Mountain View

সাংসদ রানার অনুপস্থিতিতে ফারুক হত্যা মামলার বিচার শুরু ৷৷

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৩০, ২০১৬ at ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

1460922714_72

মোঃ সবুজ সরকার সৌরভ ঘাটাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ- টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার বিচারকাজ ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। জেলার অতিরিক্ত প্রথম দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া বৃহস্পতিবার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

আদালত এপ্রিলে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। অভিযোগপত্রে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। রানা এমপির ভাইয়েরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা)।

অন্য ১০ আসামি হলেন- কবির হোসেন, আনিছুল ইসলাম (রাজা), মোহাম্মদ আলী, সমীর ও ফরিদ আহমেদ, এমপি রানার দারোয়ান বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন (চান), নাসির উদ্দিন (নুরু), ছানোয়ার হোসেন ও সাবেক পৌর কমিশনার মাছুদুর রহমান। এর মধ্যে মোহাম্মদ আলী, সমীর, ফরিদ ও আনিছুলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকিরা পলাতক।

বিচারিক হাকিম আদালত রানা এমপি ও তার তিন ভাইসহ পলাতক ১০ আসামির বিরুদ্ধে হুলিয়া ও ক্রোক পরোয়ানা জারি করেন। ২০ মে এমপি রানা এবং তার ভাইদের অস্থাবর সম্পত্তিও ক্রোক করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। তারপরও আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

এদিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। এদিকে টাঙ্গাইলের আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত দু’ব্যক্তি ১৬৪ ধারায় দেয়া সাক্ষ্য ‘হলফনামা’র মাধ্যমে অস্বীকার করেছেন! মামলার ৫নং সাক্ষী আ. খালেক ও ৬নং সাক্ষী আবদুল ওয়াহেদ ঢাকার নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ‘হলফনামা’ সম্পাদন করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় দেয়া নিজেদের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন।

হলফনামায় আ. খালেক ঘোষণা করেন, “২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তৎকালীন পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে। কোনোভাবেই তিনি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সাক্ষ্য প্রদান করেননি।” একই বক্তব্য সংবলিত হলফনামায় স্বাক্ষর করেছেন ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই গ্রেফতার হওয়া আবদুল ওয়াহেদ।

এদিকে, জেলহাজতে আটক আনিসুর রহমান রাজা সাক্ষাৎ প্রার্থীদের জানান, গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে ১৮ দিন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে গোপনে টাঙ্গাইল ও ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ‘জবানবন্দি’ আদায় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খান পরিবারের কেউ জেলা আ’লীগের সাবেক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় জড়িত কিনা তা জানেন না।

জুডিশিয়াল জেলহাজতে আটক মোহাম্মদ আলীও একই বক্তব্য দিয়ে জানান, তাকে ১৫ দিন অজ্ঞাত স্থানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ডিবি পুলিশ অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে তথাকথিত ‘জবানবন্দি’ আদায় করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি অশোক
কুমার সিংহ জানান, আলোচিত এ মামলার আসামিদের বিচার
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে ৮
আগস্ট পুলিশ সুপার একটি চিঠি জেলা প্রশাসকের
কাছে পাঠিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মাহবুব
হোসেন জানান, পুলিশ সুপারের চিঠি স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সাক্ষীরা
এফিডেভিট করলেও মামলার কোনো ক্ষতি হবে
না বলে জানান তিনি। এছাড়া সাক্ষ্য আদায়ে কাউকে
নির্যাতন করা হয়নি বলে জানান মামলার তদন্তকারী
কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম
জানান, ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার পলাতক
আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির
হওয়ার জন্য দুটি দৈনিক পত্রিকায় ৩০ জুন বিজ্ঞপ্তি
দেয়া হয়েছে। হাজির না হলে তাদের
অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে বলে
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ওই ৩০ দিনের
মধ্যে এমপি আমানুর রহমান খান রানাসহ পলাতক ১০
আসামির কেউ আদালতে হাজির হননি। ৮ আগস্ট
মামলার ধার্য তারিখে টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতের
বিচারক হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুম মামলাটির পরবর্তী
কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুখ্য বিচারিক হাকিমের
কাছে পাঠিয়ে দেন। মুখ্য বিচারিক হাকিম ওই দিনই
মামলাটির বিচার এবং তা নিষ্পত্তির জন্য জেলা ও দায়রা
জজ আদালতে পাঠান। জেলা ও দায়রা জজ বিচারের
জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে
মামলাটি পাঠান। বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য
করেন।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী
লীগের জনপ্রিয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক
আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার
সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ৩ দিন পর
নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ
বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে
টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার
তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা
পুলিশকে। ২০১৪ সালের আগস্টে এ মামলায় জড়িত
থাকার অভিযোগে পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা এবং
মোহাম্মদ আলী নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার
করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দিতে খুনের সঙ্গে এমপি রানা ও তার
ভাইয়েরা জড়িত বলে তথ্য দেন।
এরপর থেকেই এমপি রানা এবং তার ভাইয়েরা
আত্মগোপনে চলে যান। ফারুক হত্যা মামলায়
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খানকে
(রানা) প্রধান আসামি করে তার অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল
পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি),
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি
সানিয়াত খান (বাপ্পা) এবং ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর
রহমানসহ (কাঁকন) ১৪ জনকে আসামি করে এ
বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে
অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View