Mountain View

বগুড়ার নন্দীগ্রামে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুপারভাইজারকে হত্যা

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৬ at ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

1121
নুরনবী রহমান মহাস্থান (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার নন্দীগ্রামে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুপারভাইজারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের হাফিজার রহমানের ছেলে রেজাউল করিম (৩৬) বগুড়ার আদমদীঘিতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুপারভাইজার পদে চাকরী করতো। সেখানে ২ বছর পূর্বে সহকারী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার হিসেবে ছিলেন জিল্লুর রহমান। সেই সুবাদে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। পলাশবাড়ি তেঁতুলিয়াপাড়া গ্রামের রুমা খাতুন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের চাকুরী নেয়ার জন্য রেজাউল করিমের মাধ্যমে জিল্লুর রহমানকে নগদ ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা দেয়। তাদের মধ্যে ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকুরী দেয়ার কথা হয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সে তাকে চাকুরী দিতে ব্যর্থ হয়। সে কারণে রেজাউল করিম জিল্লুর রহমানের নিকট থেকে ওই টাকা ফেরৎ চায়। গত ১লা সেপ্টেম্বর জিল্লুর রহমান ফোনে রেজাউল করিমকে টাকা ফেরৎ নেয়ার জন্য বগুড়া রাণীরহাটে আসতে বলে। এরপর রেজাউল করিম অফিসের কাজ শেষ করে বিকেল আনুমানিক ৫ টায় মোটরসাইকেল যোগে টাকা ফেরৎ নিতে প্রথমে রাণীরহাট পরে জিল্লুর রহমানের নন্দীগ্রাম কলেজপাড়ার বাসায় আসে। এরপর সে আর বাড়ি ফিরেনি। বাড়িতে না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন রাত থেকেই খোঁজাখুজি শুরু করে। এমতাবস্থায় গত ২রা সেপ্টেম্বর সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের কদমকুড়ি-পোঁতা রাস্তার মাঝে বেজিগাড়ি নামকস্থানে স্থানীয়রা রেজাউল করিমের পোড়া লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক ও এসআই আবু শাহিন কাদির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে রেজাউল করিমের আগুনে পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ বলেছে, দূর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। তারপর মোটরসাইকেলের পেট্রোল তার শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুনে পুড়ে দেয়। এ বিষয়ে থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক’র সাথে কথা বললে তিনি বলেন, টাকা ফেরৎ নিতে এসে রেজাউল করিম দূর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছে। তার মৃতদেহ পেট্রোল দিয়ে পুড়ে ফেলে। আত্মীয়-স্বজনরা এসে রেজাউল করিমের লাশটি শনাক্ত করে। লাশটির ময়নাতদন্ত করার জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বগুড়া বি-সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহত রেজাউল করিমের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে নন্দীগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। সহকারী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার জিল্লুর রহমান ওই ঘটনার পর বাসা থেকে পালিয়ে যায়। সে নাটোর সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। লোমহর্ষক এ হত্যা ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। রেজাউল করিমের পরিবারের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View