Mountain View

পাকিস্তান পার্লামেন্টে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকরের নিন্দা প্রস্তাব

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৬ at ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে এক প্রস্তাব পাস হয়েছে। বুধবার সর্বসম্মতিক্রমে এ নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়। রেডিও পাকিস্তানের বুলেটিনে এ খবর জানা গেছে।

 

বুলেটিনে বলা হয়, জাতীয় পরিষদের নিন্দা প্রস্তাবে বলা হয়, জামায়াত নেতাদের ফাঁসি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিক্ষীয় চুক্তির পরিপন্থী।

 

প্রস্তাবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপকে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সব ফোরামে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে এর আগেও জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল। গত শনিবার মীর কাসেম আলীর ফাঁসির পর রবিবার শোক প্রকাশ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দেয়। এরপর ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সামিনা মেহতাবকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

 

শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে কাশিমপুর কারাগারে মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ২০ মিনিট তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর মধ্য দিয়ে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ষষ্ঠ অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করা হলো। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম ১৯৮৫ সাল থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ অর্থাৎ মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

 

মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদসহ আটজনকে হত্যার দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তখনকার আলবদর কমান্ডার মীর কাসেমকে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View