ঢাকা : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭, সোমবার, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

সেরেস্তাদারের সহায়তায় ভুয়া পেপারর্স, আদালতে মামলা

শরীয়তপুরে মুনসেফ আদালতের সেরেস্তাদারের সহায়তায় ভুয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করে মুনছেফ আদালতে মামলা করেছে জব্বার আলী মোল্যা। ভুয়া মামলায় কাগজপত্র দিয়ে সহায়তা করেছে চিকন্দী মুনসেফ আদালতের সেরেস্তাদার মোঃ আব্দুর রব, নকল কারক জামাল উদ্দিন ও তুলনাকারক মোঃ আমজাদ হোসেন। এতে জমির প্রকৃত মালিকগণ ৭০ বছরের ভোগ দখলীয় বসত বাড়ি হারাতে বসেছে।

বিরোধীয় জমির পরিচয়, শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার মৌজার, ৩৯১ নং খতিয়ানের জেএল নং-৭৯ এর দাগ নং বিআরএস ২৮২১, ২৮৩১, ২৮৩২, ২৮৩৩, ২৮৩৪, ২৮৪০ ও ২৯৪০ নং দাগ, ৩৯০ নং খতিয়ানে ২৮২৫ নং দাগ ও ৩০৬ নং খতিয়ানে ২৮২৪ নং দাগের জমি মরহুম আব্দুল করিম মোল্যার সন্তান গিয়াস উদ্দিন মোল্যা, ইউনুচ আলী মোল্যা, আবুল হোসেন মোল্যা ও আলী আহমেদ মোল্যাদের নামেয়ী রেকর্ডীয় সম্পত্তি।

উল্লেখিত সম্পত্তিতে জব্বার আলী মোল্যাদের কোন সত্ত্ব বা দখল নাই। শুধুমাত্র হয়রানীর করে ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে আদালতের সেরেস্তাদারের স্বাক্ষরিত অস্বিত্বহীন সই মোহর নকল দেখিয়ে স্বত্ব স্বাবস্থ পূর্বক দখল স্থিতিতরের দাবীতে শরীয়তপুর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত চিকন্দীতে ৮৭/২০১৬ নং মোকদ্দমা করে। যাহা পরবর্তীতে শরীয়তপুর নড়িয়া আদালতে ৮৯/২০১৬ রূপে চলমান।

যে ভাবে মামলার উৎপত্তি, সুচতুর জালিয়াত চক্রের হোতা জব্বর আলী মোল্যা তার ভাই ছোরহাব মোল্যা স্বপক্ষের রহিম বেপারী, মাইনদ্দিন বেপারীদের সাথে নিয়ে চিকন্দী আদালতের সেরেস্তাদার মোঃ আব্দুর রব, নকল কারক জামাল উদ্দিন ও তুলনাকারক মোঃ আমজাদ হোসেনদের স্বাক্ষরিত ১৯৫৬ সালের ৫০০ নং দেওয়ানী মামলার বাদী পক্ষ জব্বর আলী মোল্যাকে দেখিয়ে সহিমোহর নকল প্রদান করে। সেখানেই শেষ না, পরবর্তীতে চিকন্দী আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা-৮৭/১৬ করতেও সহায়তা করেছে সেরেস্তাদার মোঃ আব্দুর রব।

শরীয়তপুর সদর চিকন্দী আদালতের বিচারক দেওয়ানী ৮৭/১৬ মামলাটি বিচার কাজ চালিয়ে যেতে বিব্রত বোধ করলে নথিটি শরীয়তপুর আদালতে প্রেরন করেন। যাহা বর্তমানে শরীয়তপুর নড়িয়া আদালতে ৯ আগষ্ট থেকে চলামান রয়েছে। বাদী পক্ষ শুনানির জন্য প্রস্তুত নয় বলে নিযুক্ত আইনজীবী বারবার সময় আবেদন করছে।

সেরেস্তাদার মোঃ আব্দুর রবের কু-কৃত্তি সম্পর্কে চিকন্দী আদালতের কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে আলাপকালে বলেন, রব সেরেস্তাদার চিকন্দী আদালকে জিম্মি করে রাখছে। তার কারণে ওকালতি করাই কঠিন হয়েগেছে। রব সেরেস্তাদারের একটা চক্র আছে তাদের মাধ্যমে সকল

অনিয়গুলো নিয়ম করছে। মামলা রায়ের ষ্টেজে এলে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে টাকা নেয় রব সেরেস্তাদার। যা বিচারক জানে না। পরে যে পক্ষের পক্ষে আদেশ যায় তার টাকা রেখে প্রতিপক্ষের টাকা ফেরৎ দেয়।

মামলার বিবাদী পক্ষে আলী আহম্মেদ বলেন, পৈত্রিক সূত্রে ও ওয়ারিশগণদের নিকট থেকে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে আমরা ৪ ভাই দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর যাবৎ উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখল করছি। উক্ত সম্পত্তি নামজারী, বিআরএস রেকর্ড আমাদের নামে হয়েছে এবং সরকারী খাজনাদি পরিশোধ পরবর্তী হালনাগাদ করে আসছি। আমাদের চাচাতো ভাই জব্বর আলী মোল্যা চিকন্দী মুনসেফ আদালতের সেরেস্তাদার মোঃ আব্দুর রব এর সহায়তায় একটি ভুয়া খাজনা মোকদ্দমা ৫০০/১৯৫৬ দেখিয়ে উক্ত মামলার সহিমোহর নকল দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করে। চিকন্দী মুনসেফ আদালতের বিচারক মামলাটি পরিচালনা করতে বিব্রত বোধ করায় একটি আদেশের মাধ্যমে জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করেন। যা নাড়িয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে চলমান। উক্ত মামলায় জবাব প্রদান করি। মামলার বাদী জব্বর আলী মোল্যা আদালতে একাধিকবার সময় আবেদন করেন এবং বাদী হয়েও তিনি বলেন জবাব শুনানীর জন্য আমার কাগজপত্র প্রস্তুত না আরও কিছু সময় লাগবে। এ ভাবেই আমাদের হয়রানী করছে মামলার বাদী জব্বার আলী মোল্যা।

শরীয়তপুর সদর চিকন্দী আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ এর সেরেস্তাদার মোঃ আব্দুর রব বলেন, আমি যখন সহিমোহর নকলে স্বাক্ষর করেছি তখন মূল রেজিস্ট্রার বহি আমার কাছে ছিল। এখন মূল বহি খুঁজে পাচ্ছিনা। মূল বহি পেলে বিষয়টা নিশ্চিত হতে পারবো। তাছাড়া আমার সাথে আরও ৪ জন রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ৫০০/১৯৫৬ নং মোকদ্দমার প্রকৃত বাদী মন মোহন ঘটক ও বিবাদী জরুনা খাতুন। সংবাদ জানিবার দরখাস্ত অনুযায়ী উক্ত মামলাটি ১৯৫৮ সালে একতরফা ভাবে ডিগ্রী হয়েছে। যাহা চিকন্দী মুনসেফ আদালতের তৎকালীন সেরেস্তাদার মেজবাহ উদ্দিন ১৩ জুলাই ২০১৬ তারিখে ইনফর্মেশন স্লিপের মাধ্যমে নিশ্চিৎ করেছেন। মামলাটির বাদী পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী এডভোকেট হেলাল উদ্দিন আকন্দ ও বিবাদী পক্ষে নিযুক্ত রয়েছেন এডভোকেট শহিদুজ্জামান তারা।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

কম খরচে আপনার বিজ্ঞাপণ দিন। প্রতিদিন ১ লাখ ভিজিটর। মাত্র ২০০০* টাকা থেকে শুরু। কল 016873284356

Check Also

পুলিশকে আরও জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবাকে আরও জনবান্ধব করার আহ্বান …