেছে কিন্তু সুদিনে সেই ত্যাগি নেতাদের মূল্যায়ন করা হয় নাই।

রুহিয়া প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান এক সময় জাতীয় পার্টি করতো। তাকে পর পর দুই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে করে ত্যাগী নেতারা বার বার বঞ্চিত হচ্ছে। আর দলের মধ্যে মত বিভেদ তৈরি হচ্ছে।

সাদেকুল ইসলাম নামে আর এক ব্যক্তি জানান, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বাবুও এখানে ভোট ব্যাংক রয়েছে। তা না হলে সে ৫০ শতাংশ ভোট কিভাবে পায়। বাবুর বাবা কৃষকলীগ নেতাকেও এই ইউনিয়নে ৩ বার চেয়ারম্যান পদে হারতে হয়েছে শুধু মাত্র দলীয় কোন্দলের কারণে।

নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, সরকার ভিজিএফ এর মাধ্যমে ফেয়ার প্রাইজ চাল দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহন করেছে। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতার ওই কমিটির না রেখে এক জামায়াতের নেতাকে আহবায়ক করেছে। এতে করে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রুহিয়ার জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানাযায়, ইউপি নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ি প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট আবু সাইদ বাবুর কাছে রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে কারাগারে যাওয়ার কারনে দলমত নির্বিশেষে আবু সাইদ বাবুর জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

দলের গ্রুপিং লবিং এর বিষয়ে আবু সাইদ বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, দলের মূলস্রোত বা আমাদের নেতা রমেশ চন্দ্র সেন যেভাবে দলটিকে নিয়ে যাবেন আমরা তার বাহিরে নয়। আশারাখি তিনি অব্যশই ত্যাগি নেতাদের মূল্যায়ন করছেন এবং করবেন।

রুহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক বাবু জানান, দীর্ঘদিন ধরে রুহিয়ায় আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দলের মধ্যে একটু গ্রপিং লবিং থাকবে কিন্তু আমরা সবাই এককাতারে রয়েছি।

তাই ইউনিয়নে রুহিয়া আওয়ামী লীগের ঘাটিঁ নামটি অক্ষুন্ন রাখতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার আহবান জানিয়েছে এলাকাবাসী।

 

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

bogura

বগুড়ায় বাসচাপায় অটোরিকশা ‍যাত্রী নিহত

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার যাত্রী আসলাম হোসেন নিহত হয়েছেন। এ …

Mountain View