Mountain View

রিশা হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুল গ্রেফতার

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৩১, ২০১৬ at ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

স্কুলছাত্রী রিশা হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দিনাজপুর র‌্যাব-১৩ গ্রেফতারের বিষয়টি বুধবার সকাল ৯ টার দিকে নিশ্চিত করেছে।
দিনাজপুর র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাজু জানায়, পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্চ উপজেলাধীন সোনারায় ইউনিয়নের এক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দিনাজপুর র‌্যাব-১৩ এর অস্থায়ী কার্যালয়ে আনা হয়।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় ওবায়দুলের বোন খাদিজা বেগম (৪০) এবং দুলাভাই মো. খাদেমুল ইসলামকে (৪৬) আটক করে পুলিশ। এ সময় খাদেমুল ইসলামের মা খতেজা বেগমকে (৭৫) আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
তবে অল্পের জন্য পুলিশের হাতছাড়া হয় ওবায়দুল। সোমবার দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় লাটের হাট বাজারে তাকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দার।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওবায়দুলের নিজ বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানের পর বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে পরিবারের অপর সদস্যরা।
ওবায়দুলের বোন খাজিদা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় আমাদের বাড়িতে আসে ওবাায়দুল। সকালে আমাদের সাথে নাস্তা করে। বিশ্রাম নিয়ে দুপুরে গোসল করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর আর কোন যোগাযোগ হয়নি। সে স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেছে এটা আমাদের কারো কাছে জানায়নি।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ওবায়দুলের পিতা মো. আব্দুস সামাদ ব্যবসায়ী। প্রথম স্ত্রী বুধিরন ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে মারা যাওয়ার পর চন্দনী বেগমকে বিয়ে করেন। চন্দনী কোন জুড়ে আসে ১ ছেলে এবং ৪ মেয়ে। একমাত্র ছেলে ওবায়দুল যখন চকদফর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র তখন তার মা চন্দনী বেগম মারা যায়। এরপর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় পিতা আব্দুস সামাদ পাইকার তাকে ঠাকুরগাঁও ম্যাজিক কার্ট টেইলার্সে রেখে আসেন। অভাবের সংসারের কথা শুনে শিশু ওবায়দুলকে টেইলার্সে কাজের সুযোগ দেন টেইলার্সের মালিক গৌরাঙ্গ। এরপর আব্দুস সামাদ বিয়ে করেন আখেলিমা নামে এক মহিলাকে। আনুমানিক ৫বছর পূর্বে মারা যান আব্দুস সামাদ পাইকার।
পিতার মৃত্যুর পরও ওবায়দুল প্রায় এখানে আসতেন। প্রতিটি ঈদ সে এখানে পালন করেছেন। তাকে সর্বশেষ গত সোমবার দুপুরে লাটের হাট বাজারে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর আমরা হতবাক হয়েছি।
ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রিশা (১৪) গত বুধবার স্কুলের সামনের ফুটওভারব্রিজে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে আহত হয়। তিনদিন পর রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনায় রিশার মা তানিয়া বেগম রমনা থানায় একটি মামলা করেন, যাতে এলিফ‌্যান্ট রোডের বিপণি বিতান ইস্টার্ন মল্লিকার বৈশাখী টেইলার্সের কর্মী ওবায়েদকে আসামি করা হয়।
তানিয়া বেগম পুলিশকে বলেছেন, কয়েক মাস আগে বৈশাখী টেইলার্সে একটি জামা বানাতে দিয়ে যোগাযোগের জন্য সেখানে তিনি নিজের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। সেই থেকে ওবায়েদ ওই নম্বরে ফোন করে প্রায়ই রিশাকে বিরক্ত করে আসছিলেন।
ওবায়েদই সেদিন রিশাকে ছুরি মেরেছিল বলে তানিয়া বেগমের ধারণা।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View