রাবি শিক্ষিকার কক্ষ থেকে ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ at ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

full_1678226900_1473445303

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির মরদেহ উদ্ধারের পর শিক্ষকদের আবাসিক ভবনে তার কক্ষ থেকে ‘সুইসাইড নোট’ ও কীটনাশকের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওই নোটে বলা হয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক ও মানসিক চাপের জন্য আত্মহত্যা করলাম।’

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ওই শিক্ষিকার কক্ষ থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, ‘ঘরের বিছানায় মশারির ভেতরে আকতার জাহানের মরদেহ পড়ে ছিল। সেখান থেকে একটি কীটনাশকের বোতল ও সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে।’

নোটটি তার হাতের লেখা কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

‘সুইসাইড নোটে’ আরও বলা হয়েছে, ‘সোয়াদকে যেন তার বাবা কোনভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে সে যে কোন সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে। আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেয়ার অনুরোধ করছি।’

এর আগে বিকেলে শিক্ষকদের আবাসিক ভবন জুবেরীর ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে অধ্যাপক জলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাতিল সিরাজ শুভ সমকালকে জানান, বৃহস্পতিবার থেকে আকতার জাহানকে ফোনে পাচ্ছিলেন না তার ছেলে সোয়াদ। বিষয়টি সোয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপুকে জানান। গোলাম সাত্তার এরপর বিষয়টি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে জানান। বিকেলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান ও পুলিশ নিয়ে জলির কক্ষের সামনে যান। কয়েকবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করেন তারা।

তিনি আরও জানান, কক্ষে ঢুকে দেখা যায়, জলি মশারি টানানো অবস্থায় অচেতন হয়ে আছেন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘আকতার জাহানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বেশ আগেই উনি মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।’

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক মশিহুর রহমান বলেন, ‘কক্ষের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তার (জলি) মুখের চারপাশে এক ধরনের পদার্থ দেখতে পাই।’

আকতার জাহান জলি ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার মৃত ফোরকান আলী মিয়ার কন্যা ছিলেন। বিভাগের সূত্র জানায়, জলি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বিভাগের শিক্ষক তানভীর আহমেদকে। কিন্তু বনিবনা না হওয়ার কয়েক বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত ছিল।

তবে এ ব্যাপারে তানভীর আহমেদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আকতার জাহান ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। বেশ কিছু ডিপ্রেশন ছিল। আর সম্প্রতি তার ছেলেকেও তিনি রাজশাহী থেকে ঢাকাতে ভর্তি করিয়েছিলেন। সেটার কারণেও মনে এক ধরনের কষ্ট কাজ করত। তবে তিনি এসব কষ্ট খুব কমই শেয়ার করতেন।’

অধ্যাপক জলির আরেক সহকর্মী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘তার ফোন বর্তমানে বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাতিল সিরাজ শুভর কাছে রয়েছে। তার ফোনটি দেখা উচিত। শেষ কল কে করেছে? কোনো গালাগালি দেয়া এসএমএস আছে কি-না তা তদন্ত করে দেখা উচিত। তার মৃত্যুটি রহস্যজনক।’

মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আকতার জাহান জীবিত আছে ভেবে আমরা হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। জীবিত আছে ভেবে তার ফোন জব্দ করিনি। এখন করা হবে। লাশ মর্গে আছে। ময়নাতদন্তের আগে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না।’

এ সম্পর্কিত আরও