Mountain View

ইতিহাস গড়া মেয়েদের মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে “লোকাল বাসে” পাঠিয়েছে বাফুফে

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৬ at ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

fb_img_1473307897038

যে মেয়েরা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে নাম লিখিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে রচনা করেছে নতুন ইতিহাস, তারাই কি-না মাত্র পাঁচ হাজার টাকা হাতে নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে। প্রায় তিন মাসের হাড়ভাঙা খাটুনির পর মেয়েদের এই সাফল্যের মূল্য টাকার অঙ্কে এতটাই ঠুনকো! ভাবা যায়! অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিকাংশ মেয়েই এসেছে গরিব পরিবার থেকে, যাদেরনুন আনতে পান্তা ফুরোয়। টিভিতে মেয়েদের বড় সাফল্যদেখার পর মা-বাবা হয়তো ভেবে বসেছিলেন, মেয়ের সৌজন্যে হলেও আসন্ন ঈদটা ভালোই কাটবে তাদের। অন্তত সেমাই-চিনির সঙ্গে জুটবে নতুন জামা-কাপড়ও। কিন্তু পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কীভাবে ঘোচাবে এই আকাঙ্ক্ষা? এত বড় কীর্তির পরও ভাগ্যের শিকেটা খুলল না মেয়েদের।কিন্তু এসব নিয়ে সহজে মুখ খুলতে চাইল না মেয়েরা। সাংবাদিক পরিচয় শুনেই কথা বলা যাবে না বলে কয়েকজনফুটবলার ফোন কেটে দিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফুটবলার বলে, ‘ক্যাম্পে থাকাকালীন আমাদের হাতে কোনো টাকাই দেওয়া হয় না। খেলায় ভালো করেছি বলে মনে করেছিলাম, এবার একসঙ্গে অনেক টাকা পাব। কিন্তুযাওয়া-আসার ভাড়া ছাড়া দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।’ যাওয়া-আসার ভাড়া বাবদ দেওয়া হয়েছে দুই হাজার টাকা।ইরান, চায়নিজ তাইপের মতো বড় দলগুলোকে পেছনে ফেলে এএফসি কাপের মূল পর্বে নাম লিখিয়েছে কৃষ্ণা, সানজিদারা। ফুটবলের এই অন্ধকারের সময়ে তাদের ফুটবল জাদুতে বুঁদ হয়ে আছে পুরো দেশ। অথচ তাদের জন্য এর বেশি কিছু কি করা গেল না? তবে তাদের জন্যশুভ সংবাদ হলো, ঈদের পর সংবর্ধনা দিয়ে ভালো অঙ্কেরটাকা মেয়েদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেশন।অর্থকড়ি ছাড়াও মেয়েরা নানা প্রতিকূলতা সঙ্গী করে লোকাল বাসে বাসায় ফিরেছে। ময়মনসিংহ জেলার কলসিন্দুর গ্রামের মেয়েদের বাড়ি ফেরার দুর্বিষহ চিত্র ফুটে উঠেছে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে। যেখানে দেখা যায়, ছোট ছোট মেয়েরা কোনো অভিভাবক ছাড়াই বাড়িতে ফিরছে। সানজিদা, তহুরাদের বাসে অনেক টিপ্পনীও সহ্য করতে হয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এসি বাসে সমস্যাহয় বলে মেয়েরা নিজেরাই এভাবে বাড়ি ফিরতে চেয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের আর এভাবে পাঠানো হবে না।’

এ সম্পর্কিত আরও