ঢাকা : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭, সোমবার, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

রাত পোহালেই ঈদ

আগামীকাল মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল আজহা। সারা বিশ্বের মুসলমানদের সঙ্গে বাংলাদেশেও সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, যথাযোগ্য মর্যাদা, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। ঈদের দিন দেশের সব মুসলমান বিনম্র হৃদয়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন এবং নামাজ শেষে মহান রবের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেবেন।

আল্লাহর রাহে নিজের জান-মাল ও প্রিয়তম জিনিস সন্তুষ্টচিত্তে বিলিয়ে দেয়ার এক সুমহান শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর ঈদুল আজহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী কোরবানি করা ওয়াজিব। আল কোরানের সূরা কাউসারে বলা হয়েছে, ‘অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর। সূরা হজে বলা হয়েছে, কোরবানি করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।
কোরবানির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। সৃষ্টির প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) এর দু’পুত্র হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কোরবানি করেন। এ প্রসঙ্গে সূরা মায়েদায় ২৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, ‘আপনি তাদেরকে আদমের দু’পুত্রের বাস্তব অবস্থা পড়ে শোনান। যখন তারা উভয়েই কিছু কোরবানি করেছিল তখন তাদের একজনের কোরবানি কবুল হয়েছিল এবং অপরজনেরটি হয়নি।
কোরবানি মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাহ। আল্লাহ তার কুদরতি পরিকল্পনায় ইব্রাহিমকে (আ.) তার শেষ বয়সে প্রিয়তম পুত্র ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার নির্দেশ দেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ৮৫ বছর বয়সে হজরত ইসমাইলকে (আ.) পান। এ অবস্থায় ছেলেকে কোরবানি দেয়া এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি তার মহান রবের হুকুমে নত হলেন। নিষ্পাপ পুত্র ইসমাইলও (আ.) নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। এক পর্যায়ে পিতা তার পুত্রকে জবাই করতে যখন উদ্যত ঠিক তখনই মহান আল্লাহর কাছে ইমানের কঠিন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন। চোখ বাঁধা অবস্থায় তিনি জবাই করেন। চোখ খুলে দেখেন তার প্রিয় পুত্র অক্ষত রয়েছে আর কোরবানি হয়েছে একটি চতুষ্পদী দুম্বা।
আল কোরানে এই মহিমান্বিত ত্যাগের ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহিম (আ.) তাকে বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে বলল, হে পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহিম (আ.) তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহিম তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সৎকর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে জবাই করার জন্য দিলাম এক মহান জন্তু।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর অনুপম ত্যাগের অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব মুসলমানরা কোরবানি করে আসছেন। তারই নিদর্শন স্বরূপ প্রতি বছর হজ পালনকারীরা কোরবানি দিয়ে থাকেন।
শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, কোরবানির পূর্বশর্ত আল্লাহ ভীতি ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাক্সক্ষা। হাদিস শরিফে আছে, মানুষের আমলের প্রতিফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। সূরা হজে বলা হয়েছে, এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে (মুসনাদে আহমদ)।
জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো একদিন কোরবানি করা যায়। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এ শ্রেণীর প্রাণী দ্বারা কোরবানি করা যায়। কোরবানিকৃত পশুর ৩ ভাগের ১ ভাগ গরিব-মিসকিন, একভাগ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়।
এদিকে ৯ জিলহজ ফজর নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তালবিয়া পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হলোÑ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু অল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ঈদুল আজহার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ,  বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও বিশ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা। তাওহীদের চেতনায় সর্বোচ্চ ত্যাগের দৃষ্টান্ত ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর অভিপ্রায় বাস্তবায়নে হযরত ইব্রাহীম (আ.) যে গভীর আনুগত্য ও সীমাহীন ভক্তি প্রদর্শন করেছেন তা বিশ্বে অতুলনীয়। ঈদুল আজহার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনুসরণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, প্রিয়বস্তুকে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি লাভের যে অনুপম দৃষ্টান্ত হজরত ইব্রাহীম (আ.) স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর জন্য চিরকালই অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সামর্থ্যবান মুসলমানরা কোরবানিকৃত পশুর গোশত আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে সবার মধ্যে সমতা প্রতিবিধান এবং সহমর্মিতা অনুশীলন করে থাকেন।
ঈদ উপলক্ষে সরকারিভাবে সচিবালয়সহ বড় বড় সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নতমানের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

কম খরচে আপনার বিজ্ঞাপণ দিন। প্রতিদিন ১ লাখ ভিজিটর। মাত্র ২০০০* টাকা থেকে শুরু। কল 016873284356

Check Also

চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে …