ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

৬২ বছর একসঙ্গে থাকার পরে বিচ্ছেদ নিয়ে তোলপাড়

received_324156837932664
এক সঙ্গে ৬২ বছর সংসার করেও জীবনের নিষ্ঠুরতার বাস্তবতার কাছে হেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন এক প্রবীণ দম্পতি।জীবনের পড়ন্ত বেলার এই বিচ্ছেদ মানতে পারছেন না তারা। তাই যখনই দেখা হচ্ছে, পরস্পরের হাত ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তারা।কানাডিয়ান দম্পতির হাত ধরাধরি করে কান্নার ছবি ও বিচ্ছেদের ঘটনা গত বুধবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেন তাদেরই নাতনি, যা এরই মধ্যে ১০ হাজার ২৯বার শেয়ার হয়ে ভাইরাল হয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে আলোড়ন তুলেছে স্বাস্থ্যসেবার সংকট।ওই দম্পতি হলেন- ব্রিটিশ কলম্বিয়া দ্বীপের সারে এলাকার ভ্যানকিউভারের বাসিন্দা ৮৩ বছরের ওলফ্রাম গটশলক আর ৮১ বছরের আনিতা।১৯৫৪ সালে জার্মানিতে ২১ বছরের তরুণ রাজমিস্ত্রি ওলফ্রামের সঙ্গে অষ্টাদশী আনিতার পরিচয় হয়। চার মাস পর তারা বিয়ে করেন।

এক পর্যায়ে তারা কানাডায় পাড়িজমান।ওলফ্রাম-আনিতা দম্পতি বিয়ের পর থেকে জীবনের ৬২ বসন্ত এক সঙ্গে কাটিয়েছেন। ভাগ করে নিয়েছেন জীবনের অম্লমধুর অভিজ্ঞতা। কিন্তু গত জানুয়ারিতে ওলফ্রাম ডিমেনসিয়ায় আক্রান্ত হলে বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে ওঠে।অসুস্থ স্বামীর সেবা করা আনিতার একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।

তাই ওলফ্রামকেভর্তি করা হয় একটি বৃদ্ধাশ্রমে। এরপর বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এসে সেখানে তাকে নিয়মিত দেখতে আসতেন আনিতা।কিন্তু গত এপ্রিলে আনিতাকেও ভর্তি করতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে। স্বামী-স্ত্রী একই বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে চেয়েছিলেন। পরিবারও তাদের এ ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সিট না থাকার অজুহাতে দু’জনকে পাঠানো হয় পৃথক আশ্রমে।জীবনের শেষ বেলায় বাস্তবতার এমন নিষ্ঠুরতা মানতে পারেননি প্রবীণ এই দম্পতি।

ফলে যখনই দু’জনকে দেখা করাতে কাছাকাছি আনলে পরস্পরের হাত ধরাধরি করে চোখের পানি ফেলেন তারা।গত ২৩ আগস্ট ওলফ্রামকে দেখতে আসেন স্ত্রী আনিত। সেখানে এসে জানতে পারেন ওলফ্রামের লিম্ফোমা নামের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে।

এরপর ওলফ্রামের সঙ্গেদেখা হতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দু’জনে।পাশে দাঁড়িয়েই এ দৃশ্য দেখেন তাদের ২৯ বছর বয়সী নাতনি অ্যাশলি বারটিক। হাত ধরাধরি করে দাদা-দাদির কান্নার ছবি তুলে রাখেন তিনি।পরদিন এ ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘বন্ধুরা দয়া করে পড়ো, এটি আমার এ পর্যন্ত তোলা সবচেয়ে করুণ ছবি!’

এতে দাদাকে ‘অমি’ এবং দাদিকে ‘অপি’ সম্বোধন করে তাদের এক সঙ্গে রাখতে সবার কাছে সমর্থন চান অ্যাশলি।সামাজিক মাধ্যমে অ্যাশলির ডাক বিফলে যায়নি। হাজার হাজার মানুষ ওলফ্রাম-অনিতার জীবনের করুণ কাহিনী শেয়ার করেছেন, যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে কানাডা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে।পোস্টে অ্যাশলি বলেন, দাদা-দাদির হাত ধরাধরি করার এই ছবিটি তোলা সার এলাকারইয়েল সড়কের সেবাকেন্দ্র থেকে।

তারা ৬২ বছর ধরে একসঙ্গে বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার কারণে গত আট মাস ধরেবিচ্ছিন্ন আছেন। অথচ দাদির সঙ্গে দাদাকে থাকার ব্যবস্থা করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।তিনি জানান, গত আট মাসের বিচ্ছিন্নতার পুরোটা সময় দেখা হওয়া মাত্রই ওলফ্রাম-আনিতা কান্নাকাটি করেছেন, যা ছিল হৃদয়বিদারক। এদিকে আজ (মঙ্গলবার) দাদার লিম্ফোমা ধরা পড়েছে, যা তার অন্তিম সময়কে সংক্ষিপ্ত করে আনছে।

অ্যাশলি বলেন, প্রতিদিনই দাদার ডিমনেসিয়া বাড়ছে। এ কারণে প্রত্যেকদিন একটু একটু করে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলছেন তিনি। তবে দাদির স্মৃতি একটুও ম্লান হয়নি তার। আমরা ভয়ের মধ্যে আছি যদি তারা বেশি দিন আলাদা থাকেন, তাহলে হয়তো দাদির কথাও ভুলে যাবেন তিনি। তাই প্রতি দু’দিন অন্তর দাদিকে আমরা দাদার কাছেনিয়ে যাই।তিনি বলেন, এখন ক্যান্সারের কারণে দু’জনকে একই বৃদ্ধাশ্রমে রাখা অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। দাদা এখন যেখানে আছেন সেখানে তিনি যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না।অন্তিম সময়ে দাদা-দাদির সেবার জন্য অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো সাড়া না পাওয়ার কথা তুলে ধরে অ্যাশলি জানান, আমরা আমাদের স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা চাওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত চেয়েছি। কিন্তু আমরা কোনো জবাব পাইনি।শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের কাছে সাহায্য চেয়ে অ্যাশলি বলেন, আর্থিক, শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি। আমি এবং আমার পরিবার আপনাদেরসাহায্য চাইছি।এক্ষেত্রে ছবিটি ব্যাপকভাবে শেয়ার এবং ট্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছে তিনি বলেন, আমরা চাই ৬২ বছর ধরে এক সঙ্গে কাটানোর পর আমার দাদা-দাদি যেন তাদের শেষ সময় এক ছাদের নিচে কাটাতে পারেন।এদিকে অ্যাশলির ফেসবুক পোস্ট কানাডায় প্রবীণদের স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগের নজরে এসেছে।

পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র তাসলিম জুমা বলেন, কর্তৃপক্ষ ওলফ্রার্ম দম্পতিকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু আনিতার চেয়ে ওলফ্রামের বেশি সেবা প্রয়োজন।তিনি বলেন, এই দম্পতিকে একসঙ্গে রাখার প্রয়োজন অবশ্যই পূরণ করা হবে, কর্তৃপক্ষের আশা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এমনটি সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

1480390465

বিপিএল খেলতে থাকা যে ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেয়ার চিন্তা করছে বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক: বিপিএলের টিম নিয়ে তো আর ভাবনা নেই বিসিবির। বিসিবির ভাবনা নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়ে। …

Mountain View