Mountain View

রেজাউলকে নিশংসভাবে হত্যা করায় দ্রুতগতিতে ঘাতকদের শাস্তি দাবি

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৬ at ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ

 
নূরনবী রহমান (মহাস্থান গড়) বগুড়া প্রতিনিধ: বগুড়া সদরের বামুনপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের রেজাউল করিম (৩২) এর পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত, ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি। জানাগেছে, বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামের মৃত হাফিজার রহমানের পুত্র রেজাউল করিম জেলার আদমদীঘি উপজেলায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুপার ভাইজার হিসাবে চাকুরী করতো। সেই সুবাদে তারই অফিসের সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বর্তমান নন্দীগ্রামে চাকুরীরত) জিল্লুর রহমানকে একজনের চাকুরী বাবদ ১৮ লক্ষ টাকা চুক্তিতে ৬ লক্ষ টাকা প্রদান করে। চাকুরী দিতে না পারায় জিল্লুর রহমান (গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলায় ) রেজাউলকে টাকা ফেরত নেয়ার জন্য নন্দীগ্রামে ডেকে পাঠায় (০১-০৯-১৬ ইং তারিখে)। টাকা না দিয়ে জিল্লুর রহমান তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে রেজাউলকে প্রথমে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরে কেউ যাতে না চিনতে পারে সেজন্য পেট্রল ঢেলে দিয়ে রেজাউলের দেহ নির্মমভাবে পুরিয়ে ফেলে। একই এলাকার কদমপুরী নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে রেজাউলের ভাই জহুরুল ইসলাম জিল্øুরকে ফোন করে বলে আমার ভাই কোথায়? সে জানায়, আপনার ভাই টাকা নিয়ে চলে গেছে। রাত ১০ টায় রেজাউলের খবর না পাওয়ায় তার পরিবারের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জিল্লুর রহমান তার নিজস্ব মুঠোফোন বন্ধ করে পরিবার নিয়ে পালিয়ে যায়। রেজাউলের দেড় বছরে বিবহিত জীবনে দুই-তিন মাসের ফুটফুটে কন্যা সন্তান রয়েছে। সে কি কোনদিন বাবাকে ডাকতে পারবে? তার মা কি ছেলেকে খুজে পাবে? ভাই কি ভাইকে ফিরে পাবে? কে ভেবেছিল অকালে বিধবা হতে হবে তার স্ত্রীকে? ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া রেজাউলের পরিবারের দাবি কবে রেজাউলের ঘাতক জিল্লুর ধরা পড়বে? তারা হয়তো তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পাবে না, কিন্তু ঘাতকের কঠিন শাস্তি ফাসি দেখে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে চায়। এ ব্যাপারে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার থানায় রেজাউল হত্যা মামলা নং-০২। সে মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুল আসামী পলাতক রয়েছে। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারবো। এদিকে বাকী আসামিরা ধরা না পরায় দিনদিন রেজাউলের পরিবারে আহাজারি বেড়েই চলেছে। কে মুছে দিবে তার মায়ের মুখের পানি? কে থামাবে তার স্ত্রীর আর্তনাদ? কে বোঝাবে নিষ্পাপ শিশুর নির্বিকার চোখের চাহনি?

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View