Mountain View

হালুয়াঘাটের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা- ৩য় পর্ব (জুগলী ইউনিয়ন)

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ at ১০:১২ অপরাহ্ণ

মাজহারুল ইসলাম মিশুঃ হালুয়াঘাটের রাস্তাঘাটের বেহালদশা নিয়ে গত দুই পর্বে লিখেছিলাম ধারা ইউনিয়ন ও ধুরাইল ইউনিয়ন নিয়ে। আজ এসেছি হালুয়াঘাট উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম গারো পাহাড়ের কোল ঘেষা ২ নং জুগলী ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের সমস্যা নিয়ে। ২ নং জুগলী ইউনিয়ন উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। বৃটিশ শাসনামলের পূর্বে “জুগলী পঞ্চায়েত” হিসেবে প্রথম এই ইউনিয়নটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বৃটিশ শাসনামলে বঙ্গীয় পলী স্বায়ত্বশাসন আইন, ১৯১৯ এর অধীন পঞ্চায়েত নাম পরিবর্তন করে ‘ইউনিয়ন বোর্ড’ গঠিত হয়। তৎপরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তান আমলে মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ, ১৯৫৯ এর অধীন ইউনিয়ন কাউন্সিল গঠিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ ইং সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৭ জারির মাধ্যমে নামকরণ করা হয় ইউনিয়ন পঞ্চায়েত। ১৯৭৩ ইং সালের ২২মার্চ রাষ্ট্রপতির ২২নং আদেশের মাধ্যমে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত পরিবর্তন করে এর নাম দেয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদ। ইতিহাস ঐতিহ্যে ঘেরা এই ইউনিয়নের মোট আয়তন ১৯.৩৪ বর্গ কিলোমিটার। ১৩ টি মৌজা ও ১৮ টি গ্রাম নিয়ে এই ইউনিয়ন গঠিত। মোট জনসংখ্যা ২২৪০৬ জন। রাস্তাঘাটের দিক থেকে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই ইউনিয়নটি অনেকটাই অবহেলিত বলা চলে। এই ইউনিয়নের বেশীর ভাগ রাস্তাতে এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্ষার মৌসুমে এই এলাকার কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই ইউনিয়নের রাস্তাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাগুলো হলো জামগড়া থেকে পশ্চিম ঘিলাভূই। জয়রামকুড়া থেকে পলাশতলা। ছাতুগাঁও থেকে জয়মঙ্গল। খলিশাকুড়ি থেকে কালা পাগলা। জাদুগড়া থেকে খলিশাকুড়ি। সংড়া বাজার থেকে সেলিম মেম্বারের বাড়ি। এছাড়াও ছোট বড় অনেক রাস্তাতে এখনো ইটের শুরকিও পড়েনি। মাঝে মাঝে পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন এইসব রাস্তায় মাটি কাটিয়ে থাকেন। এতে দু’একদিন চললেও আবারো একই অবস্থা বিরাজমান। সমস্যাগুলো একদিনে যেমন তৈরী হয়নি, তেমনি একদিনে সমাধান করাও সম্ভব নয়। একটি এলাকার উন্নয়নের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যদি যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হয় তাহলে ঐ এলাকার উন্নয়ন কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার যদি এই রাস্তাঘাটের দিকে নজর দেয় তাহলে হয়তো এলাকার সাধারন জনগনের পাশাপাশি সরকারও লাভবান হবে। এই অবহেলিত জুগলী ইউনিয়নের উন্নয়নে এবার দেখা যাক হালুয়াঘাট-ধোবাড়উা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মিস্টার জুয়েল আরেং এমপি এবং নব নির্বাচিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান কি ব্যবস্থা গ্রহন করেন। চলবে………………………….

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View