Mountain View

স্মৃতির পাতায় এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশ দলটি

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৬ at ৭:১৫ অপরাহ্ণ

ফরহাদ মিয়া রোমান :- স্মৃতির পাতায় ১৯৮০ সালের এশিয়ান কাপ। ১৯৮০ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করেছিলো। ১৯৮০ সালের এশিয়ান কাপে এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করেছিলো ১০ টি দল। ১০ দলের মধ্যে বাংলাদেশ ১০ম অধিকার করলেও সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিল। 14194429_327446980936983_742645075_n

এটাই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সাফল্য। ১৯৮০ সালের এশিয়ান কাপে স্বাগতিক কুয়েত ও তৎকালিন চ্যাম্পিয়ন ইরান সরাসরি মূলপর্বে খেলেছিলো। বাকি ৮ টি দল বাছাই পর খেলে কোয়ালিফাই করেছি ছিল। কোয়ালিফাইং দল গুলো হল, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, সিরিয়া, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিন কোরিয়া, চিন, আরব আমিরাত, কাতার। ১৯৮০ সালের এশিয়ান কাপের গ্রুপ ২ এর বাছাই পর্বের ম্যাচ গুলো ম্যাচ হয়েছিল ঢাকায়। গ্রুপ ২ তে দল ছিল বাংলাদেশ, কাতার, আফগানিস্তান। কাতার ও বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

বাছাই পর্বের ম্যাচ গুলো হয়েছিল লীগ পদ্ধতিতে। প্রথম ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। ২য় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ও ২-২ ড্র হয়। ৩য় ম্যাচে হারলেও হারলেও আফগানিস্তানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এশিয়ান কাপের মূলপর্বে বাংলাদেশ “এ” গ্রুপে ছিল। গ্রপ “এ” অনান্য দল গুলো হল ইরান, উত্তর কোরিয়া, চিন, সিরিয়া। বাংলাদেশ দলের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন:— গোলরক্ষক :- ছেন্টু, পিন্টু।

অনান্য খেলোয়ার : সেলিম (অধিনায়ক) রাকিব(সহ-অধিনায়ক), আবুল, আবু ইউসুফ, আমিনুর, মুকুল, কাওসার আলি, অসিশ ভদ্র, মহশিন, বাবুল, কাজী আমিনুর, হাসানুজ্জামান বাবুল, শেখ আসলাম, কাজী সালাউদ্দিন, সালাম মুর্শিদী, আশরাফুদ্দিন চুন্নু। প্রথম ম্যাচ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছিলো। অতিরিক্ত সময়ে গোল খেয়ে হেরে ছিল। কুয়েতের সাবাহ আল-সালেহ স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত খেলেছিলো নবাগত ছিলো বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমন করেছিলো বাংলাদেশ। কিন্ত প্রথমার্ধের শেষ দিকে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

৪৪ ও ৪৫ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার চই জাই-পিল টানা দুটি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ২-০ গোলো পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে চুন্নু সালাউদ্দিনরা। ৬৪ মিনিটে আশরাফুদ্দিন পেনাল্টি থেকে করে ২-১ ব্যবধান কমান। খেলার শেষ মুহূর্তে ৮৮ মিনিটে কাজী সালাউদ্দিন দুর্দান্ত গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরায়। কিন্ত ৯০ মিনিটে কিম জন-ম্যান গোল করে দলকে জয়ে উত্তর ম্যাচে জয় পায়। ২য় ম্যাচে সিরিয়ার বিরুদ্ধে জয় পায় ভালো খেলেও জয় পায় নি বাংলাদেশ। খেলার শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

৭ মিনিটে সিরিয়ার ফরোয়ার্ড কেশেকের করা একমাত্র গোলেই জয় পায় সিরিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ ভালো খেললেও শেষ দুটি ম্যাচে ভরাডুবি হয় বাংলাদেশ। তৎকালিন চ্যাম্পিয়ন ইরানের কাছে ৭-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রিপাবলিক অব চায়নার কাছে ৬-০ গোল হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। আশির দশকে যে সকল দলকে বাংলাদেশ ভুরি ভুরি গোল দিত সেসকল দলের কাছে এখন পাত্তাই পায় না।

১৯৮০ সালে আফগানিস্তানকে ৪-০ গোল হারিয়ে এশিয়ান কাপের টিকেট নিশ্চিত করেছিলে। গত সাাউথ এশিয়ান (সাফ) গেমসে সেই আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশ ৪ গোল খায়। ১৯৮৫ সাফ গেমসে মালদ্বীপকে ৮ গোল দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই মালদ্বীপ ৩১ আগস্ট বাংলাদেশকে ৫-০ ব্যবধানে হারায়। যেই ভুটান কখনও বাংলাদেশের সামনে কখনও দাড়াতে পারে নি, সেই ভুটান আজ চোখ রাঙায়। গত মাসে এএফসি কাপের প্লে অফে বাংলাদেশের শেখ রাসেল ৪-৩ ব্যবধানে ভুনানের ক্লাবের কাছে হারে। প্রথমার্ধে ভুটানের ক্লাবটি ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল। ফুটবল প্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন, কেন হারিয়ে গেল বাংলাদেশের ফুটবল? এজন্য কি ১৯৭২ সালে গঠিত হওয়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) একাই দায়ি নাকি খেলোয়ারদের ও দায় আছে। দায় আছে সবারই। বাফুফের কোন কর্মপরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না। তারা শুধু কোচ নিয়োগের নাটকের কাহিনী নিয়ে ব্যস্ত। ফুটবলারদের মধ্যে নেই কোন দায়বদ্ধতা। ম্যাচের আগেও পরে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে দেখা যায়।

তাদের খেলার চাইতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনযোগ বেশি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি ১৯৮০ সালে মাঠ কাপিয়ে বেড়ানো কাজী সালাউদ্দিন। কাজী সালাউদ্দিন ঘোষনা দিয়েছিলেন “ভিশন ২২”। যার মানে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিয়ে যাবেন। কিন্ত বাফুফের কর্মকর্তারা বলতেছেন যেভাবে হোক বর্তমান দুর্দান্ত খেলতে থাকা অ-১৬ দল মহিলা দলকে তারা বিশ্বকাপে দেখতে চান। ইরানের শক্তিশালী দলকে ছোটরা দিয়েছে ৩ টি গোল।

কিরগিজস্তানকে দিয়েছে গুনে গুনে ১০টি গোল। তবে একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এরপর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কি কর্মপরিকল্পনা করে সেটাই এখন দেখার বিষয়! সকলের আশা, আশির দশকের মতো আবারও জেগে উঠবে বাংলাদেশের ফুটবল।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View