Mountain View

‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহের আজ জন্মদিন

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬ at ১২:২৪ অপরাহ্ণ

বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাণের নাম সালমান শাহ। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে, ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ, নিজের প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন সিলেটের এই কৃতি সন্তান। এর মাত্র সাড়ে তিন বছর পর ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি যখন মারা যান, তখন বাংলা চলচ্চিত্র জগতে সালমান শাহ এক সুপারস্টারের নাম। এত অল্প সময়ে সব শ্রেণির দর্শকের নায়ক বনে যাওয়া বিশ্ব চলচ্চিত্রেই খুব বেশি নেই।

 

এই ক্ষণজন্ম অভিনেতার আজ ৪৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জে জন্ম নেয়া চৌধুরী সালমান শাহরিয়ার ইমন আজ পা রাখলেন ৪৬ বছরে। পরিবার, বন্ধু, স্বজনদের প্রিয় ইমন চলচ্চিত্রে এসে হয়ে যান সালমান শাহ।

 

কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে ইমনের অবশ্য ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে ক্যামেরার সামনে আসা নয়।

 

 

১৯৮৮৬ সালের দিকে বিটিভিতে প্রচারিত হানিফ সংকেতের ‘কথার কথা’ ম্যাগাজিনে মাদক সচেতনতা বিষয়ক একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছিলেন তিনি। ‘নামটি ছিল তার অপূর্ব’ নামের ওই মিউজিক ভিডিওতে ‘অপূর্ব’র ভূমিকায় ইমনের কাজ সে সময় বেশ আলোচিত হয়েছিল।

 

১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে নামার আগে বেশ কযেকটি বিজ্ঞাপনচ্চিত্রে কাজ করেন সালমান। অভিনয় করেন বিটিভিতে প্রচারিত আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘পাথর সময়’ নাটকে।

 

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলচ্চিত্রজীবনের সাড়ে তিন বছরে সালমান শাহ মোট ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন। তবে মৃত্যুর আগে মুক্তি পায় ১৬টি ছবি, যার শেষটি হলো ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ (১২ জুলাই ১৯৯৬)। মৃত্যুর পর ৪ অক্টোবর মুক্তি পায় ‘সত্যর মৃত্যু নেই’। এরপর একে একে আরো আটটি ছবি মুক্তি পায় সালমান শাহর। মৃত্যুর ঠিক এক বছর পর এই বিরলপ্রজ অভিনেতার সর্বশেষ ছবিটি  মুক্তি পায়, নাম ‘বুকের ভেতর আগুন’।

 

পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি উচ্চতার সুদর্শন সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য আজও অনুদ্ঘাটিত রয়ে গেছে। স্ত্রীর সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন খুব সুখের ছিল না। ঢাকাই চলচ্চিত্রের একজন নায়িকাকে নিয়ে সালমানকে সন্দেহ করতেন সামিরা। যেদিন নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বি-১১ নম্বর ফ্ল্যাটে মারা যান তিনি, সেদিন ১১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় সালমানের। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সালমানের লাশ পাওয়া যায় ড্রেসিংরুমের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানো।

 

তখন প্রচলিত সন্দেহ ছিল পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে সালমানকে। প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ছিলেন স্ত্রী সামিরা। চলচ্চিত্র জগতেরও কারো কারো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে আদালতে।।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View