এএফসি কাপে সিঙ্গাপুরের জালে বাংলাদেশের গোল উৎসব

প্রকাশিতঃ আগস্ট ২৯, ২০১৬ at ৯:৪১ অপরাহ্ণ

win tri

বাংলাদেশের খুদে ফুটবলাররা নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় তুলে নিয়েছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরকে ৫-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে কৃষ্ণা রানী সরকারের দল।ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ আর সিঙ্গাপুর।

পুরো ম্যাচেই দারুণ দাপট দেখিয়ে খেলেছে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের ছাত্রীরা। ম্যাচের প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষকে একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা করে রাখে টাইগ্রেসরা। কৃষ্ণা রানীদের পরিকল্পিত ও গতিময় খেলার সামনে এদিন বাংলাদেশ সীমানায় একটি আক্রমণও করতে পারেনি সিঙ্গাপুরের মেয়েরা।

প্রথমার্ধের ৮ মিনিটে সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বক্সের ভেতরে গিয়ে শট নিয়েছিলেন সানজিদা আক্তার। কিন্তু তার শটটি রক্ষণভাগের পায়ে লেগে ফিরে আসে। সেই ফিরে আসা বলটিকে জালে পাঠাতে চেয়েছিলেন সিরাত জাহান স্বপ্না। কিন্তু সেটি গোলপোষ্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে নিশ্চিত গোলবঞ্চিত হয় লাল সবুজের মেয়েরা।

১৮ মিনিটে সিঙ্গাপুর গোলবারের ডান দিক থেকে লম্বা শট নিয়েছিলেন মিডফিল্ডার মৌসুমি। কিন্তু গোলমুখে যাত্রারত শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এর পরের মিনিটে আবার বাঁদিক থেকে ক্রস তুলেছিলেন মার্জিয়া।কিন্তু দারুণ সেই ক্রসটিকে হেড থেকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী।

৩০ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে সামসুন্নাহারের এগিয়ে দেয়া বল থেকে আরও একটি অবধারিত গোলের সুযোগ হাতাড়া করেন কৃষ্ণা।

পরপর দুটি গোল হাতছাড়া করলেও তৃতীয় সুযোগটি ঠিকই কাজে লাগান কোচ গোলাম রব্বানি ছোটনের অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী। ৩৮ মিনিটে সানজিদার ক্রস থেকে ফ্লাইং হেডে বাংলাদেশকে ১-০ তে লিড পাইয়ে দেন এই লাল-সবুজের অধিনায়ক।

এদিকে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে চেয়েছিল সিঙ্গাপুর। কিন্তু শিউলি, সামসুন্নাহার ও নার্গিসদের সুরক্ষিত রক্ষণদুর্গের ধারেকাছেও আসতে না পারলে ১-০ তে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কোচ চেন কাইংয়ের শিষ্যরা।

বিরতি থেকে ফিরে আরও ধারালো খেলা উপহার দিতে থাকে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর দ্বিতীয় মিনিটে বাঁদিক থেকে মার্জিয়ার ক্রস থেকে আসা বলটি বুক দিয়ে রিসিভ করে বাঁ-পায়ের টোকায় জালে বল ঠেলেই স্বাগতিকদের ২-০ তে এগিয়ে যাবার উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন কৃষ্ণা রানী সরকার।

এখানেই থেমে ছিল না বাংলাদেশ। ৭০ মিনিটে ফরোয়ার্ড অনুচিং মগিনি একাই বল নিয়ে ঢুকেছিলেন। কিন্তু গোলপোষ্টের সামনে থেকে শট নিতে গেলে সেখানে তাকে প্রতিহত করেন সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা।

এই যাত্রায় সিঙ্গাপুর বেঁচে গেলেও বাঁচতে পারেনি ৮২ মিনিটে তহুরার আঘাত থেকে। বাঁদিক থেকে কিছুটা জোরে তহুরা শট নিয়েছিলেন সেই শটটি গোলক্ষকের হাত ফসকে গোল লাইন অতিক্রম করে। ফলে, বাংলাদেশ পায় ৩-০ এর লিড।

তহুরার আঘাতের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ৮৬ মিনিটে আঘাত হানেন মৌসুমি। সেই আঘাতে ৪-০ গোলে পিছিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে অনুচিং মারমার গোলে ৫-০ এর বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে সিঙ্গাপুর।

এবারের বাছাইয়ে গ্রুপ-সেরা দল পাবে ২০১৭ সালে থাইল্যান্ডে মূল আসরে খেলার টিকেট। তাতে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশের মেয়েরা।

এ সম্পর্কিত আরও