ঢাকা : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ২:০৮ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

আলবদর বাহিনী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর

একাত্তরের ভয়ঙ্কর আলবদর বাহিনীর নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এ চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘বাঙালি খান’ হিসেবে পরিচিত এই আলবদর কমান্ডারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এটি ফাঁসি কার্যকরের ষষ্ঠ ঘটনা। অভিজ্ঞ জল্লাদ শাহজাহান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে পাঁচ জল্লাদ যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করেন।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।
পুলিশ ও কারাগার সূত্র জানিয়েছে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী কুখ্যাত মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্বাহী আদেশ বিকেলে পৌঁছায় কাশিমপুর কারাগারে। এই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করতে শনিবার সন্ধ্যা সাতটার পর পর কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন ওই কারাগারের প্রবেশ করেন। এরপর রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ কারাগারে প্রবেশ করেন। রাত সাড়ে নয়টায় কারাগারে প্রবেশ করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এসএম আলম। এর আগে রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স লাশ নিতে কারাগারে ঢোকে। শনিবার দুপুরেই ওই কারাগারে প্রবেশ করে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরে সেখানকার কারা কর্মকর্তাদের সার্বিক নির্দেশনা দেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল ইকবাল কবির।
ওই সূত্র জানায়, তারা কাশিমপুর কারাগারে ঢোকার আগেই মীর কাসেমকে রাত পৌনে ৮টার দিকে কনডেম সেলে রাতের খাবার দেয়া হয়। খাবার শেষে সাড়ে ৮টার দিকে গোসল করানো হয় তাকে। এরপর নামাজ আদায় করেন মীর কাসেম আলী। পরে কারা মসজিদের ইমাম হেলাল উদ্দিন মীর কাসেমকে তওবা পড়ান সাড়ে ৯টার দিকে। এরপর ফাঁসির মঞ্চের চারপাশে অবস্থান নেন ৮ জন সশস্ত্র কারারক্ষী। রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহজাহান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে পাঁচজন জল্লাদ যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমকে ৪০ নম্বর কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে আসেন। আনার পথেই তাকে যমটুপি পরিয়ে দেন জল্লাদরা। মঞ্চে তোলার পর মীর কাসেমের গলায় ফাঁসির দড়ি পরানো হয়।
কারা সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেটের সংকেত পেয়ে জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক তার হাতে থাকা রুমাল মাটিতে ফেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞ জল্লাদ শাহজাহান ভুঁইয়া ফাঁসির মঞ্চের লিভার টেনে ফাঁসি কার্যকর করেন। তাকে সহায়তা করেন দীন ইসলাম, শাহীন ও কামালসহ চার জল্লাদ। টানা ১৫ মিনিট ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে থাকেন কুখ্যাত আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এই ঘাতকের মৃত্যু নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান।
এর আগে শুক্রবার থেকেই কাশিমপুর কারাগার-২ এর নিরাপত্তা জোরদার করা করা হয়। শনিবার দুপুরের পর থেকে কারাগারের সামনে চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে পুরো কারাগার এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ধ্যার পর থেকে কাশিমপুরসহ গোটা গাজীপুরে টহল দেয় বিজিবি সদস্যরা। রাত ৮টার পর থেকে একে একে কারাগারের চারপাশের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়। সড়কের দুই ধারের বাতিগুলো ছাড়া আশপাশের ভবনগুলোর বাতিও নিভিয়ে দেয়া হয়।
কাশিমপুর কারাগারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে ফাঁসির মঞ্চ রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-এর মঞ্চে একসঙ্গে দু’জনের ফাঁসি কার্যকর করার ব্যবস্থা আছে। ওই ফাঁসির মঞ্চটি নতুন করে রং করা ছাড়াও ধোয়ামোছার পর সন্ধ্যায় উপরে শামিয়ানা টাঙানো হয়। রাত সোয়া ৯টার দিকে হ্যালোজেন জ্বালিয়ে ফাঁসির মঞ্চে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও করা হয়। সূত্র মতে, শুক্রবার বিকেলে একদফা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মীর কাসেম আলীর শরীরের ওজন ও উচ্চতা মেপে সে অনুযায়ী বস্তায় দড়ি লাগিয়ে জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া, দীন ইসলাম, শাহীন ও কামালসহ পাঁচজন মহড়ায় অংশ নেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

শিশুদের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ নয়

শিশুদের জন্য শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন করতে …

Mountain View