ঢাকা : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

রোজার ঈদের মতো এবারো বন্দরে জাহাজ–কনটেইনারের তীব্র জট

3685234204d4462a4bd19cdbec587d47-1

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় সোয়া সাত লাখ বর্গমিটার এলাকায় এখন কনটেইনার রাখার আর জায়গা নেই। জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানো হলেও ছুটিতে বন্দর চত্বর থেকে সেই হারে কনটেইনার থেকে পণ্য খালাস হয়নি। তাই বন্দর চত্বরে এখন প্রতি ঘণ্টায় কনটেইনারের স্তূপ বাড়ছে। আবার জেটিতে ভেড়ানোর জন্য বন্দরের বহির্নোঙরে বাড়ছে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা। সব মিলিয়ে এখন বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে।

গত রোজার ঈদের মতো এবারও ঈদুল আজহার ছুটিতে বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জটে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। আজ শুক্রবার ও কাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পণ্য খালাস বাড়বে না। ফলে জট আরও বাড়বে বলে জানান বন্দর কর্মকর্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার আমদানিকারকেরা মাত্র ৩৬টি কনটেইনারের পণ্য খালাসের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছেন।

এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে বন্দর চত্বর থেকে কনটেইনার খালাস হয়েছে ১ হাজার ৭০৫ একক কনটেইনার। স্বাভাবিক সময়ে দিনে গড়ে খালাস হয় ৩ হাজার একক কনটেইনারের বেশি।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, এই জটের কারণে ব্যবসায়ীদের বাড়তি মাশুল গুনতে হবে। কারণ জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর চার দিন পর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কনটেইনার মালিকপক্ষকে প্রতিদিন মাশুল দিতে হয় আমদানিকারকদের। আবার জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর জন্যও সাগরে অপেক্ষার কারণে পরিচালন ব্যয় গুনতে হবে জাহাজমালিকদের।

এখন ব্যবসায়ীদের বাড়তি মাশুল গুনতে হবে। আবার জাহাজমালিকদেরও পরিচালন ব্যয় বাড়বে

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ঈদের তিন দিন আগে ও তিন দিন পরে মহাসড়কে আমদানি পণ্যবাহী যান চলাচলের ওপর সড়ক পরিবহন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমদানিকারকেরা পণ্য খালাস নিতে পারেননি।

এই নিষেধাজ্ঞার সময় না কমানো হলে প্রতিবার ছুটির সময় ব্যবসায়ীদের বড় মাশুল গুনতে হবে। বন্দরেও অচলাবস্থা তৈরি হবে।

গতকাল বন্দর চত্বর ঘুরে দেখা যায়, বন্দরে কনটেইনার রাখার ২০টি চত্বরে (ইয়ার্ড) কনটেইনারের স্তূপ হয়ে আছে। কনটেইনার খুলে পণ্য খালাস নেওয়ার জন্য যেসব ফাঁকা জায়গা ছিল, সেসব স্থানেও এখন কনটেইনার রাখা হচ্ছে। ফলে বিকল্প স্থানে কনটেইনার রাখার জায়গাও কমে আসছে। কনটেইনার রাখার জায়গা কমে আসায় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে রাখার সুযোগও কমে আসছে। ছুটির আগে স্বাভাবিক সময়ে জাহাজ থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ কনটেইনার নামানো হলেও এখন নামানো হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ একক কনটেইনার।

বন্দরের হিসাবে দেখা যায়, বন্দরে আমদানি পণ্যভর্তি ২৫ হাজার ৯৮১ একক কনটেইনার রাখার জায়গা আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই জায়গায় ছিল ৩১ হাজার ৮৯৫ একক কনটেইনার। অর্থাৎ, ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৫ হাজার একক কনটেইনার বেশি পড়ে ছিল।

বন্দর পর্ষদ সদস্য জাফর আলম গতকাল বলেন, ঈদের দিন ছাড়া বন্দরের কার্যক্রম সব সময় সচল রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকেরা বন্দর চত্বর থেকে সেই হারে কনটেইনার খালাস নেননি। বেসরকারি ডিপোগুলোও নির্ধারিত ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে নেয়নি। তিনি জানান, ছুটির সময় পণ্য খালাসের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, কনটেইনারের মতো বন্দর জেটিতে ভেড়ানোর জন্য অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে। বন্দরে কনটেইনারবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ১২টি জেটি রয়েছে। জেটি খালি না থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ছিল কনটেইনারবাহী ১৪টি জাহাজ।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

model-sharika

সালমার পর এবার ঘর ভাঙলো নায়িকা সারিকার

কয়েকদিন আগে সংসার ভাঙ্গে কন্ঠশিল্পী সালমার। এর পরে বেশ কিছুদিন ধরে কানাঘুষা চলছিল জনপ্রিয় মডেল …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *