যেভাবে রিশার হত্যাকারী ওবায়দুলকে গ্রেফতার করা হলো

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৩১, ২০১৬ at ৩:২৫ অপরাহ্ণ

risa-BG20160829134146

ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার (১৪) হত্যাকারী ওবায়দুল খানকে নীলফামারীর ডোমার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টায় নীলফামারী-ডোমার সড়কের খানাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) রাতে ওবায়দুল তার দুলাভাইয়ের ছোটভাই খুশবুর খোঁজে ডোমারে আসেন। ডোমার অফিসে খুশবুকে না পেয়ে ওবায়দুল তার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। এরপর খুশবু ডোমার ব্র্যাক অফিসের অফিস সহকারীকে ফোন দিয়ে বলেন ওবায়দুলকে দেখে রাখতে। এদিকে খুশবু তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বীরগঞ্জ থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকার রমনা থানার উপ পরিদর্শক মোশারফ হোসেনসহ একদল পুলিশ ডোমার ব্র্যাক অফিসে হানা দেয়। পুলিশের অবস্থান বুঝতে পেরে ওবায়দুল পালিয়ে যায়।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বীরগঞ্জ থেকে ওবায়দুলের বোন খতেজা বেগম ও দুলাভাই খাদেমুল ইসলামকে আটক করে। ওবায়দুলকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ নীলফমারীর বিভিন্ন এলাকায় তার ছবি ছড়িয়ে দেয়। সকালে ওবায়দুল সুযোগ বুঝে ডোমার থেকে নীলফামারী শহরে রওনা হয়। এসময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে ডোমার থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

দুপুরে ডোমার থানায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তার বোন খতেজা বেগম ও দুলাভাই খাদেমুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল ওবায়দুলকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়।

২৪ আগস্ট রাজধানীর উইলস লিটিল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজের কাছে রিশাকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়। ২৮ আগস্ট রোববার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিশা মারা যায়। এ ঘটনায় রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ওবায়দুলের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে। তার বাবা মৃত আব্দুস সামাদ।

এ সম্পর্কিত আরও