Mountain View

মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৬ at ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

জিহান মিয়া,নকলা (শেরপুর)  প্রতিনিধি  :-একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে।

আজ শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় এ আলবদর নেতার রায় কার্যকর করা হয়। মীর কাসেম জামায়াত নেতাদের মধ্যে পঞ্চম, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসিতে ঝুললেন।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লার রায় কার্যকর হয়। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় কার্যকর করা হয়েছে।

আজ দুপুরে রায় কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছায়। এর অনুলিপি পাঠানো হয় জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে। এরপর বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে যান মীর কাসেম আলীর সঙ্গে। এরপরই রটে যায় মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় রাতে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

এর পরই একে একে কারাগারে প্রবেশ করেন কারা মহাপরিদর্শক, কারা উপমহাপরিদর্শক, ইমাম, জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাহী হাকিম ও সিভিল সার্জন। এ ছাড়া তিনটি অ্যাম্বুলেন্সও কারাগারে প্রবেশ করে। কারাগার এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা রায় কার্যকর হতে যাচ্ছে এমন খবর পেয়ে সেখানে জড়ো হতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধাসহ আশপাশের উৎসুক জনতা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসুক মানুষের ভিড়ও সেখানে বাড়তে থাকে।

এর পরই গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে খবর আসে মীর কাসেম আলীর রায় কার্যকরের।

গত মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) মীর কাসেম আলীর রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তাঁর পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। এর মধ্যে দিয়েই শেষ হয়ে যায় আইনি লড়াই।

ওই দিন রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মীর কাসেম আলীর রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায়ের কপি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ পৌঁছানো হয়। রাত অনেক বেশি হওয়ায় তখন মীর কাসেম আলীকে তা পড়ে শোনানো হয়নি। পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রায় পড়ে শোনানো হয়। তারপর নিয়ম অনুযায়ী প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন জানানোর জন্য বলা হলেও তাতে সায় দেননি এই আলবদর নেমীর কাসেম ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেপ্তারের পর থেকে কাশিমপুর কারাগারেই ছিলেন। ২০১৪ সালের আগে তিনি এ কারাগারে হাজতবাসকালে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় ছিলেন।

পরে ২০১৪ সালের নভেম্বরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হলে তাঁকে ফাঁসির সেলে পাঠানো হয়। তবে এর আগে ওই বছরই ২০ জুন তাঁকে কাশিমপুরের কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে ২৬ জুলাই আবার তাঁকে কাশিমপুর কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলে নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মীর কাসেমকে। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর যুদ্ধাপরাধের বিচার।তা।হয়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View